• ই-পেপার

মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার : ১৭ বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন কাউসার

কুড়িগ্রামে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ আলাল আটক

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ আলাল আটক
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের আড়ালে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত আলাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন, একাধিক মোবাইল সিম এবং নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক আলাল হোসেন উপজেলার তিলাই ইউনিয়নের জহুর উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, আলাল ধলডাঙ্গা বাজারে একটি ছোট দোকান পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেন ও রিচার্জের কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন নজরদারির পর ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

অভিযানের সময় তার কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত চারটি স্মার্টফোন, বেশ কয়েকটি মোবাইল সিম এবং রিচার্জের কাজে ব্যবহৃত নগদ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে জুয়া আইন-২০২৬-এর অনলাইন জুয়াসংক্রান্ত ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন বলেন, ‘জুয়া, মাদক ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি বহাল রয়েছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অবৈধ অনলাইন জুয়া, অর্থপাচার বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের জুয়া আইন সংস্কার করে নতুন জুয়া আইন-২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকার অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ভূরুঙ্গামারীকে মাদক, চোরাচালান ও জুয়ামুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা ও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ : মীর হেলাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ : মীর হেলাল
ছবি : কালের কণ্ঠ

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, রথযাত্রা এখন সব সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে সম্প্রীতির মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে। তুলসীধাম ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। তিন শ বছরের প্রাচীন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নগরীর নন্দনকানন রথের পুকুরপাড় এলাকায় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রথপরিক্রমা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

ঋষিধাম অধিপতি ও তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপানন্দ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নন্দনকাননের ঐতিহাসিক রথের পুকুরপাড় আজও এখান থেকে রথপরিক্রমার আয়োজন করে ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। হাজারও ভক্তের উপস্থিতি আজ আবারও প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী নানা অজুহাতে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তবে বাংলাদেশের সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ বিএনপির হাতে নিরাপদ।’ 

কেন্দ্রীয় রথযাত্রার উদ্বোধক চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার বলেন, ‘রথযাত্রা ভগবানের বিশেষ কৃপার প্রকাশ। এ সময় ভগবান মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে রাজপথে অবতীর্ণ হন। এ কারণেই রথযাত্রাকে বলা হয় সর্বজনীন করুণার উৎসব।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত। এতে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধর ও সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর, অ্যাডভোকেট সুজন কান্তি দে, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরি সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল, অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সৌরভ প্রিয় পাল প্রমুখ।

সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন ‘বিরতিহীন’ ট্রেন, চালুর আগেই যাত্রীদের সংশয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট-ঢাকা রুটে নতুন ‘বিরতিহীন’ ট্রেন, চালুর আগেই যাত্রীদের সংশয়
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিনের দাবির পর সিলেট-ঢাকা রুটে ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নামে নতুন একটি বিরতিহীন ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের চলতি অধিবেশনে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান।

রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ নামে এক জোড়া নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। তবে বর্তমানে ইঞ্জিন ও কোচের সংকট থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের পরই ট্রেনটি চালু করা হবে।

তিনি জানান, ২০০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) অর্থায়নে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য পৃথক একটি ডিপিপির অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় কোচ ও ইঞ্জিন হাতে পেলেই নতুন ট্রেনটি চালু করা হবে।

তবে ট্রেনটি চালু হওয়ার আগেই যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি আদৌ বিরতিহীন থাকবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি যুক্ত হয়ে লোকাল ট্রেনে পরিণত হবে।

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-ক্রীড়া ও সমাজবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, ‘সিলেট-ঢাকা রুটে একটি সত্যিকার বিরতিহীন ট্রেন জরুরি। সরকার নতুন একটি বিরতিহীন রেল অনুমোদন করেছেন। কিন্তু সেটি কি আদৌ বিরতিহীন থাকবে? কারণ কালনি এক্সপ্রেস যখন চালু হয় তখন সেটি বিরতিহীন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একটি একটি করে এখন সেটি সব স্টেশনে থেমে থেমে যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিরতিহীন মানে বিরতিহীন পথে কোথাও থামবে না। কারণ এক স্টেশনে থামলেই দেখা যায় মন্ত্রী, এমপির প্রভাব খাটিয়ে আরেকটি স্টেশনে থামানো হয়। পরে একে একে সব স্টেশনে থামাতে বাধ্য হয়। বিষয়টি শুরু থেকে নজর দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংগঠন সিলেট কল্যাণ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এহছানুল হক তাহের। তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে বিরতিহীন ট্রেন হবে টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস। কিন্তু বাস্তবে আদৌ হবে কি? কারণ শুরুতে এমন বলা হয়। পরে দেখা যায় এক-দুইটি স্টেশনে থামে। পরে মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিযোগিতা করে নিজেদের এলাকায় থামাতে গিয়ে একটিকে লোকাল ট্রেন বানিয়ে ফেলেন। তাই আমাদের দাবি, শুরু থেকেই সরকার যেন এ বিষয়ে কঠোর থাকেন।’

বর্তমানে সিলেট-ঢাকা রুটে যাত্রীসংখ্যার তুলনায় টিকিটের সংকট, দীর্ঘ ভ্রমণ সময় এবং বিভিন্ন স্টেশনে অতিরিক্ত যাত্রাবিরতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। এ অবস্থায় নতুন ট্রেনটি সত্যিকার অর্থে বিরতিহীনভাবে চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত পটিয়া পৌরসভার ৪০০ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পটিয়া পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে এমপি এনাম বলেন, দুর্যোগ মানুষকে দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত করে না। তাই এই সংকট মোকাবিলায়ও কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকা উচিত নয়। মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকার সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং পটিয়ার কোনো মানুষ যেন খাদ্যকষ্টে না থাকেন, সে লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। শুধু ত্রাণ নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

এমপি এনাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই একটি দায়িত্বশীল ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পটিয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেজামুল হক, পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র, পটিয়া থানার ওসি (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য বদরুল খায়ের চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মিসকাত আহমেদ, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মাবুদ, ইদ্রিস পানু, জাসাস নেতা নাছির উদ্দীন, পৌরসভা কৃষক দলের আহ্বায়ক বুলবুল আহমেদ নান্নু, পটিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব অহিদুল আলম চৌধুরী পিবলু, পৌরসভা যুবদলের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিপন, যুবদল নেতা আল রায়হান সোহেল, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার : ১৭ বছর আগে বাড়ি ছেড়েছিলেন কাউসার | কালের কণ্ঠ