• ই-পেপার

চৌদ্দগ্রাম

ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা, ফুটপাতে মৃত্যুফাঁদ

  • ঝুঁকি নিয়ে চলাচল পথচারীদের
  • দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন দাবি

তহশিলদারদের পজেটিভ ধারণা তৈরি করতে হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
তহশিলদারদের পজেটিভ ধারণা তৈরি করতে হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তিনদিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধন শেষে স্টল পরিদর্শন করছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের (তহশিলদার) পজেটিভ ইমেজ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। আজ মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে তিনদিন ব্যাপী ভূমি সেবা মেলা উদ্বোধন শেষে স্টল পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।  

তিনি বলেন, ‘উনাদের বিষয়ে আমার পজেটিভ ধারণা নাই। আমি আশা করবো এখান থেকে আপনারা বের হয়ে আসবেন এবং পজেটিভ ধারণা তৈরি করবেন। জীবন একটাই। বেশি সম্পদের মালিক হবেন, সালমান এফ রহমানকে দেখুন কি পরিণতি।’ 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা দেখেছি জমির কাগজ তুলতে গিয়ে মানুষকে কতটা হয়রানি হতে হয়েছে। বাংলাদেশের ৪১ শতাংশ মানুষ ভূমির উপর নির্ভরশীল। আমাদের সরকার ভূমির সেবাটাকে জনবান্ধব করতে চান। আর যেন কেউ একজনের জমি আরেকজন দখল করতে না পারে। আগামী দিনে একটা বিষয় আসবে কাগজ যার, দলিল যার জমি তার। আমাদের সন্তানদের যদি এখনি জমি সংক্রান্ত ধারণা দেয়া হয় তাহলে আগামী দিনে জীবন জীবিকা চলার ক্ষেত্রে তা সহায়ক হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সিফাত ই রাব্বান , সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, পঞ্চগড় জজ কোর্টের পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হোসাইনসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ।

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

বিস্ফোরক সংকটে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ।

খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

খনির মহাব্যবস্থাপক জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান খনিতে পৌঁছাবে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।

আরো পড়ুন
৫ লাখ টাকার জন্য প্রবাসীকে ৮ টুকরা, আদালতে প্রেমিকার বোনের জবানবন্দি

৫ লাখ টাকার জন্য প্রবাসীকে ৮ টুকরা, আদালতে প্রেমিকার বোনের জবানবন্দি

 

রফিজুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে পাথর মজুদ থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধে বাজারে পাথরের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে এর আগেও কয়েক দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। সবশেষ ২০২ ও ২০২৫ সালে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।

দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি হিসেবে পরিচিত মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক তিন শিফটে খনিতে কাজ করছেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদারি প্রতষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)-এর সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে খনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।

শিক্ষিকার মৃত্যুর ভিডিও দেখে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
শিক্ষিকার মৃত্যুর ভিডিও দেখে শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

নওগাঁর বদলগাছীতে সিএনজি ও ধান মাড়াই মেশিনের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক স্কুল শিক্ষক উম্মে কুলছুম নিহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় এই শিক্ষকের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া তাসনিম নামের এক শিক্ষার্থীরও মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার চাকরাইল বটতলি মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষক উম্মে কুলছুম বদলগাছী সদরের দরগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বদলগাছী লাবণ্য প্রভা ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার সঙ্গে থাকা একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সদর উপজেলার গোড়শাহী গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ জাহান আহত হন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম বাড়িতে মোবাইলে তার শিক্ষকের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ভিডিও দেখে বলে ম্যাডাম নেই, এভাবে চলে যাবে, এটা কথা হলো। এই কথা বলেই শিক্ষার্থী তাসনিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে মৃত ঘোষণা করে। এ সময় হাসপাতালের বারান্দায় শিক্ষাকার লাশ পড়েছিল। তারপর শিক্ষার্থীর মৃত্যু। 

শিক্ষার্থীর বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার মেয়েটি ফেসবুকে তার শিক্ষক উম্মে কুলছুমের মৃত্যুর খবর দেখে সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে বদলগাছী হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।’

বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার আসাদুজ্জামান নাহিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থী কোনো আকস্মিক ঘটনা দেখে হয়তো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। তবে এখনই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাবণ্য প্রভা ও কমিউনিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষিকা সিএনজিযোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার খাতা নেওয়ার জন্য রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। চাকরাইল বটতলী মোড় এলাকায় পৌঁছালে মাতাজিহাট থেকে আসা ধান মাড়াই (বুঙ্গা) মেশিনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সহকারী শিক্ষক উম্মে কুলছুম মারা যান এবং মমতাজ বেগম আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত যান দুটি জব্দ করে।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার শিক্ষকের মৃত্যুর খবর দেখে একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

‘সাদাবাবু’র শান্ত স্বভাব, পাহারায় পটু ‘রাজাবাবু’

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
‘সাদাবাবু’র শান্ত স্বভাব, পাহারায় পটু ‘রাজাবাবু’
সংগৃহীত ছবি

গরুটির গায়ের রং সাদা, আকারে বিশাল। স্বভাবেও বেশ শান্তশিষ্ট। তাই তার নাম রাখা হয়েছে ‘সাদাবাবু’। গরুটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও বেশ। তাই তো প্রতিদিন গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। শিশুরাও তার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠছে। যেন ঈদের আগেই তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে। 

গরুটির মালিক জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, ‘সাদাবাবু’ খুব শান্ত স্বভাবের। বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা তার সঙ্গে খেলাধুলা করলেও সে কখনো কাউকে আঘাত করেনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আলাদা একটা মায়া তৈরি হয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুটি বিক্রির কথা উঠতেই পরিবারের সবাই আবেগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘সাদাবাবু’কে দেখলেই মনে হয় কত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। গরুটি অনেক শান্ত স্বভাবের। এলাকার শিশুরাও ভয় ছাড়াই তার কাছে যায়। প্রতিদিন মানুষ শুধু ‘সাদাবাবু’কে একনজর দেখতে আসছে। এত সুন্দর আর বিশাল সাদা গরু এলাকায় খুব কম দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষ গরুটি দেখতে আসছে।

আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু

 

এদিকে ‘রাজাবাবু’ নামের আরেকটি গরু নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল জেগেছে। এই গরুটিও আকারে বিশাল। গায়ের রং কালো, শরীরের কিছু কিছু অংশে সাদা দাগ। এই গরুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, গরুটি সারা রাত ডাকাডাকি করে। অনেকেই তার ডাক শুনে মজা করে বলে, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার।

গরুটির মালিকের নাম সিরাজুল ইসলাম রাজা। তিনি কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। রাজা বলেন, ‘রাজাবাবু’ শুধু একটা গরু নয়, সে আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সারারাত ডাকাডাকি করে পুরো বাড়ি পাহারা দিত। তার ডাকের শব্দ শুনে আশপাশে চোর-ডাকাতও ভয় পেত। এত দিন নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি, এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই বুকটা ভেঙে যায়। তবে সংসারের প্রয়োজনে এবারের ঈদে অন্তত ৭ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্থানীয় যুবক রাকিব হোসেন বলেন, রাজাবাবু শুধু বড় গরুই নয়, পুরো এলাকায় তার একটা পরিচিত নাম হয়ে গেছে। রাত হলেই তার ডাকার শব্দে সবাই বুঝতে পারত আশপাশে কেউ ঘোরাঘুরি করছে। অনেকেই মজা করে বলত, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার। এখন তাকে বিক্রি করা হবে শুনে খারাপ লাগছে।

স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতির এই গরু দুটিকে ঘিরে কালাই উপজেলায় ঈদের আগাম আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ গরু দুটি দেখতে ভিড় করছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউবা ভিডিও তৈরি করছে। সব মিলিয়ে ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কালাই উপজেলায় ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ মতো বড় ও সুস্থ গরু স্থানীয় খামারিদের পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফল। এটি প্রমাণ করে, আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন করলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হবেন।