• ই-পেপার

প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করছে না : এম‌পি মুজা‌হি‌দ

চট্টগ্রাম

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম নরেন ধর (৩৮)। তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর খুলশী এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

আমিনুর রশিদ বলেন, ‘সকালে দূতাবাস থেকে ফোন পেয়ে একটি লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টো লেনে চলছে অবৈধ থ্রি হুইলার

ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

আবুল বাশার রানা , চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টো লেনে চলছে অবৈধ থ্রি হুইলার
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনে, উল্টো লেনে প্রতিযোগিতা দিয়ে চলছে অবৈধ মোটরচালিত থ্রি হুইলার। যার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। চৌদ্দগ্রামে দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশ দাবি করছে প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকার কারণে এই সকল অবৈধ মোটরচালিত থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের দাবি পুলিশের সদিচ্ছা থাকলেই এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের চার লেন মহাসড়কটি জুড়ে উল্টো লেনে প্রতিযোগিতা করে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এসব অটোরিকশাগুলো চলাচল করলেও এই ক্ষেত্রে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে করে প্রতিদিন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার সঙ্গে যাত্রীবাহী গণপরিবহন ও মালবাহী ট্রাক-কার্ভাড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। 

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মহাসড়কের উপজেলার বালুজুরী নামক স্থানে চট্টগ্রাম লেনে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জেসমিন আক্তার (৪২) ও তার চার বছরের মেয়ে নুসরাত জাহান নিহত হয়। এই সময় পরিবারের আরো ৪ সদস্য আহত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাসটি তার লেন ঠিক রাখলেও উল্টো দিক থেকে অটোরিকশাটি এলে সজোরে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিশেষ করে মহাসড়কের রাজ্জাক টাওয়ারের সামনে গত ১ মাসে ৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশার সাথে বিভিন্ন পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে করে অনেকে আহত হচ্ছে। আবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকে মৃত্যুবরণ করছে। 

সরেজমিনে মঙ্গলবার মহাসড়কের বিভিন্নস্থান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঢাকামুখী লেনগুলোতে গাড়ি সঠিকভাবে চললেও উল্টো দিক থেকে অটোরিকশা প্রতিযোগিতা দিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে। বিশেষ করে মহাসড়কের মিয়াবাজার, ছুপুয়া রাস্তার মাথায়, বাবুচি বাজারসংলগ্ন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পেছনের লেন, লাটিমি, পদুয়া, গাংরা, চিওড়া, আমজাদের বাজার, বাতিসা, চৌদ্দগ্রাম বাজার, চৌদ্দগ্রাম পৌর সদর এলাকায় স্থানগুলো দিয়ে অবাধে এসব অবৈধ অটোরিকশা দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা দিয়ে ওভারেরটেক করার চেষ্টা করছে। 

মিয়া বাজারের আমান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়ার বাজার এলাকায় উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণে অনেকগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই মিয়ার বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অনেকজন প্রাণ হারিয়েছে। 

চৌদ্দগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, সরকার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কটিকে নিরাপদ করতে ফোর লেন করলেও এর সুফল জনগণ পাচ্ছে না। দূরপাল্লার পরিবহণগুলো তাদের লেনে চলাচল করলেও উল্টো দিক থেকে অটো রিক্সা প্রতিযোগিতা দিয়ে চলাচল করছে এতে করে প্রায় সময় মহাসড়কে অটো রিক্সার সঙ্গে দূরপাল্লার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই সকল ঘটনায় তাজা প্রাণহানী হচ্ছে। 

তিশা পরিবহণের বাস চালক হাশেম মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রি হইলার চলার কোন নিয়ম নেই। তাদের নাই কোন প্রশিক্ষণ নাই লাইসেন্স, নিয়ম না মেনেই উল্টো পথে গাড়ি চালায়। তারা হঠাৎ করে মহাসড়কের মাঝখানে লেন পরিবর্তন করে, এতে করে অনেক সময় আমরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ নিতে কষ্ট হয়। যার কারণে দূর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন কার্যত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন এই সকল অটো রিক্সার দৌরাত্ব্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশেই উল্টো পথে গাড়ি চলার বিরুদ্ধে এবং অবৈধ থ্রিলারের বিরুদ্ধে আমরা হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জনবল সংকট থাকায়, শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’ 

তিনি আরো বলেন অবৈধ থ্রি হুইলার মহাসড়ক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অটো রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে আমরা এসব অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না।

আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বরগুনার আমতলীতে একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা (ছোনাউঠা) গ্রামের হিন্দুপাড়ার মুকুন্দ বাইনের ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

সুরতহাল রিপোর্ট শেষে বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেনি। তিনি কিভাবে এখানে এসেছেন, তা-ও জানা যায়নি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

সিএএফের সংবাদ সম্মেলন

উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি

খুলনা অফিস
উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি
খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) জেলা কমিটি। ছবি: কালের কণ্ঠ

উপকূলের পরিবেশগত সংকট নিরসন ও সেখানকার অধিবাসীদের রক্ষা জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা দাবি জানিয়েছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ)। একই সঙ্গে  জলবায়ু খাতে গত ১০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের খুলনার জেলা কমিটির নেতারা এসব দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক কৌশিক দে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন; দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি;  সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা; জাতীয় বাজেটে আলাদা পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা; পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন; ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ গ্রহণ; টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা; ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলাসহ ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ এবং  ২০১৭-১৮ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ। এভাবে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি ও সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ ও ৫.২১ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে। তাই দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ুঝুঁকি, দারিদ্র্য ও বিপদাপন্নতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলাসহ অন্যান্য উপকূল-সংলগ্ন উপজেলাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও পরিধি বৃদ্ধি, ক্লাস্টারভিত্তিক বসবাস পরিকল্পনা প্রণয়ন, নদী ও খালগুলো অবিলম্বে ড্রেজিং, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যকরভাবে সচল, সমুদ্রগামী জেলের বীমাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, সদস্যসচিব সাংবাদিক উত্তম মণ্ডল, কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, আনিসুর রহমান কবির, আয়শা আক্তার জ্যোতি, বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের টিম লিডার শারমিন আরা লিনা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিপ্লব কুণ্ডু, অ্যাডভোকেসি অফিসার বিপাশা অধিকারী, প্রকল্প কর্মকর্তা ইভানা পারভীন প্রমুখ।