গরুটির গায়ের রং সাদা, আকারে বিশাল। স্বভাবেও বেশ শান্তশিষ্ট। তাই তার নাম রাখা হয়েছে ‘সাদাবাবু’। গরুটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও বেশ। তাই তো প্রতিদিন গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। শিশুরাও তার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠছে। যেন ঈদের আগেই তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে।
গরুটির মালিক জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, ‘সাদাবাবু’ খুব শান্ত স্বভাবের। বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা তার সঙ্গে খেলাধুলা করলেও সে কখনো কাউকে আঘাত করেনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আলাদা একটা মায়া তৈরি হয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুটি বিক্রির কথা উঠতেই পরিবারের সবাই আবেগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘সাদাবাবু’কে দেখলেই মনে হয় কত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। গরুটি অনেক শান্ত স্বভাবের। এলাকার শিশুরাও ভয় ছাড়াই তার কাছে যায়। প্রতিদিন মানুষ শুধু ‘সাদাবাবু’কে একনজর দেখতে আসছে। এত সুন্দর আর বিশাল সাদা গরু এলাকায় খুব কম দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষ গরুটি দেখতে আসছে।
আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু
এদিকে ‘রাজাবাবু’ নামের আরেকটি গরু নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল জেগেছে। এই গরুটিও আকারে বিশাল। গায়ের রং কালো, শরীরের কিছু কিছু অংশে সাদা দাগ। এই গরুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, গরুটি সারা রাত ডাকাডাকি করে। অনেকেই তার ডাক শুনে মজা করে বলে, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার।
গরুটির মালিকের নাম সিরাজুল ইসলাম রাজা। তিনি কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। রাজা বলেন, ‘রাজাবাবু’ শুধু একটা গরু নয়, সে আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সারারাত ডাকাডাকি করে পুরো বাড়ি পাহারা দিত। তার ডাকের শব্দ শুনে আশপাশে চোর-ডাকাতও ভয় পেত। এত দিন নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি, এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই বুকটা ভেঙে যায়। তবে সংসারের প্রয়োজনে এবারের ঈদে অন্তত ৭ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্থানীয় যুবক রাকিব হোসেন বলেন, রাজাবাবু শুধু বড় গরুই নয়, পুরো এলাকায় তার একটা পরিচিত নাম হয়ে গেছে। রাত হলেই তার ডাকার শব্দে সবাই বুঝতে পারত আশপাশে কেউ ঘোরাঘুরি করছে। অনেকেই মজা করে বলত, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার। এখন তাকে বিক্রি করা হবে শুনে খারাপ লাগছে।
স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতির এই গরু দুটিকে ঘিরে কালাই উপজেলায় ঈদের আগাম আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ গরু দুটি দেখতে ভিড় করছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউবা ভিডিও তৈরি করছে। সব মিলিয়ে ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কালাই উপজেলায় ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ মতো বড় ও সুস্থ গরু স্থানীয় খামারিদের পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফল। এটি প্রমাণ করে, আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন করলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হবেন।