কুঠির বিলে একসময় ধানের চাষ হতো বছরে দুইবার। পাট হতো। সুনাম ছিল এ বিলের সবজির। তবে এখন সেসব অতীত। বিলটির বড় অংশজুড়ে এখন জলাবদ্ধতা। একটি স্লুইসগেট হলে ফিরতে পারে আগের অবস্থায়। কৃষকদের সেই ন্যূনতম দাবিটিও পূরণ হচ্ছে গত ১০ বছর ধরে।
বিলটির অবস্থান চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কুঠির বিলে কৃষিজমির পরিমাণ দেড় শ বিঘা। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় এখন বছরে কেবল একবার সেখানকার এক-তৃতীয়াংশ জমিকে ধান চাষের আওতায় আনা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিলের পানি আগে উপজেলার কেশবপুর গ্রামের পশ্চিম পাশে দামুড়হুদা-বিষুপুর সড়কের খানপাড়া সেতুর নিচ দিয়ে মাথাভাঙ্গা নদীতে পড়ত। প্রায় ১২ বছর আগে সেতুটির নিচে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানি সরতে না পারায় বিলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বিলের খালটিও ভরাট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
সূত্র জানায়, এক সময় ওই বিলে বছরে তিন ফসলের আবাদ হলেও পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন একটি ফসলও হচ্ছে না। কারণ বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই জমিতে পানি জমে।
স্থানীয়দের দাবি, কুঠির বিলের খালটি পুনঃখনন করে খালের মুখে মাথাভাঙ্গা নদীসংলগ্ন স্থানে সেতুর নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হোক। বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন করতে পারলে আবারও ওই বিলের প্রায় ১৫০ বিঘা জমি তিন ফসলের আওতায় আনা যাবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কুঠির বিল পলি ও আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে। এতে আমন ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। চলতি মৌসুমে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় ধান রোপণ করা যাচ্ছে না। এতে এলাকার কৃষক বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছে। খালটি পুনঃখনন করে একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে প্রায় দেড় শ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে।
দুই কৃষক খলিলুর রহমান ও মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমরা জমিতে কৃষিকাজ করতে পারছি না। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। দ্রুত কুঠির বিলের খাল পুনঃখনন এবং একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হলে উপকৃত হবো।
অতিরিক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কুঠির বিলে ৫০ একর (দেড় শ বিঘা) জমি রয়েছে। জলবদ্ধতার কারণে এখানে এক ফসলের চাষ হয়ে থাকে। খাল পুনঃখনন করেতে পারলে তিন ফসলের আওতায় আনা সম্ভব। তিনি বলেন, এ ব্যপারে একবার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার জমির মালিকরা তাতে রাজি না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আজ (সোমবার) উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বিল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে এখানে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তবে পুড়াপাড়া কেশবপুর অংশে আগে যে খালটি ছিল, সেটি পুনঃখনন করে মাথাভাঙ্গা নদীতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে সেখানকার জমি আবারো তিন ফসলি জমিতে পরিণত হবে। তবে সে জন্য জমির মলিকদের একমত হতে হবে।