• ই-পেপার

পাবনায় অপহরণ চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার, অপহৃত ২ শিক্ষার্থী উদ্ধার

ওমানে মৃত্যুর ৭ দিন পর চট্টগ্রামের বাড়িতে চার ভাইয়ের লাশ

জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ওমানে মৃত্যুর ৭ দিন পর চট্টগ্রামের বাড়িতে চার ভাইয়ের লাশ
বুধবার সকাল ১১টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া লালানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওমানে মারা ৪ ভাইয়ের জানাজার নামাজে হাজারো মানুষের ঢল। এতে ইমামতি করেন তাদেঁর বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনাম।

ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এক সঙ্গে প্রাণ হারানো আপন ৪ ভাইয়ের লাশ দেশে আনার পর আজ বুধবার সকালে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর বান্দারাজার পাড়া নেওয়া হয়। এসময় তাদের লাশ একনজর দেখতে আগে থেকে পরিবার-স্বজনসহ শত শত মানুষ সেখানে অপেক্ষা করছিল। সকাল ৭টার দিকে রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের কফিনবন্দি লাশ বাড়ির উঠানো পাশাপাশি রাখা হয়।

এ সময় পরিবার-স্বজনদের কান্না-আহাজারিতে এক হৃদয়বিদায়ক দৃশ্যের অবতারণা হয়। কিছুক্ষণ পর মা খদিজা বেগম এসে একে একে দেখতে পান পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ওমানে যাওয়া তার ৪ ছেলের কেউ বেঁচে নেই। মারা যাওয়ার এক সপ্তাহ পর অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার তাঁদের মা দেখে জানতে পারেন তাঁর চার ছেলে আর বেঁচে নেই। মায়ের অজান্তেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেছেন তাঁরা।

এক সঙ্গে চার ছেলের লাশ দেখে খদিজার আহাজারিতে সেখানে উপস্থিত লোকজনের কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। অঝোরে বুক চাপড়ে কান্না করতে করতে বার বার অসুস্থ হয়ে পড়েন মা।

এ দিকে মায়ের পাশাপাশি আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুল ইসলামের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহেদুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা আকতারও। তারাও কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, এক সঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যুতে পুরো রাঙ্গুনিয়া যেন শোকে ভাসছে। যারা সান্তনা দিতে গেছেন সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় লালানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইমামতি করেন নিহত চার ভাইয়ের বেঁচে থাকা একমাত্র ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনাম। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। পরে স্থানীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়েছে ৪ ভাইকে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ৪ ভাইয়ের লাশ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে ওই রাত ১১টার দিকে দুটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে করে লাশগুলো রাঙ্গুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বুধবার ভোরে নিজ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে।

লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকে দলে দলে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাদের দেখতে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেউ আপনজন হারানোর বেদনায়, কেউ প্রতিবেশী হারানোর শোকে, আবার কেউ শৈশবের বন্ধুকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা জানান, একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই। পাশাপাশি রাখা চারটি কফিনের দৃশ্য অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে। পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

নিহতরা বান্দারাজার পাড়া এলাকার মৃত আবদুল মজিদের সন্তান। নিহতদের মধ্যে বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বিবাহিত ছিলেন। তার পরিবারে স্ত্রী, তিন বছর বয়সী এক কন্যা ও তিন মাস বয়সী এক পুত্রসন্তান রয়েছে। মেজ ভাই শাহেদুল ইসলামও বিবাহিত ছিলেন। ছোট দুই ভাই সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম অবিবাহিত ছিলেন।

জানা যায়, গত ১৩ মে সন্ধ্যায় ৪ ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদাহর উদ্দেশে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মত অবস্থাও তাদের নেই। পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের লাশ উদ্ধার করে। গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

মাগুরার সেই আছিয়াকে ভুলে গেছে সবাই, মামলা ঝুলছে আপিলে

শামীম খান, মাগুরা
মাগুরার সেই আছিয়াকে ভুলে গেছে সবাই, মামলা ঝুলছে আপিলে
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

‘মেয়েডা মারা গেছে এক বছরের বেশি হইছে। বিচারে আসামির ফাঁসি হইছে সেও এক বছর হলো। এখনো অপেক্ষায় আছি, কবে আমার আছিয়ার খুনিদের ফাঁসি হবে। এদিকে আমার স্বামী মানসিক ভারসাম্যহীন। তারে সামলাব, নাকি রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের বারান্দায় ঘুরব!’ 

বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলার বাদী আয়েশা খাতুন। বিচারিক আদালতে মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এক বছর। এতে প্রধান আসামি হিটু শেখ পান মৃত্যুদণ্ড। তবে হাইকোর্টে আপিলের ঘুরপাকে থমকে আছে গতি। 

বুধবার মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে আছিয়াদের বাড়িতে যখন এ প্রতিবেদক পৌঁছান, তখন দুপুর। টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে ছোট্ট করে গড়া আছিয়াদের ঘর, যার একটি কক্ষে থাকত তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া আছিয়া। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই সেই ঘর থেকে শোনা গেল দুজনের কথাবার্তা। ঘরের ভেতর থেকে একটু মুখ বাড়িয়ে আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন জানতে চাইলেন পরিচয়। সাংবাদিক শুনেই কথা বলতে চাইলেন না। অনেক অনুরোধের পর বারান্দায় এসে বসলেন।

আরো পড়ুন
রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার সময় স্ত্রীকে আটকে রাখেন সোহেল, সহযোগী ছিলেন আরেকজন

রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার সময় স্ত্রীকে আটকে রাখেন সোহেল, সহযোগী ছিলেন আরেকজন

 

আয়েশা খাতুন বললেন, ‘অনেক বলা হইছে, কিন্তু এই এক বছর কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। আমরা কেমন আছি, কিভাবে বাঁইচে আছি, কেউ জানতে চায়নি। আমরা যখন অপেক্ষা করতেছি আছিয়ার হত্যাকারীর কবে ফাঁসি হবে, তখন জেলে বসে সরকারি খাবার খাচ্ছে আসামি হিটু শেখ। এই অবস্থা একজন মা কী করে সহ্য করতে পারে।’ 

তিনি বলেন, ‘আছিয়া মারা যাওয়ার পর অনেকে আসছিল, প্রতিশ্রুতি দিছিল। কিন্তু এখন কারো কাছে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।’ 

কিছুক্ষণ চুপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার কথা বলেন আয়েশা। জানান, একটি সংগঠন থেকে তাদের একটি গাভি দেওয়া হয়েছিল। এখন সেটার দুধ বেচে চলে সংসার।
 
বলেন, ‘আর যা জোটে তাই খাইয়ে বাঁইচে আছি। সরকারের অনেক চাল-ডাল আছে, হিটু শেখকে খাওয়াক।’ 

আয়েশা বলেন, ‘এতদিনেও মামলার রায় কেন কার্যকর হচ্ছে না, আমরা বুঝতে পারছিনে। তার (হিটু শেখ) ফাঁসি দেখতে আমাদের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে জানিনে। তার দুই ছেলে তো খালাস পেয়ে গেছে। আমার মনে হয় আরো দেরি হলে হিটু শেখও খালাস পেয়ে যাবে।’

আছিয়ার বোন ফাতেমা এখন নতুন সংসারে। তার পুরনো শ্বশুরবাড়িতে গিয়েই ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে ধর্ষণ-হত্যার শিকার হয় আট বছরের আছিয়া। দেশজুড়ে আলোচিত সেই ঘটনার পর অচেতন আছিয়াকে ঢাকা আনা হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। এর আট দিনের মাথায় সারা দেশকে কাঁদিয়ে ঢাকার সিএমএইচে মারা যায় শিশুটি।

শিশু আছিয়ার মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। তোপের মুখে নারী নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন এনে দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তখনকার আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তবে বিচারিক আদালতে দ্রুতগতিতে ফাতেমার শ্বশুর হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হলেও এরপর মামলার আর অগ্রগতি নেই।  

আয়েশা খাতুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আছিয়ারে হত্যার পর মেয়ে ফাতেমারে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়িতে নিয়ে আসি। স্বামীরে তালাক দেওয়াই। কিন্তু অভাবের তাড়নায় কী করব। আবার বিয়ে দিই। কারণ নিজেদেরই খাওয়া জোটে না। সেখানে মেয়েরে কিভাবে রাখব সংসারে।’

যা বলছে বিবাদী পক্ষ

আছিয়াদের বাড়ি থেকে বের হয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া হিটু শেখের বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। দেখা যায়, ঘটনার পর এলাকাবাসীর গুঁড়িয়ে দেওয়া ঘরের জায়গায় সিমেন্টের বস্তা, পলিথিন আর পুরনো টিন দিয়ে খুপড়ি ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানে হিটু শেখের মা রোকেয়া বেগম তার দুই নাতিসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকছেন। 

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার পর কোনোরকমে একটি খুপড়ি ঘরে আমরা রয়েছি। রাতুল ও সজিব (হিটু শেখের দুই ছেলে) নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করে।’ 

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার পর একটি পক্ষ হিটু শেখ ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্দোষ দাবি করেছিল। তবে সে দাবির পক্ষে আদালতে জোরালো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হিটু শেখ নির্দোষ। আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে না।’ 

মামলার বর্তমান অবস্থা

আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম মুকুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হিটু শেখের পক্ষে উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত এ আপিল নিষ্পত্তি হয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর হবে।’

অন্যদিকে হিটু শেখের পক্ষে মাগুরায় রাষ্ট্রপক্ষ নিয়োজিত আইনজীবী সোহেল আহমেদ বলেন, ‘এখন আপিলের কার্যক্রম মূলত ঢাকায় চলছে। আমার জানামতে সবশেষ শুনানি হয়েছে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর। এ বিষয়ে আমার আর কিছু জানা নেই।’

নাগরিক সমাজ ক্ষুব্ধ

মাগুরা জেলা গণকমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী শস্পা বসু কালের কণ্ঠকে  বলেন, ‘আছিয়ার মতো একটি চাঞ্চল্যকর নির্মম ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামির ফাঁসির রায় এখনো কার্যকর না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। বিচার কার্যক্রমের এমন দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়। এর প্রমাণ সম্প্রতি ঢাকার পল্লবীতে রাইসা নামের একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা। এ ধরনের শিশু নির্যাতন প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা চাই হিটু শেখের দ্রুত ফাঁসি হোক।’ 

চট্টগ্রামে এনসিপির সদস্যসচিবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে এনসিপির সদস্যসচিবসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিনসহ ৬ নেতার বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করা নেতা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ মামলাটি করেছেন। সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক কাজী মিজানুর রহমান মামলা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল হক টিপু, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হুজ্জাত উল্লাহ আবির, ছাত্রশক্তির সাদিক আরমান ও মাইনুল হোসেন।

বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, এনসিপি নেতা হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদকে অনবরত বিভিন্ন নাম্বার থেকে হুমকি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানহানির ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। বিচারক মামলা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে এনসিপি ১৬৮ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে ধর্ষণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে থাকা আসামি, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ এনে ২২ নেতা পদত্যাগ করেন। মামলার বাদী সাঈদ তাদের একজন।

জাহিদ হোসেন

শেখ হাসিনার বুকে সাহস থাকলে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করুক

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
শেখ হাসিনার বুকে সাহস থাকলে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করুক
সংগৃহীত ছবি

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনার বুকে সাহস থাকলে দেশে ফিরে এসে আদালতে আত্মসমর্পণ করুক। আমরাও এটি চাই। তিনি বুক ফুলিয়ে দেশে আসবেন, তার কত সাহস আমরাও দেখতে চাই। 

বুধবার (২০ মে) সকালে সাভারের পশ্চিম ব্যাংক টাউন এলাকায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, ৫ আগস্টে আমরা তার সাহস দেখেছি। তিনি আসুক, আইসিটি ফেস করুক, আমরা তো তা-ই চাই। আদালত যদি তাকে খালাস দেয় তাহলে তিনি মুক্ত হয়ে যাবেন। তিনি (শেখ হাসিনা) গত ৫ আগস্ট যেভাবে পালিয়ে গেছেন, এরপর তিনি কিভাবে দেশে ফিরবেন? দেশের মানুষও চায় তিনি দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করুক।

আরো পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেফটিক ট্যাংকে কাজ করতে নেমে ৪ শ্রমিকের মৃত্যু

 

বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে। দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। এই প্রকল্পের পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন যদি কোনো দুর্নীতি করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

এদিকে প্রকল্প পরিচালক মামুনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তার দুর্নীতির বিষয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন তাৎক্ষণিকভাবে পর্যালোচনা মিটিংয়ে অংশগ্রহণ না করে দ্রুত নিজের গাড়ি নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।