ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনে, উল্টো লেনে প্রতিযোগিতা দিয়ে চলছে অবৈধ মোটরচালিত থ্রি হুইলার। যার কারণে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ। চৌদ্দগ্রামে দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশ দাবি করছে প্রয়োজনীয় জনবল সংকট থাকার কারণে এই সকল অবৈধ মোটরচালিত থ্রি-হুইলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাধারণ মানুষের দাবি পুলিশের সদিচ্ছা থাকলেই এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের চার লেন মহাসড়কটি জুড়ে উল্টো লেনে প্রতিযোগিতা করে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এসব অটোরিকশাগুলো চলাচল করলেও এই ক্ষেত্রে তারা নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে করে প্রতিদিন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অটোরিকশার সঙ্গে যাত্রীবাহী গণপরিবহন ও মালবাহী ট্রাক-কার্ভাড ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটছে। এসব দুর্ঘটনায় ঝরছে তাজা প্রাণ।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে মহাসড়কের উপজেলার বালুজুরী নামক স্থানে চট্টগ্রাম লেনে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে জেসমিন আক্তার (৪২) ও তার চার বছরের মেয়ে নুসরাত জাহান নিহত হয়। এই সময় পরিবারের আরো ৪ সদস্য আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চট্টগ্রামমুখী যাত্রীবাহী বাসটি তার লেন ঠিক রাখলেও উল্টো দিক থেকে অটোরিকশাটি এলে সজোরে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বিশেষ করে মহাসড়কের রাজ্জাক টাওয়ারের সামনে গত ১ মাসে ৫টি দুর্ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে উল্টো দিক থেকে আসা অটোরিকশার সাথে বিভিন্ন পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে করে অনেকে আহত হচ্ছে। আবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকে মৃত্যুবরণ করছে।
সরেজমিনে মঙ্গলবার মহাসড়কের বিভিন্নস্থান পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঢাকামুখী লেনগুলোতে গাড়ি সঠিকভাবে চললেও উল্টো দিক থেকে অটোরিকশা প্রতিযোগিতা দিয়ে মহাসড়কে চলাচল করছে। বিশেষ করে মহাসড়কের মিয়াবাজার, ছুপুয়া রাস্তার মাথায়, বাবুচি বাজারসংলগ্ন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পেছনের লেন, লাটিমি, পদুয়া, গাংরা, চিওড়া, আমজাদের বাজার, বাতিসা, চৌদ্দগ্রাম বাজার, চৌদ্দগ্রাম পৌর সদর এলাকায় স্থানগুলো দিয়ে অবাধে এসব অবৈধ অটোরিকশা দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা দিয়ে ওভারেরটেক করার চেষ্টা করছে।
মিয়া বাজারের আমান জানান, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়ার বাজার এলাকায় উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের কারণে অনেকগুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই মিয়ার বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-পুরুষসহ অনেকজন প্রাণ হারিয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী বলেন, সরকার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কটিকে নিরাপদ করতে ফোর লেন করলেও এর সুফল জনগণ পাচ্ছে না। দূরপাল্লার পরিবহণগুলো তাদের লেনে চলাচল করলেও উল্টো দিক থেকে অটো রিক্সা প্রতিযোগিতা দিয়ে চলাচল করছে এতে করে প্রায় সময় মহাসড়কে অটো রিক্সার সঙ্গে দূরপাল্লার গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই সকল ঘটনায় তাজা প্রাণহানী হচ্ছে।
তিশা পরিবহণের বাস চালক হাশেম মিয়া বলেন, ‘মহাসড়কে থ্রি হইলার চলার কোন নিয়ম নেই। তাদের নাই কোন প্রশিক্ষণ নাই লাইসেন্স, নিয়ম না মেনেই উল্টো পথে গাড়ি চালায়। তারা হঠাৎ করে মহাসড়কের মাঝখানে লেন পরিবর্তন করে, এতে করে অনেক সময় আমরা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ নিতে কষ্ট হয়। যার কারণে দূর্ঘটনা ঘটে। প্রশাসন কার্যত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন এই সকল অটো রিক্সার দৌরাত্ব্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মিয়া বাজার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশেই উল্টো পথে গাড়ি চলার বিরুদ্ধে এবং অবৈধ থ্রিলারের বিরুদ্ধে আমরা হাইওয়ে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জনবল সংকট থাকায়, শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।’
তিনি আরো বলেন অবৈধ থ্রি হুইলার মহাসড়ক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই অটো রিকশাগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদরা আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। যার কারণে আমরা এসব অবৈধ অটোরিকশার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না।