• ই-পেপার

রামু থানায় সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে এসআই’র আড্ডা

ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন ও উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যায় বলদিয়া ইউনিয়নের সাধুরমোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, ওই গ্রামের মোহাম্মদ আলী আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট করছিলেন। এ খবর পেয়ে  ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে ড্রেজার মালিক পালিয়ে গেলে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি শ্যালো মেশিন ও উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করে প্রকাশ্য নিলাম ডাক প্রদান করা হয়। প্রকাশ্য নিলামে  ৪৪ হাজার ৬০০ টাকা সর্বোচ্চ দাম দিয়ে মোকছেদুল মোমিন মেশিন ও বালু ক্রয় করেন। এছাড়া বালু দিয়ে জমি ভরাট করার অভিযোগে মোহাম্মদ আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খুলনায় সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি

খুলনা অফিস
খুলনায় সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের ন্যায় দিনের কাজ শেষে রকিবুল ইসলাম মতিসহ স্থানীয় ৫/৬ জন সাংবাদিক জলিলের দোকানের পাশে চেয়ার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই যুবক তাদের লক্ষ করে গুলি ছোড়েন। একটি গুলি একটি চেয়ারে আঘাত করে। এ ঘটনায় খুলনার সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রকিবুল ইসলাম মতি বলেন, ‘রাতে আমরা কয়েকজন সাংবাদিক আড্ডা দিচ্ছিলাম। এ সময় দুই যুবক আমাদের গুলি ছোড়ে। একটি গুলি চেয়ারে আঘাত করে।’

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী কারণে গুলির ঘটনা ঘটেছে সেটি তদন্ত করছে।’

এ ঘটনায় বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সাংবাদিকরা।

সাভারে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ১৩

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভারে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ১৩
আটকদের একাংশ। ছবি : সংগৃহীত

সাভারের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের বহনকারী সাতটি মোটরসাইকেল ও চারটি হায়েস গাড়ি, একটি ব্যানার ও দলীয় পতাকা জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ। এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ভাকুর্তা ভাঙা ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 

আটকরা হলেন- চুয়াডাঙার দর্শনা থানার ছয় জেরিয়া গ্রামের মৃত নজির আহম্মদের ছেলে মো. সাগর (৪০), ভোলার সদর থানার ডাঙ্গা বসতপূর্ব গ্রামের মহীদ মণ্ডলের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩৭), পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার নেছড়াপাড়া গ্রামের সহিদ আলীর ছেলে ডাইভার রাজু আহম্মেদ (৩২), শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ি থানার উত্তর চকপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ড্রাইভার মো. অলিল মিয়া (৪২), লালমনিরহাট জেলার সদর থানার পূর্ব ঢাকনাই গ্রামের মো. আইয়ুব আলীর ছেলে মো. রাজিব সরকার (৩১), কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার মটপাড়া গ্রামের সুশান্ত কুণ্ডুর ছেলে প্রদীপ কুণ্ডু (৩৫), ঢাকা জেলার হাজারীবাগ থানা এলাকার মৃত সফিউল্লাহর ছেলে মো. সহিদ হোসেন (৫৭), একই থানার ভাগলপুর লেন এলাকার শুভংকর রাজবংশীর ছেলে রতন রাজবংশী (১৫), ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার চর বরভিলা গ্রামের মোকলেছ মিয়ার ছেলে মো. মোকসেদুর রহমান সোহাগ (১৮), বরিশাল জেলার মুলাদি থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের নুর ইসলাম হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হোসেন (২২), শরীয়তপুর জেলার সখীপুর থানার উকিলকান্দি গ্রামের বাবুল বেপারীর ছেলে মো. জীবন (২০), ভোলা জেলার সদর থানার কানাইনগর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে মো. মোকাম্মেল হোসেন পারভেজ (৩০) এবং কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার নালাদশিন গ্রামের জীবন মিয়ার ছেলে মো. সজিব মিয়া (২৪)।

পুলিশ জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ভাকুর্তা ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে আটক করে। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত সাতটি মোটরসাইকেল ও চারটি হায়েস গাড়ি, একটি ব্যানার ও দলীয় পতাকা জব্দ করা হয়।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘মহাসড়কে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতির সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১৩ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যক্রমের প্রস্তুতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করে আটকদের দুপুরে আদালতে পাঠানো হবে।’

মাথা খুঁজতে মাথা নষ্ট পুলিশের

অনলাইন ডেস্ক
মাথা খুঁজতে মাথা নষ্ট পুলিশের

বরগুনায় নিখোঁজের পর খাল থেকে মো. শামীম (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের এক মাস পারও সে মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের পরপর জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ছাড়া খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচনসহ শামীমের মাথাটি উদ্ধার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা। 

গ্রেপ্তাররা হলেন—সজিব, শ্যামল, সফিক, দুর্জয়, সাগর ও শিমুল। আদালতের নির্দেশে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৮ জুন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না বাজার সংলগ্ন একটি খাল থেকে নিখোঁজ শামীমের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যবসায়ী শামীম স্থানীয় ওই গৌরীচন্না বাজারে হাঁস-মুরগির ব্যবসাসহ বিভিন্ন এলাকায় জায়গাজমি কেনাবেচার কাজ করতেন। এ ছাড়া মানুষের কাছে তার টাকা-পয়সা লেনদেনও ছিল। মরদেহ উদ্ধারের আগের দিন ৭ জুন সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। 

পরদিন সকালে শামীমের ছোটভাই গৌরীচন্না বাজারে যান। সেখানে বিভিন্ন মানুষের কাছে বড় ভাইয়ের খোঁজ জানতে চাইলে রাতে বাজারসংলগ্ন ব্রিজের পাশে গাছের ওপরে বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছেন বলে জানায় স্থানীয়রা। পরে ওই জায়গায় গিয়ে রক্তের দাগ দেখতে পান তিনি। এ ছাড়া আশপাশে খোঁজাখুঁজি করলে শামীমের একটি জুতাও পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানিয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় খালের কচুরিপানার ভেতর থেকে শামীমের মাথাবিহীন মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ ঘটনার এক মাস পার হলে এখন পর্যন্ত ওই ব্যবসায়ীর মাথা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও তারা জড়িত কি না তা-ও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। আর এ কারণে নিহত শামীমের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি হত্যার রহস্য উন্মোচন করে জড়িত আসামিদের নাম প্রকাশসহ দ্রুত শামীমের মাথাটি উদ্ধার করা হোক।  

শামীমের ছেলে মো. নাইম বলেন, আমাদের পরিবারের একমাত্র ভরসাই ছিল বাবা। আমাদের সব চাহিদা তিনিই পূরণ করতেন। এখন আর আমাদের চাহিদা পূরণের কেউ নেই। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই চাওয়া, বাবার মাথাটি উদ্ধারসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করুক। 

শামীমের স্ত্রী রেকসোনা বলেন, এক মাসেরও বেশি হয়েছে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলেও আমার স্বামীর মাথাটি এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে তাদের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। কারণ আমি কারও নাম উল্লেখ করে মামলায় অভিযোগ দিতে পারিনি। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই এবং স্বামীর মাথাটা উদ্ধারের দাবি জানাই। 

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনার পরপরই মামলা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের আলামত পর্যালোচনা করে পরপর ছয়জন আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞেসাবাদ করা হচ্ছে।