• ই-পেপার

মহানন্দা নদীতে মামার সঙ্গে গোসলে নেমে নিখোঁজ শিশু

বিজিবির হাতে আটক মিয়ানমারের এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
বিজিবির হাতে আটক মিয়ানমারের এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ

রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় মিয়ানমারের এক সেনাসদস্য ও দুই পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে নাফনদী পেরিয়ে অনুপ্রবেশকালে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটকের পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন–হেউন ডে টে (৩৮), কিয়াও নাইং (৩৫) ও থেইন জও (৩৩)। তাদের মধ্যে হেউন ডে টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্য এবং অপর দুজন দেশটির পুলিশ সদস্য। তাদের বাড়ি মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন ও মংডু এলাকায়।

রাত পৌনে ১২টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তিন মিয়ানমার নাগরিককে থানায় হস্তান্তর করেছে বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে তাদের কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হবে। তাদের মধ্য একজন মিয়ানমারের সেনাসদস্য বাকি দুজন পুলিশ সদস্য।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তিনজনের মৃত্যু

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুস্পৃষ্টে শিশুসহ তিনজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার বারঘোরিয়া-বাদুরতলায় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন ও বারঘোরিয়া ইউপি চেয়ার‌ম্যান হারুনুর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মৃতরা হলেন–বাদুরতলা এলাকার মোহাম্মদ ভিখুর স্ত্রী হাসিনা বেগম, হাসিনা বেগমের ভাতিজি (ভাইয়ের মেয়ে) আশা খাতুন ও তার মেয়ে মিম। 

ওসি ও চেয়ারম্যান জানান, সকালে বাড়িতে একটি লোহার মই বৃষ্টিতে ভিজে বিদ্যুৎতায়িত হয়েছিল। ওই মই দিয়ে ওঠার সময় আশা খাতুন ও তার মেয়ে মিম বিদ্যুস্পৃষ্ট হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে হাসিনা বেগমও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ওসি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত তিন জনের মরদেহ উদ্ধার করছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিশুদের রক্তে সিসার বিষ, সচেতনতায় র‍্যালি

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের রক্তে সিসার বিষ, সচেতনতায় র‍্যালি
সংগৃহীত ছবি

‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ ও সিলেটে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা পিওর আর্থ ও ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইউক্যান যৌথ উদ্যোগে ১৮ জুলাই ময়মনসিংহে এবং ১৯ জুলাই সিলেটে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে’, ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ এবং ‘শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি’ ইত্যাদি সিসা দূষণবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন তারা। 

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ সিসা দূষণের উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত রেফারেন্স মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটারের বেশি। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৬৫ শতাংশ শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। সিলেটে এই হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প পরিমাণ সিসাও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দিতে পারে। কমাতে পারে বুদ্ধিমত্তা ও শেখার সক্ষমতা। সৃষ্টি করতে পারে মনোযোগ ও আচরণগত সমস্যা।

সিসা দূষণের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে রয়েছে– দেয়ালের রং, অ্যালুমিনিয়াম ও সিরামিকের বাসনপত্র, পানির পাইপ, মসলা, প্রসাধনী ও খেলনা। পুরোনো সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ও অবৈধ পুনর্ব্যবহারও দূষণের অন্যতম বড় উৎস।

পিওর আর্থ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষায় ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতা।

ইউক্যান-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কোঅর্ডিনেটর আশরাফুল ইসলাম অয়ন বলেন, ‘সিসা দূষণ একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে শিশুদের। তরুণদের এখন শুধু সচেতনতা তৈরিতে নয়, নিজেদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সিসার ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, নতুন সরকারের উচিত সিসাকে জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন বাস্তবায়ন এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত রক্তে সিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। 

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—সিসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে রক্তে সিসার মাত্রা পরীক্ষা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার বন্ধে কঠোর মানদণ্ড প্রণয়ন এবং অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধ করা।

এ ছাড়া সিসা দূষিত এলাকা চিহ্নিত করে পরিবেশ পুনর্বাসন, গবেষণা ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সিসা দূষণের ঝুঁকি ও প্রতিরোধে সরকার, শিল্প খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

অনলাইন ডেস্ক
বগুড়ায় শ্যালককে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে দুলাভাই নিহত

বগুড়ার শাজাহানপুরে মাদকসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে মো. রঞ্জু মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। সোমবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের ঘাষিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

রঞ্জু মিয়া শাজাহানপুর উপজেলার ঘাষিড়া এলাকার ফজলাল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় রঞ্জু মিয়ার ছেলে মো. জুবায়ের (২৫) ও শ্যালক খোরশেদ আলম (৪০) আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে স্থানীয় একটি ইটভাটার ভেতরে মাদকসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খোরশেদ আলমের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের লোকজন খোরশেদকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করতে তার দুলাভাই রঞ্জু মিয়া ও ছেলে জুবায়ের এগিয়ে যান।

এ সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের তিনজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রঞ্জু মিয়া গুরুতর আহত হন এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা আহত খোরশেদ ও জুবায়েরকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’