• ই-পেপার

অটোরিকশার চার্জার খুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, রাজবাড়ীতে বহিষ্কার ৩

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, রাজবাড়ীতে বহিষ্কার ৩
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজবাড়ীর পাংশা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত তিন পরীক্ষার্থী পাংশা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। পরীক্ষা চলাকালে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি শনাক্ত করেন। পরে পরীক্ষার বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।

পাংশা মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ এ বি এম ওয়াহিদুজ্জামান ডাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষাকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সময় তিন পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে শনাক্ত করেন। এরপর পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।’

বংশাই নদীতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারে তৎপর পুলিশ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
বংশাই নদীতে ভেসে যাওয়া মরদেহ উদ্ধারে তৎপর পুলিশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বংশাই নদীতে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ ভেসে যেতে দেখা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর পৌনে ৩টার দিকে উপজেলা সদরের পুষ্টকামুরী পূর্বপাড়া এলাকায় বংশাই নদীর ওপর নির্মিত আলহাজ একাব্বর হোসেন সেতুর নিচ দিয়ে মরদেহটি ভেসে যেতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তারা বিষয়টি মির্জাপুর থানায় জানালে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সেতুর নিচে পানিতে ভাসমান একটি বস্তুর ওপর কাকের আনাগোনা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। বস্তুটি সেতুর কাছাকাছি এলে তারা সেটিকে মরদেহ বলে নিশ্চিত হন। মরদেহটি মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

স্থানীয়দের ধারণা, মরদেহটি উজান থেকে স্রোতের সঙ্গে ভেসে এসেছে। পানিতে দীর্ঘ সময় থাকায় মরদেহটি ফুলে উঠেছিল। তবে এটি কীভাবে নদীতে এসেছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি।

মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল নদীর বিভিন্ন স্থানে মরদেহটির খোঁজ করছে। নদীতে স্রোত থাকায় মরদেহটি দ্রুত ভাটির দিকে চলে গেছে। নৌকার সাহায্যে নদীর তীর ও বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার হলে পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৩৩৬, বহিষ্কার ৮

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা বোর্ডে ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিত ২৩৩৬, বহিষ্কার ৮
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার তৃতীয় দিনে ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় দুই হাজার ৩৩৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৮ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট ৮৫ হাজার ১৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮২ হাজার ৭৯৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। অবশিষ্ট ২ হাজার ৩৩৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

এদের মধ্যে কুমিল্লায় ৭৪৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩৫০ জন, চাঁদপুরে ২১৪ জন, ফেনীতে ১৮০ জন, নোয়াখালীতে ৫৮২ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ২৬৪ জন।

উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন আরো বলেন, ‘অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে কুমিল্লা জেলায় তিনজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তিনজন, নোয়াখালী জেলায় এক জন এবং ফেনী জেলায় এক জনসহ মোট আটজন পরীক্ষার্থীকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আহসান পারভেজ বলেন, ‘বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১৯৩টি কেন্দ্রে ইংরেজি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সার্বিকভাবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে তৃতীয় দিনের এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।’

নড়বড়ে ঘরে রবি মিয়ার দুঃখের জীবন, অর্থের অভাবে আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

ছাইদুর রহমান নাঈম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
নড়বড়ে ঘরে রবি মিয়ার দুঃখের জীবন, অর্থের অভাবে আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে
জরাজীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ।

কখনো টিনের ফাঁক দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতরে। বৃষ্টি হলেই ভিজে যায় জামাকাপড়, বইপত্র ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। ঝড়-তুফান এলে আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা—এই বুঝি উড়ে গেল টিনের চালা। এমনই একটি নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়ার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট আর অভাব যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। ছোট্ট একটি ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না রবি মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তিনি। ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বড় দুই মেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে থাকেন রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বসবাস করেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় কাগজ, কাপড় ও পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্র রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিনে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

00
ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে।

ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চালা উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট আর তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবারের এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

রবি মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ভিজে যায় বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’

রবি মিয়া বলেন, ‘বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা কোনো আবদার করলে তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কিভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’