• ই-পেপার

৩৬ দিন সাগরে নিখোঁজ, কাঁচা মাছ খেয়ে প্রাণে বাঁচলেন শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলে

চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ নারী

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ নারী
মোছা. লাইজু। সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে চলন্ত ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন মোছা. লাইজু (৩৯) নামের এক নারী।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরিতে এ ঘটনা ঘটে।

লাইজু ঢাকার কামরাঙ্গিরচর এলাকার মো. ফোরকান মিয়ার স্ত্রী। তার গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর থানায়।

নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন যাবৎ ফোরকান ও লাইজুর মধ্যে কলহ চলছিল। শনিবার বিকেলে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে কামরাঙ্গীচরের বাসা থেকে বের হন লাইজু। পরে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে এসে দৌলতদিয়া ঘাটগামী ‘কুমিল্লা’ নামের একটি ফেরিতে ওঠেন তিনি। ফেরিটি মাঝনদীতে পৌঁছাতেই হঠাৎ ফেরির উপর থেকে ঝাপিয়ে পড়ে পদ্মায় নিখোঁজ হন লাইজু। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঘাট কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিসি ও নৌ পুলিশকে জানানো হয়।

দৌলতদিয়া ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোট নিয়ে মাঝনদীত গিয়ে প্রবল স্রোতের মুখে উদ্ধার তৎপরতা চালায় নৌ পুলিশ। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পদ্মায় নিখোঁজ লাইজু নামের ওই নারীর কোনো সন্ধান মেলেনি।

চুনারুঘাটে ৩০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করল প্রশাসন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
চুনারুঘাটে ৩০০ ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করল প্রশাসন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেওরগাছ এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রায় ৩০০ ঘনফুট অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু জব্দ করেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের খবর পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ৩০০ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী। এসময় চুনারুঘাট থানা-পুলিশের এরটি টিম উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ইউএনও গালিব চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, নদী ও পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত ও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

বিকল না হয়েও সরাসরি লেনে দাঁড়িয়ে ছিল বাস, পরপর দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি
বিকল না হয়েও সরাসরি লেনে দাঁড়িয়ে ছিল বাস, পরপর দুর্ঘটনায় নিহত ৩

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ে সরাসরি লেনে খামখেয়ালিভাবে প্রায় এক ঘণ্টা একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এতে পেছন থেকে একে একে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে একটি প্রাইভেট কার, একটি কাভার্ড ভ্যান, দুইটি মোটরসাইকেল ও আরেকটি বাস। এতে ঘটনাস্থলে ২ জন ও হাসপাতালে আরো ১ জন নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) ওই এলাকার ইসলামপুর মহিলা মাদরাসার সামনে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নালী ইউনিয়নের রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী আশুতোষ সাহার ছেলে সুজয় সাহা ও তার ফুপাতো ভাই সাভারের আশুলিয়া থানার ডেন্ডাবর এলাকার জগন্নাথ সাহার ছেলে আবাস সাহা। আবাস সাহা মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও সুজয় সাহা এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের ইসলামপুরে সরাসরি লেনে একটি যাত্রীবাহী বাস দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। বাসটি দেখে পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার হঠাৎ ব্রেক করলে তার পেছনের একটি কাভার্ড ভ্যান গতি কমিয়ে থেমে যায়। এসময় কাভার্ড ভ্যানের পেছন থেকে দুটি মোটরসাইকেলের পর পেছনে থেকে দ্রুত গতিতে আসা স্বাধীনতা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেল আরোহী সুজয় সাহা ও আবাস সাহা নিহত হন। অন্য মোটরসাইকেল আরোহী সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।

সাধারণত দেখা যায়, বিকল গাড়ির পেছনে কেবল একটি গাছের ডাল ঝুলিয়ে দিয়েই ‘বিকল হওয়ার’ বার্তা দেওয়া হয়ে থাকে। ফলে দ্রুত গতির সড়কে বুঝা যায় না যে, সামনের গাড়িটি বিকল।

পুলিশ ও পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান সড়কগুলোর সরাসরি লেনে থেমে থাকা যানবাহনের পেছন থেকে ধাক্কা খাওয়ার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদ জানান, রাস্তার পাশে থেমে ও সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির পেছনে চলন্ত গাড়ির ধাক্কায় হতাহতের ঘটনা বেড়েই চলছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে। তবে শনিবার যে বাসটির কারণে তিনটি জীবন প্রদীপ নিভে গেল, সেই বাসটি বিকল ছিল না। ফলে পুলিশ বাসটি জব্দ করতে পারেনি। দুর্ঘটনার পরপরই চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যায়।

সরাসরি লেনে দাঁড় করিয়ে রাখা বাসটি উদ্ধার ও চালককে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা।

বাম্পার ফলনেও শ্রমিক সংকটে বিপাকে লালপুরের পাটচাষি

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
বাম্পার ফলনেও শ্রমিক সংকটে বিপাকে লালপুরের পাটচাষি
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের লালপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হলেও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো পাট কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে পর্যাপ্ত পানি থাকায় জাগ দেওয়ার জন্য পরিবেশ অনুকূলে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে পাট কাটার কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। এতে উৎপাদন ও পাটের গুণগত মান, দুই দিক থেকেই বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর লালপুরে পাটের আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমিতে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৫৭০ হেক্টরের তুলনায় ১ হাজার ৯৫ হেক্টর বেশি। পাট উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ ১ হাজার কৃষকের মাঝে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে পাটের ফলনও আশানুরূপ ভালো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমান জমিতে বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজারে ভালো মানের পাট প্রতিমণ ৩ হাজার ৪০০ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা এবং নিম্নমানের পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সে হিসেবে বিঘাপ্রতি পাট বিক্রি থেকে আয় হতে পারে প্রায় ২৭ গাজার ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা।

কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, সময়মতো পাট কাটতে পারলে বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পাট কাটা না গেলে আঁশের মান নষ্ট হয়ে বাজারমূল্য কমে যায়। এতে বিঘাপ্রতি ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল্লাহ ও সুমন বলেন, এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের অভাবে সময়মতো কাটতে পারছি না। মজুরি বাড়িয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

চংধুপইল ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজ আহম্মেদ জানান, পানি ভালো থাকায় জাগ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পাট কাটতে দেরি হলে আঁশের মান খারাপ হয়ে যাবে, তখন দাম কমে যাবে।

দুড়দুড়িয়া এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে এলাকায় অনেক শ্রমিক পাওয়া যেত। এখন অনেকে অন্য পেশায় চলে গেছে বা বাইরে কাজ করছে। ফলে কৃষি কাজে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

দুয়ারীয়া এলাকার কৃষক ইউনুস আলী ফরাজি বলেন, সময়ে পাট কাটতে না পারলে আমাদের বড় ক্ষতি হবে। অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছি, এখন লাভের বদলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে পাট ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমান বলেন, এ বছর পাটের বাজার মোটামুটি ভালো রয়েছে। কিন্তু মান ঠিক রাখতে না পারলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন না। সময়মতো কাটা ও জাগ দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার বলেন, এ বছর পাটের আবাদ ও উৎপাদন সন্তোষজনক। তবে শ্রমিক সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকদের দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে পাট কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সময়ে পাট কাটা ও জাগ দেওয়া সম্ভব হলে কৃষকরা ভালো দাম পাবেন এবং লাভবান হবেন।