• ই-পেপার

কুমিল্লার সংসদীয় ২ আসনের দায়িত্ব পেলেন সংরক্ষিত নারী এমপি রাশেদা বেগম হীরা

ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মা–ছেলের মৃত্যু

বরগুনা প্রতিনিধি
ঝড়ে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে মা–ছেলের মৃত্যু

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের উত্তর রায়ভোগ গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোসা. নুপুর বেগম (৩৫) ও তার ছেলে শাহদাত হোসেনের (২) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। নিহত নুপুর বেগম ওই গ্রামের মিরাজের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি বিদ্যুৎ লাইনের তার ছিঁড়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে। বুধবার সকালে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হলেও সংযোগ বন্ধ করা হয়নি এবং কেউ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নিহত নুপুরের দুই সন্তান সকাল ৯টার দিকে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি শেষে তারা বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে বিকেলে বিদ্যুতের লোকজন ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের জন্য ওই বাড়িতে আসেন। এসময় পুকুরে পড়ে থাকা তার টেনে তুলতেই নুপুর ও তার শিশুপুত্রের মরদেহ ভেসে ওঠে।

ঢলুয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ফরিদ মিয়া বলেন, রাতে ঝড়ে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগের তার ছিঁড়ে পুকুর পড়ে। এরপর সকালে বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে জানানো হয়। কিন্তু তারা আসেনি। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগটি বন্ধ করেনি। পুকুরে গোসল করতে নামলে তারা বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। বিকেলে পল্লী বিদ্যুতের লোক ঝড়ে ভেঙে যাওয়া লাইন মেরামতের জন্য ওই বাড়িতে আসেন। সেখানে পুকুরে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তার টেনে তোলার সময় নুপুর ও তার ছেলের মরদেহ উঠে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তোভোগী পরিবারটি বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজেনের  নামে মামলা করবেন। তাদের দায়িত্ব অবহেলার কারণে দুটি লোক মারা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বরগুনা জোনাল কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মুহাম্মদ আছফা উদ্দিন জানান, ঝড়ে বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পুকুরে পড়ে থাকায় ওই পুকুরে নেমে দুজন মানুষ মারা গেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন শেষে যদি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোনো গাফিলতি থাকে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল সিএনজিচালকের

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল সিএনজিচালকের
মো. হৃদয়

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যরা মো. হৃদয় (১৯) নামে এক সিএনজি চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হৃদয় ওই ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েদ উল্ল্যার ছেলে।

বুধবার রাত ১১টায় মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন। 

হৃদয়ের বন্ধু রাকিব জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ধোড়করা বাজারের পূর্ব পাশে প্রান্ত ও আসিফ নামে দুই কিশোর রাস্তার মাঝে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। এই সময় দুই পক্ষের মোটরসাইকেল সাইট দেওয়া নিয়ে তাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। ঘটনা ওইখানে শেষ হলেও  পরে ঘোষতল গ্রামের রাজিব, প্রান্ত, রিফাত ও ফানসির নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য বাজারে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করে। এর কিছুক্ষণ পর বাজার ওয়াসিমের গ্যারেজে শাকতলার সিএনজি চালক হৃদয় সিএনজি রাখার জন্য প্রবেশ করে। এসময় রাজিব সিএনজি চালক হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হৃদয়ের ভাই ফারুক হোসেন বলেন, আমার ভাই সিএনজি চালক। বুধবার তার ইনকাম কম হয়েছে বলে সন্ধ্যায় আমার কাছ থেকে চা খাওয়ার জন্য টাকা নিয়ে যায়। লোকজনের মাধ্যমে আমি জানতে পারি তাকে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ছুরি মেরে হত্যা করেছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক চিকিৎসক আকিব মাহমুদ মাহি জানান, হৃদয়কে কিছু লোক রাত সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে জরুরি বিভাগের নিয়ে আসে। আমরা তার বুকের ডানপাশে গভীর আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। ধারণা করা হচ্ছে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগে তার মৃত্যু হয়।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, খবর পেয়ে আমরা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে অভিযানে নেমে পড়েছি। তবে ঠিক কি কারণে হৃদয়কে হত্যা করা হয়েছে তা জানারও চেষ্টা করছি। অভিযুক্তরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি। 

সালথায় দাঙ্গা না করার শর্তে দেশীয় অস্ত্র জমা দিল ৬ গ্রামবাসী

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সালথায় দাঙ্গা না করার শর্তে দেশীয় অস্ত্র জমা দিল ৬ গ্রামবাসী
ছবি: কালের কণ্ঠ

সহিংসতায় না জড়ানোর অঙ্গীকার করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রামবাসী। ওই ৬ গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার (১০ জুন) বিকেলে মাঝারদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসন। তবে ৬ গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন মাত্র ২৩টি। এর মধ্যে ঢাল ১২টি আর সরকি-টেটা ১১টি।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয় অনেকে বলেছেন, গ্রামবাসী অস্ত্র জমা দেওয়ার নামে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করেছেন। কারণ- মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া, খলিশপট্টি, মুরাটিয়া, নওপাড়া, কাগদী ও বাতাগ্রাম গ্রামে হাজারো দেশীয় অস্ত্র মজুদ রয়েছে। অথচ জমা দিয়েছেন মাত্র ২৩টি। যদিও অস্ত্র জমাদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন পুলিশ ও প্রশাসন এবং গ্রামবাসীর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ, পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, সালথা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় ২৩টি দেশীয় অস্ত্র জমা দিয়েছেন। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন, তারা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অগ্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। তাদের এই পদক্ষেপ অন্যদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।

মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা

খুলনা অফিস
মাত্র সোয়া তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা
ছবি: কালের কণ্ঠ

সন্ধ্যা পৌনে ৬টা থেকে রাত ৯টা। টানা সোয়া তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে খুলনা। এক কথায় জীবনযাত্রায় হঠাৎ যেন অচলাবস্থা নেমে এসেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আরো কয়েকদিন থেমে থেমে হতে পারে এমন বৃষ্টি।

বুধবার (১০ জুন) সোয়া তিন ঘণ্টায় খুলনায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে বলে খুলনা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন। তার ভাষায় এটি এবারের বৃষ্টি মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

এদিকে, সোয়া তিন ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে খুলনা শহরের বেশির ভাগ সড়ক ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। বিশেষ করে নগরীর রয়্যাল মোড়, বাইতিপাড়া, কেডিএ বাণিজ্যিক এলাকা, ময়লাপোতা, রূপসা ফেরিঘাট, বয়রা বাজার, বাগমারা, মিস্ত্রী পাড়া, টুটপাড়া, বসুপাড়া, মুজগুন্নী সড়ক, নতুন রাস্তা মোড়, বাস্তুহারা কলোনিসহ অধিকাংশ এলাকায় দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা।

নগরবাসীর অভিযোগ, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) অপসারিত মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বিগত দিনে উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিতভাবে নগরীতে ড্রেন ও রাস্তা নির্মাণ করেছে। বেশিরভাগ ড্রেনের স্লাব ঠিক নেই। ড্রেনের ভেতর পানি স্থির হয়ে জমে থাকে। বেশিরভাগ ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে আছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলে ড্রেনের পানি সরতে চায় না। ময়ুরনদসহ ২২ খাল দখল হয়ে যাওয়ায় শহরের পানি দ্রুত সরতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় নগরজুড়ে।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাড. মো. বাবুল হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ হলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নেই কোনো জবাবদিহি। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবও পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। এজন্য তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আহবান জানান।