• ই-পেপার

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন বিএনপি নেতা স্বাধীন

মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় হট্টগোল, তোপের মুখে ফিরে গেলেন সেতুমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীর ওপর প্রস্তাবিত ‘ নবম চীন  মৈত্রী বগা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত সুধি সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই সভা বর্জন করে প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর  বহর অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে সভা মঞ্চে না গিয়ে বগা ফেরিঘাট এলাকায় ত্যাগ করেন মন্ত্রী। মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে বগা ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,  মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বগা ফেরিঘাটের অদূরে সভার আয়োজন করেন  পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি  মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। ওই সভা মঞ্চের ব্যানারে   প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকায় বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দুপুর সোয়া ১ টার দিকে  মন্ত্রী  বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছে সভামঞ্চের দিকে রওনা হলে তাঁর পথ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি শ্লোগানে পুরো ফেরিঘাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে। প্রায় ৪৫ মিনিট মন্ত্রীর পথ অবরুদ্ধ করে রাখে বিএনপি নেতাকর্মীরা। বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে সভা মঞ্চে না গিয়ে একই ফেরিতে ফিরে যান মন্ত্রী। 

ফেরার পথে সড়কের ওপর দাড়িয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।  এসময় তিনি বলেন,  অতিসম্প্রতি এক খুদে শিক্ষার্থী  বগা সেতু বাস্তবায়নের  দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। সেটি  প্রধানমন্ত্রী নজরে   আসলে তিনি আমাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কিভাবে দ্রæততম সময়ে সেতুটি নির্মাণ করা যায় সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ - চীন  বন্ধুত্বর্পূণ সেতু হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে  যা যা করনীয় তা তা করছি। চীন ইতিম্যে নকশা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। বাস্তবায়ন চুক্তি এক মাসের মধ্যে হয়ে যাবে।  চুক্তি সম্পন্ন হলেই এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। 

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে সাথে ছিলেন- পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, পটুয়াখালী-২  আসনের  জামায়াত দলীয় এমপি মাসুদ ও পটুয়াখালী-২ আসনের বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালকুদকার, জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশ সরকার কুট্টি, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক  মোহাম্মাদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। 

ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা প্রসঙ্গে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) তসলিম তালুকদার বলেন, সেতুটি আমাদের প্রাণের দাবি। যা বস্তবায়নের জন্য বিএনপি সরকার উদ্যোগ নিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেতু মন্ত্রী এসেছেন। কিন্তু সেই সভা মঞ্চের ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নেই। এটি এক ধরনের অপরাজনীতি।  এ কাজ টি জামায়াত এমপি মাসুদ ঠিক করেনি।

এবিষয়ে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাও. ইসাহাক বলেন, এটি কোনো রাজনীতিক সভা- সমাবেশ নয়। মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে একটি  সভা। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর ছবি না থাকা নিয়ে বিএনপি হট্টগোল করাটা অযৌক্তিক। তারা বিশৃঙ্খলা করে সভা পন্ড করে দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাউফলের মানুষ।

৮ ঘণ্টা পর নওগাঁ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু

নওগাঁ প্রতিনিধি
৮ ঘণ্টা পর নওগাঁ থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু
সংগৃহীত ছবি

বাস কাউন্টারে হামলা ও শ্রমিককে মারধরের প্রতিবাদে নওগাঁ থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। প্রায় ৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের বাস চলাচল শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর থেকে দফায় দফায় আলোচনার পর বিকেলে সাড়ে ৫টা নাগাদ এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরআগে সকাল ৯টার পর থেকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস রাত দেড়টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। যাত্রী নামিয়ে চালক বাসটি ঘোরানোর সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক কোনো কথা ছাড়াই চালককে মারধর করে। পরে বাসটি কাউন্টারে এলে সেখানে গিয়েও কাউন্টার ভাঙচুরের চেষ্টা করেন তারা। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ যাত্রীরা।

নওগাঁ মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু বলেন, ‘আলোচনা মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা পর বাস চলাচল শুরু হয়েছে। শ্রমিকদের ওপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন পক্ষ থেকেও জড়িতদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

তাহিরপুরে ৫২ পিস ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি আটক

তাহিরপুর ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
তাহিরপুরে ৫২ পিস ইয়াবাসহ ৩ ব্যক্তি আটক
সংগৃহীত ছবি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৫২ পিস ইয়াবাসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কোনাটছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আটককৃতরা হলেন উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী পশ্চিম পুরান লাউড় গ্রামের মৃত শাহেদ আলীর ছেলে মো. শফিক মিয়া (৩২), একই ইউনিয়নের ঘাগড়া গ্রামের মৃত আশিক মিয়ার ছেলে মো. মনির হোসেন (৩৫) এবং কোনাটছড়া গ্রামের জালাল মিয়ার ছেলে মো. রউফ মিয়া (৩২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে কোনাটছড়া গ্রামের তোতা মিয়া পাথর মিলের সামনে তিন ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির জন্য চেষ্টা করছিলেন। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে উপজেলার বাদাঘাট তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের দেহ তল্লাশি করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৯ হাজার ২১০ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাদের সঙ্গে থাকা আরো দুই ব্যক্তি পালিয়ে যান।

উপ-পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাসীর সহায়তায় ৫২ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া পলাতক দুজনকেও মামলার আসামি করা হবে।

পীরগঞ্জ

সামনে কোরবানি, কামারশালায় ব্যস্ততা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
সামনে কোরবানি, কামারশালায় ব্যস্ততা
ছবি : কালের কণ্ঠ

আগুনের ভাটিতে লোহা পুড়ে লাল। সেখান থেকে সাঁড়াশি দিয়ে তা তুলে ধরা হচ্ছে নেহাইয়ের ওপর। এরপর গরম লোহার ওপর ঢপাঢপ হাতুড়ির আঘাত, আরো কিছু ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এভাবে তৈরি করা হচ্ছে দা, ছুরি, চাপাতি, বঁটিসহ মাংস কাটার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। 

দিন দশেক পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদে কোরবানির জন্য ধারালো সরঞ্জাম জরুরি। ফলে এই সময় এর চাহিদা থাকে ব্যাপক। এসব সরঞ্জাম তৈরির জন্য সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। 

এদিকে কাজের চাপ থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা না থাকায় হতাশ কারিগররা। তারা জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের আগে কামারশালাগুলোতে জমে ওঠে বেচাকেনা। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য মানুষ নতুন দা-ছুরি কিনতে ভিড় করেন। কিন্তু এবার লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় সরঞ্জামের দামও বেড়েছে। ফলে অনেকেই নতুন জিনিস কেনার পরিবর্তে পুরনো দা-ছুরিতে ধার দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছেন। এতে বিক্রি কমে গেছে। 
সরেজমিনে উপজেলার খালাশপীর,চতরা, শানেরহাট, ভেন্ডাবাড়ি কামারশালায় গিয়ে দেখা যায়, আগুনের ভাটির পাশে বসে ঘাম ঝরিয়ে লোহা পেটাচ্ছেন কারিগররা। কেউ পুরনো ছুরিতে ধার দিচ্ছেন, কেউবা নতুন দা তৈরি করছেন। তবে দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। মাঝে-মধ্যে দুই-একজন এলেও দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। 

কারিগর আব্দুর রউফ বলেন, ‘এবার কাজ খুব কম। লোহার দাম অনেক বেড়েছে। গত বছর জিনিসের চাহিদা বেশি ছিল, কিন্তু এবার সেই অনুযায়ী বিক্রি নাই। আল্লাহ যেভাবে রাখছে সেভাবেই দিন চালাচ্ছি।’ আরেক কারিগর শাকিল বলেন, ‘ক্রেতা আসে, কিন্তু দাম একটু বেশি শুনলেই ঘুরে যায়। আগে দিনে অনেক বিক্রি হতো, এখন তেমন হচ্ছে না।’ 

বিক্রেতা গাবুর আলী জানান, আগের মতো বাজার নাই। মানুষ এখন নতুন জিনিস কম কিনছে। লোহার দাম বাড়ার কারণে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে অসন্তোষ। 

রংপুর মর্ডান এলাকা থেকে আসা আকরামুল বলেন, ‘গরুর গোশত কাটার জন্য দা নিতে এসেছি। কিন্তু একেকটি ছুরি ও দা’র দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাই চিন্তা করে কিনতে হচ্ছে ‘ আরেক ক্রেতা রজ্জব আলী বলেন, ‘সবকিছুর দাম বাড়ছে। সংসার চালাতেই কষ্ট হচ্ছে। তাই নতুন জিনিস কেনা কঠিন হয়ে গেছে।’