• ই-পেপার

আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার

সিএএফের সংবাদ সম্মেলন

উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি

খুলনা অফিস
উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি
খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) জেলা কমিটি। ছবি: কালের কণ্ঠ

উপকূলের পরিবেশগত সংকট নিরসন ও সেখানকার অধিবাসীদের রক্ষা জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা দাবি জানিয়েছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ)। একই সঙ্গে  জলবায়ু খাতে গত ১০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের খুলনার জেলা কমিটির নেতারা এসব দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক কৌশিক দে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন; দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি;  সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা; জাতীয় বাজেটে আলাদা পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা; পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন; ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ গ্রহণ; টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা; ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলাসহ ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ এবং  ২০১৭-১৮ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ। এভাবে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি ও সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ ও ৫.২১ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে। তাই দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ুঝুঁকি, দারিদ্র্য ও বিপদাপন্নতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলাসহ অন্যান্য উপকূল-সংলগ্ন উপজেলাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও পরিধি বৃদ্ধি, ক্লাস্টারভিত্তিক বসবাস পরিকল্পনা প্রণয়ন, নদী ও খালগুলো অবিলম্বে ড্রেজিং, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যকরভাবে সচল, সমুদ্রগামী জেলের বীমাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, সদস্যসচিব সাংবাদিক উত্তম মণ্ডল, কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, আনিসুর রহমান কবির, আয়শা আক্তার জ্যোতি, বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের টিম লিডার শারমিন আরা লিনা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিপ্লব কুণ্ডু, অ্যাডভোকেসি অফিসার বিপাশা অধিকারী, প্রকল্প কর্মকর্তা ইভানা পারভীন প্রমুখ।

পাবনায় টাকা ছাড়াই খাওয়া যাচ্ছে লিচু

প্রবীর সাহা, পাবনা
পাবনায় টাকা ছাড়াই খাওয়া যাচ্ছে লিচু
ছবি : কালের কণ্ঠ

৮ বিঘার জমির ওপর ২০০ লিচু গাছের বাগান। জ্যৈষ্ঠ মাসের রসালো ফল লিচু। গাছে নানা জাতের থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচুর। এটি এমন একটি বাগান, যে বাগানের লিচু খেতে লাগে না একটি টাকাও। ইচ্ছামতো লিচু খাওয়া যাবে। এটি পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আলোকদিয়ার গ্রামের কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীমের লিচু বাগানের গল্প। যে গল্প রূপকথার গল্পের মতো।

এলাকাবাসী, হতদরিদ্র, দর্শণার্থী ও বন্ধু-স্বজনদের কথা চিন্তা করেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বাগান মালিক পাবনা শহরের ব্যবসায়ী ও কিমিয়া সেন্টারের স্বত্বাধিকারী কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম। চিকিৎসাসেবা, শিক্ষাবৃত্তি, মেধাবৃত্তি, বৃক্ষরোপণ, কিডনি ও হার্টের চিকিৎসাসেবা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তিনি এক নামে খ্যাতি কুড়িয়েছেন। ব্যবসার পাশাপাশি তিনি শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ সড়কে পাবনা কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কৃষি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন।

বাগান পরিচর্যাকারীরা বলছেন, প্রায় দেড় যুগ আগে তিনি পৈত্রিক ও নিজস্ব অর্থে কেনা জমিতে এই লিচুর বাগান করেন। লিচু বাগানের ২০০ এর অধিক গাছে থোকায় থোকায় নানা জাতের লিচুতে পরিপূর্ণতা পায় লিচু বাগান। খাবার উপযোগী হলেই স্থানীয় গ্রামবাসী, আশপাশের লোকজন, দরিদ্র, হতদরিদ্র, বন্ধু-বান্ধব স্বজনরা এসে ইচ্ছামতো বিনা পয়সায় এই লিচু খেতে পারেন। নিজ হাতে লিচু ভেঙে খাওয়া এ যেন এক বিনোদনের আয়োজন। এই বাগানের লিচু কোনো দিন বিক্রি করা হয়নি। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখি যেন এই লিচু খেতে পারে এ জন্য বাগান করা হয়েছে উন্মুক্ত। নেই কোনো বাউন্ডারি ওয়াল, সীমানাপ্রাচীর বা কাঁটাতারের বেড়া। খাচা বা নেট ব্যবহার একেবারেই নেই।

00

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই কৃষি উদ্যোক্তা। গ্রামের একপাশে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদী। নদীর পাড়ের বিপরীতের খোলা মাঠ। নানা ফসলের সমারোহের মাঝেই গড়ে তুলেছেন এই লিচুর বাগান। সারিবদ্ধ গাছগুলো টসটসে লিচুতে ছেয়ে গেছে। নানা শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ ও শিশুরা আসছেন বিনা পয়সার বাগানে লিচু খেতে। ইচ্ছামতো লিচু খেয়ে পরিবারের জন্য নিয়েও যাচ্ছে অনেকে।

বাগান দর্শনে আসা গণমাধ্যমকর্মী ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল বলেন, ‘খবর পেয়ে ছুটে এসেছি স্বচক্ষে এমন উদ্যোগ দেখার জন্য। এসে খুব ভালো লাগছে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায়। মানুষ ইচ্ছা করলেই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ কিমিয়া সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা জামাল শামীম।’

আরেক দর্শণার্থী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সম্মান আর সম্পদ দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আর এই বান্দা ইচ্ছে করলেই মানবিক, উদার আর জনবান্ধব হতে পারেন। বর্তমানে কেউ কাউকে ছাড় দেন না। সেখানে কমার্শিয়াল যুগে নিজ খরচে ২০০ গাছের লিচু বিনা পয়সায় খাওয়ার জন্য উন্মুক্ত করা এটা কী ভাষায় প্রকাশ করব ভেবে পাচ্ছি না।’

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রাজু আহমেদ জানান, ‘ভালো কাজে গ্রামকে আলোচিত করতে একজনই যথেষ্ঠ। যার প্রমাণ আমাদের গ্রামের কৃতি সন্তান শামীম। তার এই মহতি উদ্যোগের কারণে গ্রামের অনেক মানুষকে বাজার থেকে লিচু কিনে খেতে হয় না। যাদের লিচু খাওয়ার ইচ্ছে হয় তারা যে কোন সময়ে লিচু খেতে বাগানে চলে আসেন। বাগানে আসতে কোন দরজা পেরোতে হয় না। কারো অনুমতি লাগে না।’

লিচু বাগানের মালিক, কিমিয়া সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোস্তফা জামাল শামীম বলেন, ‘রাসায়নিক সার বা কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না এই লিচু বাগানে। বাগানে দেওয়া হয় না কোনো নেট বা বন্ধনি। মানুষের পাশাপাশি পশুপাখির জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে এই লিচু বাগান। গ্রামের মানুষের পাশাপাশি ছোট্ট বাচ্চাদের খুশি করতেই এই উদ্যোগ। যেন বাচ্চারা আনন্দের সাথে নিজে হাতে লিচু পেড়ে খেতে পারে। আমি সব সময় বাগানে বা গ্রামে থাকি না। কিন্তু যখন শুনি বাগানে নানা শ্রেণির মানুষ দল বেঁধে এসে লিচু ভেঙে খাচ্ছে শুনেই তৃপ্তি পাই, ভালো লাগে।’ 

11

পাবনা খামার বাড়ির অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরে আলম উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘দেশের আরো যারা লিচু বাগান মালিক আছেন, তারা যদি এমন উদারতা দেখান তাহলে সাধারণ মানুষ বিনা পয়সায় লিচু খেতে পারবেন। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও কেনার সামর্থ্য না থাকায় লিচু খাওয়া থেকে বঞ্চিত হন।’

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মানুষের জন্য মানবিক, মানবতা আর মমত্ববোধের জায়গায় এক অনন্য উদাহরণ কৃষিবিদ তথা কৃষি উদ্যোক্তা মোস্তফা জামাল শামীম। কৃষি উদ্যোক্তা শামীমের মতোই সমাজের আনাচে-কানাচে এমন উদ্যোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এমনটাই প্রত্যাশা করেন তারা।

তহশিলদারদের পজিটিভ ধারণা তৈরি করতে হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
তহশিলদারদের পজিটিভ ধারণা তৈরি করতে হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন শেষে স্টল পরিদর্শন করছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের (তহশিলদার) পজিটিভ ইমেজ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। আজ মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন শেষে স্টল পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।  

তিনি বলেন, ‘উনাদের বিষয়ে আমার পজিটিভ ধারণা নেই। আমি আশা করব এখান থেকে আপনারা বের হয়ে আসবেন এবং পজিটিভ ধারণা তৈরি করবেন। জীবন একটাই। বেশি সম্পদের মালিক হবেন, সালমান এফ রহমানকে দেখুন কী পরিণতি।’ 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা দেখেছি জমির কাগজ তুলতে গিয়ে মানুষকে কতটা হয়রানি হতে হয়েছে। বাংলাদেশের ৪১ শতাংশ মানুষ ভূমির ওপর নির্ভরশীল। আমাদের সরকার ভূমির সেবাটাকে জনবান্ধব করতে চায়। আর যেন কেউ একজনের জমি আরেকজন দখল করতে না পারে। আগামী দিনে একটা বিষয় আসবে কাগজ যার, দলিল যার জমি তার। আমাদের সন্তানদের যদি এখনি জমিসংক্রান্ত ধারণা দেওয়া হয় তাহলে আগামী দিনে জীবন-জীবিকা চলার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সিফাত ই রাব্বান, সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় জজ কোর্টের পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চৌদ্দগ্রাম

ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা, ফুটপাতে মৃত্যুফাঁদ

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল পথচারীদের দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন দাবি

আবুল বাশার রানা, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা, ফুটপাতে মৃত্যুফাঁদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ড্রেনের স্ল্যাব (ঢাকনা) প্রায় এক মাস ধরে ভাঙা। ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ড্রেনের একটি বড় অংশের স্ল্যাব ভেঙে পড়ায় তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী ট্রাক মহাসড়কের পূর্ব পাশের ড্রেনের ওপর উঠে যায়। এতে  ড্রেনের অনেকগুলো আরসিসি স্ল্যাব ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন পার হলেও স্ল্যাবগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রাম বাজারের এই অংশটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। এর পাশেই বহুতল মার্কেট ও দুটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অপর পাশে রয়েছে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ড্রেনের ওপর ঢাকনা থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এত দিন এটি ফুটপাত হিসেবে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছিল। স্ল্যাবগুলো ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

কাকলী আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগে আমরা ড্রেনের ওপর দিয়ে নিরাপদে হেঁটে যাতায়াত করতাম। এখন স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেইন রোড দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।’

ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা থাকায় বাজারের পূর্ব পাশের দোকানপাটে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া কমে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ঢাকনা না থাকায় ড্রেনের ভেতরের ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বেড়েছে মশার উপদ্রব। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

এদিকে, ড্রেনের স্ল্যাবগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি উঠলেও দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ড্রেনটি সওজের আওতাধীন হলেও এর সংস্কার ও পরিষ্কার করার  বিষয়টি দেখে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা। তাই বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল আমিন বলেন, ড্রেনটি পৌর এলাকার হলেও এর দায়-দায়িত্ব সওজের, পৌরসভার নয়। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।’

তবে পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিগগিরই ড্রেনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’