• ই-পেপার

৪৮৯ শিক্ষার্থীর মধ্যে মাদরাসায় উপস্থিত ১০৬, এমপির ক্ষোভ

কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা-মারামারি

এনসিপি নেতা আকবরকে সাময়িক অব্যাহতি, সজিবকে শোকজ

ফেনী প্রতিনিধি
এনসিপি নেতা আকবরকে সাময়িক অব্যাহতি, সজিবকে শোকজ
এনসিপির নেতা সুজা উদ্দিন সজিব ও আকবর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনায় ফেনী জেলা আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আকবর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই ঘটনায় জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) পাঠিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ফেনীর সোনাগাজীতে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন স্থানীয় নেতাদের মধ্যে মঞ্চেই হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে, যা প্রকাশ্যে এনসিপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

একাধিক স্থানীয় নেতা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই ঘটনার মূল হোতা ছিলেন আকবর হোসেন। এ ঘটনার পর ১৯ জুলাই এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে আকবর হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা সই করা চিঠিতে জানানো হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না-তা নোটিশ প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির নিকট লিখিতভাবে ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।

চিঠির বিষয়ে জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজা উদ্দিন সজিব কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি ওই কর্মসূচির মূল আয়োজক ছিলাম। সেখানে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ত্রুটি থাকার কারণেই হয়তো কেন্দ্র থেকে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আকবর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমি বিশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। যারা প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি ঘটিয়েছে, তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

 

‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে ৩ দিনেই ৮০ নাগরিক সমস্যার সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে ৩ দিনেই ৮০ নাগরিক সমস্যার সমাধান
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্ম ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালুর মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ৮০টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির ফলে অ্যাপটি নগরবাসীর মধ্যে ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

চসিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত অ্যাপটির ড্যাশবোর্ডে মোট ৫৩৬টি অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৮০টি সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। আরো ৯৪টি অভিযোগ গ্রহণ করে সমাধানের কাজ চলছে। এছাড়া ২৪টি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ২২টি অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং একটি অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির কাজ করছে।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপ চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই নাগরিকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে ৮০টি সমস্যার সমাধান হওয়া প্রমাণ করে, প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ। আমরা চাই নাগরিকদের প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি হোক এবং তারা ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।’

তিনি আরো জানান, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের জন্য অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা এবং মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধাসহ আরো বিভিন্ন সেবা যুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন সমস্যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধানের ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ান-স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

অ্যাপটির মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল, সড়কবাতি ও পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ছবি ও জিপিএস লোকেশনসহ সরাসরি চসিককে জানাতে পারছেন। একই সঙ্গে লাইভ ট্র্যাকিং ও পারফরম্যান্স ম্যাপ সুবিধার মাধ্যমে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা এবং সমাধানের অগ্রগতিও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যা নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে।

চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস, কাজে আসছে না জিও ব্যাগ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীর রক্ষা বাঁধে ধস, কাজে আসছে না জিও ব্যাগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস দেখা দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল এলাকার সড়কটারী অংশে প্রায় ৩০ মিটার ব্লক পিচিং নদীতে ধসে পড়ে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্থানীয়রা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করেন। 

পরে রাতেই এলাকাবাসী বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে পাউবো জিও ব্যাগ ডাম্পিং শুরু ক‌রে। স‌রেজ‌মি‌নে খোঁজ নি‌য়ে জানা গে‌ছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই এলাকার প্রায় ২০০ গজ দূরে ৬০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে যায়। চলতি জুলাই মাসেই ৪ দফা অন্তত ২০০ মিটার ব্লক পিচিং ধসে পড়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও আবাদি জমি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ তীররক্ষা বাঁধ ২০১৮ সাল থেকেই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেড় কিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১০টি স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। বারবার জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। তাদের দাবি, নদীর গতিপথ পরিবর্তনে অন্তত তিনটি বাঁধ নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া ভাঙন রোধ সম্ভব নয়।

স্থানীয় ফরজ উদ্দিন ডেসকা বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। তখন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে ডাকা হয়। আমরা কয়েকটি জিও ব্যাগ ফেলি। পরে সকালে পাউবোর লোকজন এসে কাজ শুরু করেন।’

সড়কটারী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা ফেলানী বেওয়া (৭৫) বলেন, ‘গতকাল বিকেল থেকে হঠাৎ করেই নদীর পানি বা‌ড়ি বাঁধ ধ‌সি যাওয়া শুরু কর‌ছে। নদীভাঙা শুরু হলেই বুকটা কা‌পি ওঠে। এই বয়সে আর ভিটেমাটি হারা‌লে যা‌মো কন‌টে।

ভাঙন মোকাবিলার কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার প্রতিনিধি সর্দার মজিবর রহমান বলেন, চলতি মাসে ৪ দফায় ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ পেলেও প্রবল স্রোতে সেগুলো কার্যকর হচ্ছে না। ভাঙন ঠেকাতে অন্তত এক লাখ জিও ব্যাগ এবং তিনটি টি-বাঁধ প্রয়োজন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘ব্রহ্মপুত্রের পূর্ব তীরে নতুন চর জেগে ওঠায় স্রোত পশ্চিম তীর ঘেঁষে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাঁধে চাপ বেড়ে বারবার ধস হচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৪ হাজার জিও ব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ হাজার ডাম্পিং সম্পন্ন হয়েছে। স্থায়ী সমাধানে নতুন প্রকল্প প্রস্তাব করা হবে। 

‘পারিবারিক কলহে’ গর্ভবতী স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
‘পারিবারিক কলহে’ গর্ভবতী স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী আটক
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ‘পারিবারিক কলহের জেরে’ বুলবুলি খাতুন নামের সাত মাসের গর্ভবতী এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. আব্দুল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের কুঞ্চী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গর্ভবতী স্ত্রী বুলবুলি খাতুনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন আব্দুল্লাহ। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহত বুলবুলি খাতুন ও আব্দুল্লাহ দম্পতির চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

খবর পেয়ে সিংড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্বামী মো. আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’