ডামুড্যায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় জাতীয় সংগীত চলাকালে সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লুর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম বেপারীর বিরুদ্ধে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার ৩৬ নং মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
হামলাকারী জসিম বেপারী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি। এ ছাড়া সঙ্গে ছিল তাঁর ভাগিনা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন (২৯), মো. সাইম (২২), সিকান্দার হাওলাদার (৬০) ও বিপ্লব (৫০)।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠান চলছিল। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করার সময় হঠাৎ করে সিড্যা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি জসিম বেপারী, তার ভাগিনা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন (২৯), মো. সাইম (২২), সিকান্দার হাওলাদার (৬০) ও বিপ্লবসহ (৫০) কয়েকজন ব্যক্তি এসে হামলা চালায়। চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল হামলার শিকার হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলন করছিলাম। হঠাৎ করেই জসিম বেপারী বাঁশ নিয়ে এসে হামলা শুরু করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় খেলা বন্ধ ছিল। পরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে।’
৩৬ নং মধ্য সিড্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। পাঁচটি বিদ্যালয়ের আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে এসেছিল। অনুষ্ঠান শুরুর সময় হামলার ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ আমিও আহত হই। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে অনুষ্ঠান পুনরায় শুরু করা হলেও আবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।’
সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল হাদী জিল্লু বলেন, ‘আমি উদ্বোধক হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের সময় হঠাৎ হামলার শিকার হই। বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য। পরবর্তীতে তারা প্রথম সিদ্ধান্ত নেয় ক্রীড়া অনুষ্ঠানটি বন্ধ থাকবে। পরে এলাকার সবার কথা বলে এবং পরিস্থিতির বিবেচনায় খেলাটি আমরা পুনরায় শুরু করি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকণ্ঠ ভক্ত বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে অনুষ্ঠান স্থগিত করি। পরে স্থানীয় ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে অনুষ্ঠান চালানোর জন্য বলি।
বিএনপির উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিল্লুর রহমান মধু বলেন, ‘এ বিষয়টি অনেক পুরনো তারপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এর আগে জসিম বেপারীর স্কুলের সঙ্গে দোকানপাট আওয়ামী লীগের আমলে ভাঙচুর করেন। এ ক্ষোভ থেকে এটি করেছেন বলে মনে হচ্ছে।’
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত জসিম বেপারীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





