• ই-পেপার

১৬ কোটির বাস টার্মিনালে ৯ বছরেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত জনসেবা

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : কালের কণ্ঠ

লাগাতার ভারি বর্ষণ ও পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১৬টি ইউনিয়নের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় বসবাসকারী অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে বেশ কিছু গ্রামীণ সড়ক।

এদিকে চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কম্পানির দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধের কারণে ফাঁসিয়াখালী ও চিরিঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রামের লোকালয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এখানকার নারী-পুরুষেরা নিজেদের সহায়-সম্পদ রক্ষায় ম্যাক্সের দেওয়া অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ অপসারণ করতেও দেখা যায়।

পার্বত্য অববাহিকার মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বৃদ্ধি পেলেও আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ বন্যার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন দুই উপজেলার মানুষ। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পাহাড়বেষ্টিত গ্রামীণ এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নিরাপদে সরে যাওয়ার বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।

দুই উপজেলার সিংহভাগ ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, অতি ভারি বর্ষণের কারণে ইউনিয়নগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং মাতামুহুরী নদীতে উজানের ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি দেখা দিয়েছে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীদ দেলোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারী বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উজানের পানি যাতে দ্রুত ভাটির দিকে নেমে যেতে পারে সেজন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর পানি নিষ্কাশনের স্লুইস গেটগুলোর কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

ফেনী

মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের জেল

ফেনী প্রতিনিধি
মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১০ বছরের জেল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর দাগনভূঞায় মা-মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের যাবজ্জীবন ও একজনের ১০ বছরের জেল দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৫ জুলাই) বিকেলে মামলার যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের বারাহীগুনী গ্রামের মনু কাজী বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম, একই বাড়ির মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে আজাদ ও একই এলাকার জেলে বাড়ির প্রভাত কুমার দাসের ছেলে নিপু কুমার দাস। রায় ঘোষণাকালে আসামি আজাদ ও নিপু দাস কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের দক্ষিণ বারাহীগুনী গ্রামের নদী পাড়ে জেলে বাড়ি অবস্থিত। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট রাতে ওই বাড়িতে ঢুকে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে সাইফুল ইসলাম। ধর্ষণের ঘটনায় বাধা দেওয়ায় ভুক্তভোগীর মাকে বাড়ি থেকে বের করে ব্রিজের ওপর এনে ধর্ষণ করেন আজাদ ও নিপু নামের দুজন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রচারের পর ১১ আগস্ট দাগনভূঞা থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন প্রবাসীর স্ত্রী। পরে দাগনভূঞা থানার এসআই আবদুর রহীম ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, এ মামলায় আদালতে সাতজনের সাক্ষী গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রবিবার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি সাইফুল ও নিপুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং আজাদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি ব্রা‌জি‌ল সমর্থক

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কু‌ড়িগ্রাম
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতা‌লে ভ‌র্তি ব্রা‌জি‌ল সমর্থক
ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রিয় দল ব্রাজিলের বিদায়ের হতাশা সহ্য করতে না পেরে আলমগীর হোসেন (৩৫) না‌মের এক ভক্ত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আলমগীর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত ব্রাজিল ও নরওয়ের মধ্যকার বিশ্বকাপ ম্যাচটি নিজ বাড়িতে বন্ধু ও এলাকার অন্যান্য ব্রাজিল সমর্থকদের সঙ্গে দেখছিলেন আলমগীর। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় খেলা উপভোগ করছিলেন। তবে ব্রাজিল পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই তিনি দৃশ্যত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। খেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হলে তিনি প্রবল মানসিক আঘাত পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুকে তীব্র ব্যথা, অস্বস্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখেন।

আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ব্রাজিল ফুটবল দলের সমর্থক। বিশ্বকাপ এলেই বন্ধুদের নিয়ে খেলা দেখতেন এবং দলের জয়-পরাজয়কে খুব আবেগের সঙ্গে গ্রহণ করতেন। এবারের ব্রাজিলের বিদায়ে মানসিকভাবে মেনে নিতে পারেননি তিনি।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত আবেগ, মানসিক চাপ বা হঠাৎ তীব্র উত্তেজনা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। খেলাধুলা বিনোদনের বিষয় হলেও তা নিয়ে অতিরিক্ত মানসিক চাপ নেওয়া উচিত নয়।

ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী বলেন, আলমগীর হোসেন বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা নিশ্চিত করতে তাকে আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

ফেনীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, রক্ষার দাবি

ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীতে হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ, রক্ষার দাবি
ছবি: কালের কণ্ঠ

'মাছে-ভাতে বাঙালি'—এই চিরন্তন প্রবাদটি যেন ধীরে ধীরে ফেনীর মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী-নালার নাব্যতা সংকট এবং মানবসৃষ্ট নানা কারণে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া, সিলোনীয়া, কাটাখালী ও ছোট ফেনী নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিল ও উন্মুক্ত জলাশয় থেকে দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ দেশীয় প্রজাতির মাছ। একসময় স্থানীয় বাজারে সহজলভ্য এসব মাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। তাদের জায়গা দখল করেছে পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, হাইব্রিড কই ও কার্পজাতীয় মাছ।

সরেজমিনে ফেনীর বড় বাজার, রেলগেট বাজার, মহিপাল কাঁচাবাজার, পাঁচগাছিয়া, কুঠিরহাট, সিলোনীয়া, সোনাগাজী ও দাগনভূঞা বাজারসহ জেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারজুড়ে রয়েছে চাষের মাছের আধিপত্য। অথচ এক দশক আগেও স্থানীয় নদী ও বিলের মাছের প্রাচুর্য ছিল। বর্তমানে মাঝে মধ্যে টাকি, পুঁটি, বেতরঙ্গি, মাগুর, ট্যাংরা, শিং, তিতপুঁটি ও শোল মাছ পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, আগে নদীতে জাল ফেললেই ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ মিলত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। ফলে সোনাগাজী ও সদর উপজেলার লেমুয়া-ফরহাদনগর এলাকার অনেক জেলে পরিবার আদি পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

দাগনভূঞা উপজেলার জেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, "ছোটবেলা থেকেই নদীতে মাছ ধরে বড় হয়েছি। ছোট ফেনী নদীই ছিল আমাদের জীবিকার ভরসা। নৌকা ছিল, জাল ছিল, লোকবল ছিল। কিন্তু এখন নদীতে মাছ নেই বললেই চলে। তাই আমাদের অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। আমিও এখন সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি।"

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেনীর জলাশয় থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো খলিশা, পুঁটি, মাইট্টা, ট্যাংরা, পাবদা, কাজলী, বাতাসি, চান্দা, বাইম, আইড়, বোয়াল, চিতল, ফলি, গজার, মাগুর, শিং ও শোল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন নদী ও খাল পুনঃখনন না হওয়ায় পলি জমে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হয়ে গেছে। শুকনো মৌসুমে পানির স্বল্পতায় মাছ ডিম ছাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ পায় না। অন্যদিকে প্রজনন মৌসুমে এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ 'চায়না দুয়ারি' ও 'কারেন্ট জাল' ব্যবহার করে মা মাছ ও রেণুপোনা নির্বিচারে নিধন করছে।

এ ছাড়া কৃষিজমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির পানির সঙ্গে জলাশয়ে মিশে পানিদূষণ বাড়াচ্ছে। অপরিকল্পিত আবাসন ও সড়ক নির্মাণের কারণে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত অনেক খাল বন্ধ হয়ে গেছে। নাব্যতা হ্রাস, বর্জ্য ফেলা এবং পানিদূষণের কারণেও মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

নদীতে মাছের সংকট সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় জেলেদের ওপর। স্থানীয়রা জানান, নদী ভরাট হয়ে যাওয়া এবং অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ছোট জাল দিয়ে আর মাছ পাওয়া যায় না। দাদনের টাকা ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে অনেকেই রিকশা চালানো বা দিনমজুরির মতো পেশা বেছে নিচ্ছেন।

সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের চর সাহাভিকারী গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন কাজী বলেন, "মুছাপুর সুইচগেট ভেঙে যাওয়ার পর নদীতে লোনা পানি প্রবেশ করছে। ফলে মিঠাপানির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আগের মতো বিলেও দেশীয় মাছ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস কিনে খেতে হচ্ছে। সরকার দেশীয় মাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিক।"

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুল হাসান বলেন, "নানা কারণে দেশীয় মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। মা মাছ রক্ষায় সরকারি আইন অনুযায়ী চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকার দেশীয় মাছ সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তবে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেনীর দেশীয় মাছের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে জেলার প্রধান নদী ও সংযোগ খাল জরুরি ভিত্তিতে পুনঃখনন করতে হবে। প্রজনন মৌসুমে, বিশেষ করে মে থেকে জুলাই পর্যন্ত, মাছ ধরা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি হ্যাচারিতে দেশীয় মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্মের কাছে দেশীয় প্রজাতির এসব মাছ শুধু বইয়ের পাতার ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।