• ই-পেপার

হবিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বাবা-ছেলের মৃত্যু

ফেসবুক লাইভে এসে যুবকের আত্মহত্যা

নিজস্ব মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
ফেসবুক লাইভে এসে যুবকের আত্মহত্যা
সংগৃহীত ছবি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে লিমন মোল্লা ওরফে হৃদয় (২৬) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের উমাজুরি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মোরেলগঞ্জ থানা-পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহামুদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত লিমন মোল্লা ওই গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন চালক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। লিমনের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি বর্তমানে পৌর সদরের কুঠিবাড়ি এলাকায় তার নানির কাছে থাকে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আত্মহত্যার সময় লিমন ঘরে একাই ছিলেন। ফেসবুক লাইভে এসে ঘরের আড়ার সঙ্গে কাপড় পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। ঘটনার ঠিক আগেই তিনি ঢাকায় অবস্থানরত তার স্ত্রী উর্মির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও তীব্র মানসিক চাপের কারণে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পরিবার।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ আজ সকালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

মদনে পুলিশের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
মদনে পুলিশের ওপর হামলা, ছাত্রদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২
নেত্রকোনা মদনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২ আসামি।

নেত্রকোনা মদনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মদন থানায় কর্মরত কনস্টেবল মো. ফরিদুল ইসলাম ও আতাউর রহমান আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মদন থানার এসআই আক্তার হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন আসামি করে শুক্রবার মদন থানায় মামলা করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় মদন পৌর সদরের সরকারি কলেজ মোড়ে এমন ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া সৈয়দ মিঠু মিয়া নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সৈয়দ মিঠু মিয়া মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি ও মদন পৌরসদরে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দ রঞ্জু মিয়ার ছেলে। এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার সৈয়দ মিঠু মিয়াকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

মামলার অপর আসামি জামাল ভূইয়াকে (জাপান) শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামাল ভূইয়া উপজেলার কুলিয়াটি পশ্চিমপাড়ার মৃত হেলিম ভূঁইয়ার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মদন সরকারি কলেজ মোড় এলাকায় চট্টগ্রামগামী বাসে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। এমন খবর পেয়ে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে যাত্রীরা নানা হয়রানি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে। এ সময় ওই স্থানে আসে ছাত্রদল নেতা মিঠু মিয়া। পরে পুলিশ তাকে একটু দূরে সরতে বললে পুলিশের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তার লোকজন নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত দুই পুলিশ সদস্যকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় মদন থানার এসআই আক্তার হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন আসামি করে শুক্রবার মদন থানায় মামলা করেন। শুক্রবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে কুলিয়াটি এলাকা থেকে মামলার অপর আসামি জামাল ভূঁইয়াকে (জাপান) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি এস এইচ পিপুল জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে  মদন সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ মিঠু মিয়াকে তার সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার তরে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, কলেজ মোড় এলাকায় যাত্রীদের হয়রানির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। আমি উপস্থিত থেকে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে অধিকাংশ যাত্রীর গাড়ির ব্যবস্থা করেছি। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সে বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে।’

সুনামগঞ্জে চোরাচালান মামলার আসামি হলেন স্কুল কমিটির সভাপতি

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে চোরাচালান মামলার আসামি হলেন স্কুল কমিটির সভাপতি
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপিত মো. সোহেল রানা।

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটিতে চোরাচালান মামলায় জড়িত মো. সোহেল রানা নামে এক বিতর্কিত ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মো. সোহেল রানা বিজিবির দায়ের করা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি। তিনি উপজেলা যুবদলের সদস্য হওয়ায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এ পদে আসীন হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগসহ বিজিবির সরকারি কাজে বাধা প্রদান, বিজিবি সদস্যদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং চোরাচালানের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে। তাই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। 

 সোহেল রানা বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হযরত আলীর ছোট ভাই।

গুরুতর মামলার আসামি ও বিতর্কিত ব্যক্তি হওয়ার পরেও গত ২৮ এপ্রিল সোহেল রানাকে সভাপতি করে মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। পরে বিষয়টি সোহেল রানাসহ অনেকেই ফেসবুকে শেয়ার করলে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রাম সংলগ্ন টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির সংঘর্ষ হয়। এ সংষর্ঘে বিজিবির একজন সদস্য আহত হয়। এর দুইদিন পর বিজিবির বাঙালভিটা বিওপির একজন সদস্য বাদি হয়ে সোহেল রানাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়। মো. সোহেল রানা এ মামলার ২৯ নম্বর আসামি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন নাগরিক জানান, সোহেল রানা একজন বিতর্কিত ব্যক্তি এবং স্পর্শকাতর মামলার আসামি। এমন লোককে সভাপতি করা উচিত হয়নি। তাই তাকে পরিবর্তন করে দ্রুত যোগ্য ব্যক্তিকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দেওয়ার দাবি জানাই।

মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক ফকির বলেন, ‘সোহেল রানা এর আগেও আমাদের বিদ্যালয় অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ছিল। এবারও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তবে সে কোনো মামলার আসামি কিনা এই বিষয়ে আমরা অবগত নই।’

অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সোহেল রানা বলেন, ‘যে রাতে ঘটনাটি ঘটেছে সেই রাতে আমি কলমাকান্দায় ছিলাম। পরে এলাকায় এসে জানতে পারি আমি এই মামলার আসামি। কিন্তু আমি এর সঙ্গে জড়িত না। এটি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমাকে চার্জশিট থেকে বাদ দিতে সুনামগঞ্জ বিজিবির সিও মধ্যনগর থানার ওসিকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধ্যনগর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘সোহেল রানা এ মামলার এজাহার নামীয় আসামি। সভাপতি হিসেবে ইউএনও কীভাবে তার নাম প্রস্তাব করলেন?

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগে সাবেক ইউএনও কমিটি অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। তাই বিষয়টি আমি জানি না। তবে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

কমিটি অনুমোদনকারী সিলেট মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমাদের কাছে সভাপতির প্রস্তাব আসে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে। তখন আমাদের কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তাই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বউকে বাঁচাতে গেলেন শাশুড়ি, প্রাণ গেল দুজনেরই

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বউকে বাঁচাতে গেলেন শাশুড়ি, প্রাণ গেল দুজনেরই
প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বউ-শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ মে) দুপুরে উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের উখরাশাল গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই গ্রামের দুবাইপ্রবাসী জাহাঙ্গীরের স্ত্রী খালেদা আক্তার (৩০) এবং খালেদার শাশুড়ি মেহেরা (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুকে খাবার দেওয়ার জন্য খালেদা গোয়ালঘরে যান। ঘরের দরজার সঙ্গে সংযুক্ত বিদ্যুতের তারের লিকেজের কারণে দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল। দরজা খোলার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে শাশুড়ি মেহেরাও বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।

পরে স্বজন ও স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠান। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বউ ও শাশুড়ি দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, স্ত্রী ও মায়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে দুবাইপ্রবাসী জাহাঙ্গীর জরুরি ছুটি নিয়ে দেশে ফেরার পথে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি দেশে পৌঁছানোর পর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে।

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।