• ই-পেপার

শিক্ষিকার মৃত্যুর ভিডিও দেখে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

চৌদ্দগ্রাম

ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা, ফুটপাতে মৃত্যুফাঁদ

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল পথচারীদের দ্রুত সংস্কার বা প্রতিস্থাপন দাবি

আবুল বাশার রানা, চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা)
ড্রেনের স্ল্যাব ভাঙা, ফুটপাতে মৃত্যুফাঁদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ড্রেনের স্ল্যাব (ঢাকনা) প্রায় একমাস ধরে ভাঙা। ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া এই ড্রেনের একটি বড় অংশের স্ল্যাব ভেঙে পড়ায় তা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রায় একমাস আগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী ট্রাক মহাসড়কের পূর্ব পাশের ড্রেনের ওপর উঠে যায়। এতে  ড্রেনের অনেকগুলো আরসিসি স্ল্যাব ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। দীর্ঘদিন পার হলেও স্ল্যাবগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রাম বাজারের এই অংশটি অত্যন্ত ব্যস্ততম। এর পাশেই বহুতল মার্কেট ও দুটি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অপর পাশে রয়েছে সাব রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ড্রেনের ওপর ঢাকনা থাকায় সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এতদিন এটি ফুটপাত হিসেবে নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করে আসছিল। স্ল্যাবগুলো ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই পথ দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

কাকলী আক্তার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগে আমরা ড্রেনের ওপর দিয়ে নিরাপদে হেঁটে যাতায়াত করতাম। এখন স্ল্যাব ভেঙে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মেইন রোড দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে।’

ড্রেনের ঢাকনা ভাঙা থাকায় বাজারের পূর্ব পাশের দোকানপাটে ক্রেতাদের আসা-যাওয়া কমে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, ঢাকনা না থাকায় ড্রেনের ভেতরের ময়লা-আবর্জনা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। এতে পুরো এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বেড়েছে মশার উপদ্রব। এ কারণে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। 

এদিকে, ড্রেনের স্ল্যাবগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি উঠলেও দায়িত্ব নেওয়া নিয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের মধ্যে রশি টানাটানি চলছে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ড্রেনটি সওজের আওতাধীন হলেও এর সংস্কার ও পরিষ্কার করার  বিষয়টি দেখে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা। তাই বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।’

পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল আমিন বলেন, ড্রেনটি পৌর এলাকার হলেও এর দায়-দায়িত্ব সওজের, পৌরসভার নয়। তারাই বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।’

তবে পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিগগির ড্রেনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

বিস্ফোরক সংকটে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক পদার্থ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে খনিকর্তৃপক্ষ।

খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমদানি করা বিস্ফোরক দ্রব্যের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাথর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। 

খনির মহাব্যবস্থাপক জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান খনিতে পৌঁছাবে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।

আরো পড়ুন
৫ লাখ টাকার জন্য প্রবাসীকে ৮ টুকরা, আদালতে প্রেমিকার বোনের জবানবন্দি

৫ লাখ টাকার জন্য প্রবাসীকে ৮ টুকরা, আদালতে প্রেমিকার বোনের জবানবন্দি

 

রফিজুল ইসলাম বলেন, উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও খনির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে পাথর মজুদ থাকায় সাময়িক সময়ের জন্য উৎপাদন বন্ধে বাজারে পাথরের কোনো সংকট তৈরি হবে না বলেও দাবি করেন তিনি।

বিস্ফোরক দ্রব্য সরবরাহে বিলম্বের কারণে এর আগেও কয়েক দফা পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। সবশেষ ২০২ ও ২০২৫ সালে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ২২ দিন, ২০১৫ সালে দুই মাস এবং ২০১৮ সালে সাত দিন পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল।

দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনি হিসেবে পরিচিত মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) ২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক তিন শিফটে খনিতে কাজ করছেন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ঠিকাদারি প্রতষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)-এর সঙ্গে ছয় বছরের পুনঃচুক্তি করে খনি কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয়।

এদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসির একটি সূত্র জানিয়েছে, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।

‘সাদাবাবু’র শান্ত স্বভাব, পাহারায় পটু ‘রাজাবাবু’

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
‘সাদাবাবু’র শান্ত স্বভাব, পাহারায় পটু ‘রাজাবাবু’
সংগৃহীত ছবি

গরুটির গায়ের রং সাদা, আকারে বিশাল। স্বভাবেও বেশ শান্তশিষ্ট। তাই তার নাম রাখা হয়েছে ‘সাদাবাবু’। গরুটিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহও বেশ। তাই তো প্রতিদিন গরুটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। শিশুরাও তার সঙ্গে খেলায় মেতে উঠছে। যেন ঈদের আগেই তারা ঈদের আনন্দ উপভোগ করছে। 

গরুটির মালিক জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি। তিনি জানান, ‘সাদাবাবু’ খুব শান্ত স্বভাবের। বাড়ির ছোট ছোট শিশুরা তার সঙ্গে খেলাধুলা করলেও সে কখনো কাউকে আঘাত করেনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আলাদা একটা মায়া তৈরি হয়েছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরুটি বিক্রির কথা উঠতেই পরিবারের সবাই আবেগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘সাদাবাবু’কে দেখলেই মনে হয় কত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে তাকে বড় করা হয়েছে। গরুটি অনেক শান্ত স্বভাবের। এলাকার শিশুরাও ভয় ছাড়াই তার কাছে যায়। প্রতিদিন মানুষ শুধু ‘সাদাবাবু’কে একনজর দেখতে আসছে। এত সুন্দর আর বিশাল সাদা গরু এলাকায় খুব কম দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের উপজেলা থেকেও মানুষ গরুটি দেখতে আসছে।

আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু

হাম ও উপসর্গে আরো ১১ শিশুর মৃত্যু

 

এদিকে ‘রাজাবাবু’ নামের আরেকটি গরু নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল জেগেছে। এই গরুটিও আকারে বিশাল। গায়ের রং কালো, শরীরের কিছু কিছু অংশে সাদা দাগ। এই গরুটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, গরুটি সারা রাত ডাকাডাকি করে। অনেকেই তার ডাক শুনে মজা করে বলে, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার।

গরুটির মালিকের নাম সিরাজুল ইসলাম রাজা। তিনি কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের পাঁচগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। রাজা বলেন, ‘রাজাবাবু’ শুধু একটা গরু নয়, সে আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সারারাত ডাকাডাকি করে পুরো বাড়ি পাহারা দিত। তার ডাকের শব্দ শুনে আশপাশে চোর-ডাকাতও ভয় পেত। এত দিন নিজের সন্তানের মতো করে বড় করেছি, এখন বিক্রি করতে হবে ভাবতেই বুকটা ভেঙে যায়। তবে সংসারের প্রয়োজনে এবারের ঈদে অন্তত ৭ লাখ টাকায় বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্থানীয় যুবক রাকিব হোসেন বলেন, রাজাবাবু শুধু বড় গরুই নয়, পুরো এলাকায় তার একটা পরিচিত নাম হয়ে গেছে। রাত হলেই তার ডাকার শব্দে সবাই বুঝতে পারত আশপাশে কেউ ঘোরাঘুরি করছে। অনেকেই মজা করে বলত, এটা গরু নাকি এলাকার রাতের পাহারাদার। এখন তাকে বিক্রি করা হবে শুনে খারাপ লাগছে।

স্থানীয়দের মতে, বিশাল আকৃতির এই গরু দুটিকে ঘিরে কালাই উপজেলায় ঈদের আগাম আমেজ তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ গরু দুটি দেখতে ভিড় করছে, কেউ ছবি তুলছে, কেউবা ভিডিও তৈরি করছে। সব মিলিয়ে ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ এখন পুরো এলাকার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কালাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, কালাই উপজেলায় ‘রাজাবাবু’ ও ‘সাদাবাবু’ মতো বড় ও সুস্থ গরু স্থানীয় খামারিদের পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যার ফল। এটি প্রমাণ করে, আধুনিক ও পরিকল্পিত পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন করলে খামারিরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশের চাহিদাও পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

আটক শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
আটক শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
সংগৃহীত ছবি

দিনাজপুরে আটক দুই ট্রাক শ্রমিককে ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কের বটতলী ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন ট্রাক, ট্যাংক লরি, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার করে মহসড়কের ওপর বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

কোতোয়ালি পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় ট্রাক, ট্যাক লরি, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য সদর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মহিম হোসেন (১৮) পশ্চিম শিবরামপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে আকতার হোসেনকে (১৯) নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। খবর পেয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য শ্রমিকরা পুলিশের কাছে দাবি জানায়। কিন্তু পুলিশ ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় দুপুর ১২টায় শ্রমিকরা দিনাজপুর-দশমাইল সড়কের বটতলী ট্রাক টার্মিনালের সামনে বাস ও ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে অবরোধ শুরু করেন। বিকাল ৪টায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছিল।

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৪টার সময় ট্রাক, ট্যাক লরি, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা ও পুলিশ প্রশাসন কোতোয়ালি থানায় বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনায় বসেছেন বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি নুরনবী।