• ই-পেপার

সিংড়ায় অর্ধশতাধিক নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস

শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে পুকুরে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ছয়গাঁ ইউনিয়নের দক্ষিণ পাপরাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। এদের মধ্যে একজনের নাম রিদম (৮) ও অপরজনের নাম রিফাত (৭)।

আরো পড়ুন
ভারতের নতুন অধিনায়ক বাছাই নিয়ে কোচ-নির্বাচকের দ্বন্দ্ব!

ভারতের নতুন অধিনায়ক বাছাই নিয়ে কোচ-নির্বাচকের দ্বন্দ্ব!

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পাপরাইল এলাকার বাবা নৈয়াব ফকিরের বাড়িতে রিফাতকে নিয়ে বেড়াতে আসেন মেয়ে সীমা। দুপুরে রিদম ও রিফাত দুই মামাতো-ফুফাতো ভাই বাড়ির পাশে ফুটবল নিয়ে খেলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, খেলার এক পর্যায়ে বলটি পুকুরের পড়ে গেলে সেটি তুলতে পুকুরে নামে তারা। এতে পানিতে ডুবে যায় তারা। এক পর্যায়ে বাড়ির অন্য সদস্যরা দুই ভাইকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুরে ২ ভাইকে ভাসতে দেখে তাদেরকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর দুই শিশুকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের মামাতো বোন রুমা আক্তার বলেন, সকালে অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পাশের পুকুর থেকে ওদের উদ্ধার করা হয়। ধারণা করছি, ফুটবল পানিতে পড়ে যাওয়ার পর সেটি তুলতে গিয়েই ওরা ডুবে মারা যায়।

আরো পড়ুন
ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

ডিএসসিসির ৭৫ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিই ডেঙ্গু ঝুঁকিতে

 

এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেগমগঞ্জে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নোয়াখালী প্রতিনিধি
বেগমগঞ্জে নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টা পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৪ ঘণ্টা পর সাদ্দাম হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের একটি নির্মাণাধীন সেতুর নিচের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সাদ্দাম একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুর গ্রামের আরজু মেম্বার বাড়ির হকসাবের ছেলে।

নিহতের মামা মো. ইমাম আলী জানান, সাদ্দাম চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। ঈদ উপলক্ষে আবুধাবি থেকে তার মেজো মামা আইয়ুব দেশে ফেরেন। বুধবার বিকেলে সাদ্দাম সাইকেলে করে শরীফপুর ইউনিয়নের গয়েজপুর গ্রামের রুস্তম আলী বেপারী বাড়িতে মামার সঙ্গে দেখা করতে যান।

আরো পড়ুন

পেছানো হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩ মামলার বিচারকাজ

পেছানো হলো মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩ মামলার বিচারকাজ

 

রাত ৯টার দিকে তিনি সেখান থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এক ব্যক্তি ফোন করে নির্মাণাধীন একটি সেতুর নিচে খালে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি সাদ্দামের বলে শনাক্ত করেন। তার দাবি, মরদেহের হাত, নাক ও কান থেকে রক্ত বের হচ্ছিল।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থলে সাদ্দামের মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পাওয়া গেলেও তার ব্যবহৃত সাইকেলটি পাওয়া যায়নি।

তিনি আরো বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ১৪৪ ধারা জারি
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খারুয়া এলাকায় দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চলমান বিরোধ ও সংঘর্ষের আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ আদেশ জারি করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় মাত্র দুই শতক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ভূঁইয়া ও পাশের নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

জারি করা আদেশে বলা হয়, খারুয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, অস্ত্রের মহড়া ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা ঘটছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ আদেশের আওতায় খারুয়া বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, মাইক ব্যবহার, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। তাই দুই পক্ষের সঙ্গেই আমরা কথা বলেছি। তাদের নিয়ে আমরা বসব। তাদের সমস্যা জানব। এরপর থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। বুধবার আব্দুর রউফ ভূঁইয়ার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। পরদিন দুই গ্রামের লোকজন মুখোমুখি অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন রয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে।

পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্যকে “Inspired by Nature. For Climate. For Our Future” ধারণ করে কার্বন নিঃসরণরোধী পশুখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল মহিষ পালন সম্প্রসারণ প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং টেকসই প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এর অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বাংলাদেশ।

দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমে মহিষের খাদ্য তালিকায় ঘাসের সঙ্গে ডালজাতীয় পশুখাদ্য অন্তর্ভুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ডালজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে থাকা নডিউল বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন মাটিতে স্থির করে, ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে এবং মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মহিষের মিথেনসহ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করা সম্ভব, যা পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

একদিকে মহিষের গোবরকে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করলে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত হয়, কৃষি উৎপাদন আরও টেকসই হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। অন্যদিকে, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যে লালিত মহিষ থেকে প্রাপ্ত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য মানুষের জন্য উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহিষের দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি উন্নয়নে সহায়ক।

প্রকল্প পরিচালক ড. সুমনা আক্তার বলেন, ‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা নিয়ে পরিবেশবান্ধব মহিষ পালন, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন কার্বন নিঃসরণ কমানোর চেষ্টা করছি, অন্যদিকে তেমনি নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নেও অবদান রাখছি। দেশের ৩৫টি উপজেলায় পরিচালিত এই কার্যক্রম টেকসই কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। প্রকৃতি আমাদের প্রেরণা, সুস্থ পরিবেশ ও সুস্বাস্থ্য আমাদের অঙ্গীকার।