• ই-পেপার

আর্জেন্টিনার খেলা ঘিরে ভূরিভোজের নামে চাঁদাবাজি, আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ১

লালপুরে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেডে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
লালপুরে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেডে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম
নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট টিনশেড ঘর।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় যখন দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠছে, তখনও নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে মাত্র তিন কক্ষবিশিষ্ট একটি টিনশেডে। ফলে প্রতিদিন সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম—জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ প্রদান, ট্রেড লাইসেন্স, কর আদায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কাজ, দাপ্তরিক সভা ও সালিশ—একই সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে ওই তিনটি কক্ষেই। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় একাধিক সেবা একযোগে দিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এতে সেবাগ্রহীতাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে।

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাও এই ভোগান্তিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষা মৌসুমে টিনশেডের ওপর বৃষ্টির তীব্র শব্দে অফিসের কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে, আর গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরমে কক্ষের ভেতরে অবস্থান করাই কঠিন হয়ে পড়ে। নেই পর্যাপ্ত অফিস কক্ষ, সভাকক্ষ কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের নিরাপদ ব্যবস্থা। এমনকি সেবা নিতে আসা মানুষের বসার মতো উপযুক্ত স্থানও নেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন একটি জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো আধুনিক প্রশাসনিক ভবন নির্মিত হয়নি। এতে শুধু সেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম মোস্তফা আসলাম বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা আমরা বারবার উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি। বিভিন্ন সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত বরাদ্দ পাওয়া গেলে জনগণের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।’

একই সুরে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জহুরুল হক বলেন, ‘বর্তমান সীমিত পরিসরে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আধুনিক প্রশাসনিক ভবন এখন সময়ের দাবি। এতে সেবার গতি ও মান—দুইই বাড়বে।’

এলাকাবাসীর ভাষ্য, দেশের অনেক ইউনিয়নেই বহুতল আধুনিক ভবন নির্মিত হয়েছে, যেখানে ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়ন পরিষদ এখনো টিনশেডের তিনটি কক্ষেই আটকে আছে। ফলে প্রতিদিনই মানুষকে নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নের প্রশাসনিক কার্যক্রম আর কতদিন এমন অপ্রতুল অবকাঠামোর মধ্যে চলবে? তারা দ্রুত একটি আধুনিক, বহুতল ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ, নাটোর জেলা প্রশাসন এবং লালপুর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং ইউনিয়নবাসী পাবে উন্নত, সহজ ও মানসম্মত সরকারি সেবা।

ঝিনাইদহে রাতের আঁধারে প্রতিবন্ধী কৃষকের শতাধিক লাউ গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে রাতের আঁধারে প্রতিবন্ধী কৃষকের শতাধিক লাউ গাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় দুর্বৃত্তদের কাটা লাউ গাছের মাচার নিচে গালে হাত দিয়ে বসে আছেন প্রতিবন্ধী কৃষক আলমগীর হোসেন।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় প্রতিবন্ধী কৃষক আলমগীর হোসেনের এক বিঘা জমির ১০০ ধরন্ত লাউ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার গোকুলনগর উত্তর পাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। ৩৩ শতক জমিতে লাউ চাষ করা কৃষক আলমগীর এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষক আলমগীর হোসেন ৩৩ শতক লাউ ক্ষেতের ১০০ গাছের প্রতিটির ডগায় ডগায় কচি লাউ ঝুলছে। কিছুদিন পর এসব লাউ বাজারে বিক্রি হতো কয়েক লাখ টাকায়।

প্রতিবন্ধী কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, দুই মাস আগে এক বিঘা জমিতে শতাধিক লাউ গাছ লাগান তিনি। গত ২৪ দিনে প্রায় ৫০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। শত্রুতা করে কে বা কারা আমার ধরন্ত লাউ গাছ কেটে দিয়েছে। আমার একটি হাত অচল সংসার চালাবো কি দিয়ে। আমি সঠিক বিচার চাই।’ 

স্থানীয় হারুন আর রশিদ বলেন, ‘মানুষ কিভাবে একজন প্রতিবন্ধী কৃষকের ফসলের ক্ষতি করতে পারে। এ ঘটনায় দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। 

শৈল কুপা উপজেলার তমালতলা পুলিশ ক্যাম্পের এস আই শামিনুর রহমান বলেন, ‘লাউ গাছ কেটে দেওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

কবর থেকে একসঙ্গে ৯ কঙ্কাল উধাও, এলাকায় চাঞ্চল্য

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
কবর থেকে একসঙ্গে ৯ কঙ্কাল উধাও, এলাকায় চাঞ্চল্য
ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর কবরস্থান থেকে ৯টি কঙ্কাল চুরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

বুধবার (১৬ জুলাই) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের টেকিবাড়ী-চানপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে কঙ্কালগুলো চুরি হয়েছে বলে দাবি স্বজনদের।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের টেকিবাড়ী-চানপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে বুধবার রাতের কোনো এক সময় কবরস্থানের মাটি খুঁড়ে ৯টি কঙ্কাল চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

সূত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুলাইমান মিন্টু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স-বাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্স-বাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪
সংগৃহীত ছবি

পাবনার আতাইকুলায় লাশবাহী অ্যাম্বুল্যান্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় আরো একজন মারা গেছে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪ জনে।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গুরুতর আহত শিশু নাফিস (৭)-কে পাবনা থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর বিকেল ৩টার দিকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত নাফিস সাঁথিয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

এর আগে রাজশাহী নেওয়ার পথে নাটোরে পৌঁছার পর সকাল ১১টার দিকে ছলিম প্রামাণিক (৬৫) নামের একজন মারা যান। তিনি সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মৃত দানেজ প্রামাণিকের ছেলে। এর আগে সকালে দুর্ঘটনাস্থলে মারা যান সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের ছলিম প্রামাণিকের স্ত্রী বুলু খাতুন (৫৭) ও অ্যাম্বুল্যান্স চালক পাবনা পৌর শহরের উত্তর শালগাড়িয়া এলাকার জামাল শেখের ছেলে রাজ শেখ (২৮)।

এ ঘটনায় আহত দুজন ছলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজনিন খাতুন (৪০) ও নাতি রিয়াদ সরদার (১৭) পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের লাশ নিয়ে একটি অ্যাম্বুল্যান্স সাঁথিয়া উপজেলার নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুল্যান্সটি পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা থানার সড়াডাঙ্গীর কড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে অ্যাম্বুল্যান্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সচালক রাজ শেখ এবং লাশের সঙ্গে থাকা শিশু কেয়ার নানি বুলু খাতুন নিহত হন। এ সময় আরো চারজন গুরুতর আহত হয়।

খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তারা নিহতদের লাশ উদ্ধার করে এবং আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুল্যান্স জব্দ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।