জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দক্ষিনাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ)’র আসন এবং কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনের সংসদ সদস্য এ জামায়েত ইসলামীর নায়েবে আমির ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এর আসনে দায়ীত্ব পেয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিয়ে দিনভর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর উঠে। কুমিল্লার ১৭ টি উপজেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৩০ জন প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য আবেদন করেও একজনও মনোনীত হতে পারেননি। অন্য জেলা থেকে ধারকরা এমপি দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কুমিল্লা উত্তর জেলার সভাপতি সুফিয়া বেগম। তিনি আরো জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে কুমিল্লা জেলার ১১টি আসনে ৩০ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেতে ফরম টানলেও ইন্টারভিউ বোর্ডে ২৯ জন অংশ নিলেও আমি (সুফিয়া বেগম) সহ কেহই মনোনয়ন পাননি।
এর আগে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো চাঁদপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য পদে মনোনীত হয়েছেন।
গত ২০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঘোষিত তালিকায় আবারও ঠাঁই পেয়েছেন দুইবারের সাবেক মহিলা সাংসদ বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা।
এমপি রাশেদা বেগম হীরার পৈতৃক বাড়ি চাঁদপুর জেলায় সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের আলগী গ্রামে। তার স্বামী মরহুম মো. রফিকুল ইসলাম মজুমদার চট্টগ্রাম বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা ছিলেন। তার পিতার নাম অলিউল্লাহ।
রাশেদা বেগম হীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চাঁদপুর জেলা শাখার সভানেত্রী ছিলেন। তিনি দির্ঘ কারা নির্যাতিত নেত্রী ছিলেন।
তিনি ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সামসুন্নাহার হলের ভি.পি. ও জি.এস. পদে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছাত্রনেত্রী হিসেবে তিনি ১৯৮১ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সাথে রাষ্ট্রীয় সফরে নেপাল ভ্রমণ করেন এবং টেলেন্ট স্টুডেন্ট হিসেবে তিনি হিজবুল বাহার সফর ও বঙ্গভবনে আমন্ত্রিত হন। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় যেমন অল্ফাম, সেভ-দি-চিলড্রেন, ভিএসওতে জেন্ডার বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন, পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ এ যাবৎ দলের সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি একজন লড়াকু সৈনিক। তিনি (২০০১ সালের) ৮ম ও (২০০৮ সালের) ৯ম জাতীয় সংসদে তিনি দলের মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন।