• ই-পেপার

ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে সাড়ে ৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবাসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১১। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টায় বিষয়টি প্রেস রিলিজের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানান র‍্যাব-১১ এর অপস অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান।

এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বন্দর থানাধীন মদনপুরের রাফি ফিলিং স্টেশনের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. রুবেল (৩০), মোছা. হীরামনি (২৬), নুরুল ইসলাম (২১) এবং ফাহিমা জান্নাত (২০)। তাদের মধ্যে রুবেল ও হীরামনি দম্পতির বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার পূর্ব ডুমখালী এলাকায়। অপরদিকে নুরুল ইসলাম ও ফাহিমা জান্নাত দম্পতির বাড়ি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও থানার পূর্ব গজালিয়া এলাকায়।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর কম্পানি, নারায়ণগঞ্জের একটি চৌকস আভিযানিক দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এসময় হানিফ পরিবহনের একটি বাসে যাত্রীবেশে থাকা চার জনকে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ৯ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব আরো জানায়, গ্রেপ্তাররা একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালান সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কৌশলে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায় বহন, সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিল।

র‍্যাব-১১ এর অপস অফিসার ক্যাপ্টেন রওনক এরফান খান বলেন, ‘গ্রেপ্তার চার জন আসামির বিরুদ্ধে বন্দর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ তাদের আদালতে পাঠানো হবে।’

চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, চালকের পর হেলপার গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
চলন্ত বাসে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, চালকের পর হেলপার গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

আশুলিয়ায় গভীর রাতে চলন্ত বাসে নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চালকের পর এবার ইতিহাস পরিবহনের আলোচিত হেলপার কাওছার হোসেন সানজিদকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার এক সপ্তাহ পর সোমবার (২০ জুলাই) রাতে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে ১২ জুলাই নিজ জেলা দিনাজপুর থেকে কর্মস্থলে ফেরার পথে রাতে চন্দ্রা চৌরাস্তায় নেমে সাভারগামী ইতিহাস পরিবহনের বাসে ওঠেন ওই ভুক্তভোগী নারী পোশাক শ্রমিক।

জানা গেছে, বাসটি আশুলিয়ার শ্রীপুর বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর অন্য সব যাত্রী নেমে গেলে চালক ও হেলপার আর কোনো যাত্রী বাসে উঠতে দেননি। এতে ওই নারী আতঙ্কিত হয়ে বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু চালক বাস থামানোর পরিবর্তে আরো দ্রুতগতিতে বাস চালাতে থাকেন। ঘটনার সময় আটক হেলপার সানজিদ বাসটি চালাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী চলন্ত বাস থেকে লাফ দিয়ে নিচে পরে আত্মরক্ষা করেন এবং মারাত্মক আহত হন।

আশুলিয়া থানার এসআই আনোয়ার হোসেন পিপিএম জানান, হেলপার কাওছার হোসেন সানজিদ (২৫) গাজীপুর জেলার বাসন থানার শাহ আলম বাড়ি এলাকায় পালিয়ে গিয়ে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ির চালক হিসেবে চাকরি নিয়েছিলেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে সোমবার রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এর আগে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যবহৃত ইতিহাস পরিবহনের বাস জব্দসহ ও চালক আজিজুল শিকদার ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

মাদকবিরোধী সভায় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রদল কর্মী আহত

পাবনা প্রতিনিধি
মাদকবিরোধী সভায় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রদল কর্মী আহত
সংগৃহীত ছবি

মাদকবিরোধী সচেতনতামুলক সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এস এম আফতাব আহমেদ নামে এক ছাত্রদল কর্মী আহত হয়েছেন।

‎সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাবনার সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর তিনমাথার মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতে বিএনপি কর্মী আনিসুর রহমান সুজানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, মানিকদীর এলাকাকে মাদকমুক্ত করা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গতকাল সোমবার বিকেলে একটি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ এবং ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সভায় হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আফতাব আহমেদ নামের ওই ছাত্রদল কর্মী আহত হন। পরে তাকে সুজানগর উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

‎হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মানিকদীর গ্রামের কালাম শেখের ছেলে সুজাউদ্দিন সুজাকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে মাদক সেবনের অভিযোগে সুজানগর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বাবুকে আটক করে ডোপ টেস্টে পাঠায় পুলিশ। ‎ডোপ টেস্টে তার শরীরে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড, ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো সাত দিনের কারাদণ্ড দেন।

‎এর পর থেকেই বাবুর অনুসারীদের সঙ্গে এলাকার মাদকবিরোধী একটি পক্ষের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যায় মানিকদীর মোড় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎মাদকবিরোধী পক্ষের দাবি, বাবুর অনুসারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। অন্যদিকে, বাবুর অনুসারীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, মাদকবিরোধী পক্ষই সশস্ত্র অবস্থায় তাদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।

‎আহত ছাত্রদল কর্মী আফতাব আহমেদ বলেন, শফিউল আলম বাবুকে আটকের পর থেকে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীরা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যায় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় অতর্কিত হামলার শিকার হই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে সুজানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লালবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ। ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি
কোলাজ : কালের কণ্ঠ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক নারীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য বলে জানা গেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হলে তা রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে এ ঘটনায় ভিডিওতে থাকা নারীকে গাজী নজরুল ইসলামের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেছে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওর বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। কোনো দৃশ্যে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং অন্য কিছু দৃশ্যে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রথমদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল থেকে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও। তবে পরবর্তীতে একাধিক তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্টচেক) প্রতিষ্ঠান অনুসন্ধান শেষে জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত নয়; এটি আসল ভিডিও।

এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমপি আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সেটি আমরা খতিয়ে দেখছি।’

দ্বিতীয় বিয়েটি কবে হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে আমাদের জানানো হয়েছে, বেশ কিছুদিন আগেই বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে।’