ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় যখন দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠছে, তখনও নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে মাত্র তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেডে। ফলে প্রতিদিন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম—জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, কর আদায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাজ, দাপ্তরিক সভা ও সালিশ—একই সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে ওই তিনটি কক্ষেই। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় একাধিক সেবা একযোগে দিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।
প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাও এই ভোগান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষা মৌসুমে টিনশেডের ওপর বৃষ্টির তীব্র শব্দে অফিসের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে, আর গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরমে কক্ষের ভেতরে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়ে। নেই পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ, সভাকক্ষ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা। এমনকি সেবা নিতে আসা মানুষের বসার মতো উপযুক্ত স্থানও নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো আধুনিক প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হয়নি। এতে শুধু সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা আসলাম বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’
একই সুরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহুরুল হক বলেন, ‘বর্তমান সীমিত পরিসরে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আধুনিক প্রশাসনিক ভবন এখন সময়ের দাবি। এতে সেবার গতি ও মান—দুইই বাড়বে।’
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দেশের অনেক ইউনিয়নেই বহুতল আধুনিক ভবন নির্মিত হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এখনো টিনশেডের তিনটি কক্ষেই আটকে আছে। ফলে প্রতিদিনই মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম আর কতদিন এমন অপ্রতুল অবকাঠামোর মধ্যে চলবে? তারা দ্রুত একটি আধুনিক, বহুতল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নাটোর জেলা প্রশাসন এবং লালপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং ইউনিয়নবাসী পাবে উন্নত, সহজ ও মানসম্মত সরকারি সেবা।




