• ই-পেপার

কোরবানির হাট কাঁপাবে ২৭ মণ ওজনের ‘টাইগার’

ফের চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট

দিনাজপুর প্রতিনিধি
ফের চালু হলো বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিট
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি ফের চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। 

দীর্ঘ ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার (২০ মে) বিকেলে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়। বর্তমানে এই ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। 

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ বলছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুন
কোরবানির হাট কাঁপাবে ২৭ মণ ওজনের ‘টাইগার’

কোরবানির হাট কাঁপাবে ২৭ মণ ওজনের ‘টাইগার’

 

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের মধ্যে সবচেয়ে বড় ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। ১২৫ মেগাওয়াট দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। শুধু ১২৫ মেগাওয়াট প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল। 

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি যাত্রা শুরু করে। প্রাথমিকভাবে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন দুটি ইউনিট নিয়ে শুরু হলেও, ২০১৭ সালে আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়। তবে নানা জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনো একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালু করে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারেনি।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক জানান, বুধবার বিকেল ৫ টা ৪৬ মিনিট থেকে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এই ইউনিটটি থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হচ্ছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে এই ইউনিট থেকে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রথম ইউনিট থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। সব মিলিয়ে গড়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। এতে করে লোডশেডিং কমে আসবে। প্রতিদিন দুটি ইউনিট চালু রাখতে ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

আশা প্রকাশ করে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ১২৫ মেগাওয়াট দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সেটিও কিছু দিনের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে।

কুমিল্লায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার মাদক কারবারি কবির হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় কালের কণ্ঠ প্রতিনিধিসহ দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কবির হোসেন (৩৫) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ শশীদল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার কবির হোসেন উপজেলার দক্ষিণ শশীদল গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদক ও চোরাচালানের ১০টি মামলা রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে চট্টলা এক্সপ্রেসে চোরাই পণ্য ও মাদক পাচারের ভিডিও ধারণ করতে গেলে কালের কণ্ঠের সাংবাদিক (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি) আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয় এবং দৈনিক কুমিল্লা প্রতিদিনের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক মো. শরিফুল ইসলাম সুমনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় আবারো হামলা করা হয় এবং এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশ করলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।  

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক শরিফুল ইসলাম সুমন বাদি হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। ওই মামলা বুধবার দুপুর ২টার দিকে কবির হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের কৃষকরা পেলেন ত্রাণ সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের কৃষকরা পেলেন ত্রাণ সহায়তা

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সংস্থা ‘পিপলস ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রাম ইমপ্লিমেন্টেশন’ (পপি)। সংস্থাটি বন্যায় ফসল, গবাদিপশু ও বসতঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়া এক হাজার ২২৫টি পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছে।

বুধবার (২০ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৩ মে থেকে জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আজ ২০ মে হাওরাঞ্চলে এই বিতরণ কার্যক্রম চলেছে। ‘আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান প্রকল্প’ শীর্ষক এ কার্যক্রমের আওতায় কিশোরগঞ্জের ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার এক হাজার ২২৫টি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারকে এই প্রত্যক্ষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি নগদ অর্থ পৌঁছানো হচ্ছে।

এতে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য বহুমুখী নগদ সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে ৬ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত গবাদিপশুর জন্য ১০০ কেজি (২ বস্তা) গো-খাদ্য এবং প্রতিটি পরিবারকে একটি করে উন্নত মানের ত্রিপল বিতরণ করা হচ্ছে।

এর আগে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সবচেয়ে বেশি পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি যেন এই সহায়তা পান, সেজন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। শুরুতেই সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়। এরপর স্থানীয় বাস্তবতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার বাছাইয়ের সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া বা সূচক নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সূচকের ওপর ভিত্তি করে ১৪৬টি ‘টুলবক্স ইন্ডিকেটর’ ব্যবহার করে প্রতিটি খানা বা পরিবারে বিস্তারিত জরিপ চালানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরিপ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। চূড়ান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই তালিকাটি স্থানীয় সর্বসাধারণ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হয়।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই বহুমাত্রিক সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত হাওরবাসীর জরুরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আগামী ফসলের বীজ সংগ্রহ, গবাদিপশু রক্ষা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ত্রাণ নিতে আসা প্রান্তিক কৃষকরা জানান, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও পক্ষপাতহীন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে এই দুর্যোগের সময়ে নগদ টাকা ও গো-খাদ্য পেয়ে তারা অত্যন্ত উপকৃত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটি স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় বাস্তবায়ন করছে পপি। আন্তর্জাতিক এই তহবিলে যৌথভাবে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে ইউকে এইড, সিডা (সুইডেন), নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জার্সি ওভারসিজ এইড এবং হিলটন ফাউন্ডেশন।

পাবনায় অপহরণচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, অপহৃত ২ শিক্ষার্থী উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনায় অপহরণচক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, অপহৃত ২ শিক্ষার্থী উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

পাবনায় অপহরণকারীচক্রের ৮ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এ সময় অপহৃত দুই কলেজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণ কাজে ব্যবহৃত চারটি মোটরসাইকেল ও কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বুধবার (২০ মে) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রেজিনূর রহমান। এর আগের রাতে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের গোপালপুর মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক ও উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন রনি শেখ (২৫), জাহিদ ইসলাম হাতেম (২৫), শান্ত মিয়া (২৪), রাহাত আলী (২০), সেজান হোসেন (২৫), সাজ্জাদ হোসেন (২০), সোহেল রানা (৪০) ও রিফাত হোসেন (১৯)।

উদ্ধারকৃত দুই শিক্ষার্থী হলো, ঈশ্বরদী উপজেলার পিয়ারপুর এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে মাজহারুল ইসলাম প্রান্ত (১৯) এবং তার বন্ধু তানভীর হোসেন তন্ময় (১৮)।

প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) রেজিনূর রহমান জানান, ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে প্রান্ত ও তার বন্ধু তন্ময় মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে ঈশ্বরদী থেকে পাবনা শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপহরণকারীরা প্রান্তের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে জানায় যে, দুইজনকে একটি মেয়েসহ আটক রাখা হয়েছে। 

তিনি জানান, তাদের মুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একইসঙ্গে অপহৃতদের মারধর ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবার বিষয়টি পাবনা জেলা ডিবি পুলিশকে জানায়।