• ই-পেপার

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উল্টো লেনে চলছে অবৈধ থ্রি হুইলার

  • ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ

প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করছে না : এম‌পি মুজা‌হি‌দ

আঞ্চ‌লিক প্রতি‌নি‌ধি, কু‌ড়িগ্রাম
প্রশাসন আমাকে সহযোগিতা করছে না : এম‌পি মুজা‌হি‌দ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কু‌ড়িগ্রাম-২ আস‌নের সংসদ সদস‌্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজা‌হিদ বলেছেন, কু‌ড়িগ্রামের প্রশাসন সিন্ডিকেট ঠিক রাখতে এবং তাদের ভাগ ঠিক রাখতে গিয়ে আমাকে সহযোগিতা করছে না। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

আতিক মুজা‌হিদ ব‌লেন, কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে এমপির বাজেট বরাদ্দ ফিরে যাচ্ছে। আমি কুড়িগ্রাম এবং কুড়িগ্রামের মানুষকে হৃদয়ে ধারণ করে সংসদে কথা বলার চেষ্টা করি। বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীদের সঙ্গে পারসোনালি কথা বলে কুড়িগ্রামের জন্য বরাদ্দ আনার চেষ্টা করি। কিন্তু এখানকার বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছে। বিশেষ করে সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলা পর্যায়ে, আমার কাছে মনে হয়েছে তাদের অনেকেই জনগণবিরোধী।

আরো পড়ুন
তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় নারী এমপিদের

তামাকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় নারী এমপিদের

 

মুজাহিদ ব‌লেন, তারা নিজেদের স্যার দাবি করতে খুব ভালোবাসেন। জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে তারা প্রস্তুত নন। তারা জনগণকে কষ্ট দিতে পছন্দ করেন। তারা আর্থিক সুবিধা নিতে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। তারা এখনো ফ্যাসিস্টদের মতো আচরণে লিপ্ত।

এই সংসদ সদস‌্য বলেন, এখনকার ভূমি কর্মকর্তা বলেন আর ইউএনও বলেন, তারা কোনো একটি গোষ্ঠীকে সব সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তারা সবাই মিলে একটা সিন্ডিকেট। তারা এই সিন্ডিকেট ঠিক রাখার জন্য, নিজেদের ভাগ বাটোয়ারা ঠিক রাখার জন্য আমাকে কাজ করতে দিচ্ছে না, সহযোগিতা করছে না।

টিআর কাবিখা বরাদ্দ সম্পর্কে এমপি মুজাহিদ বলেন, এগুলো জনগণের কাজ। কাউকে একটা টাকাও দেওয়া হবে না। যদি তারা সিন্ডিকেটের কারণে কোনো কাজকে পেছানোর চেষ্টা করে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এটা সবার সামনে তুলে ধরব। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক, শ্রমিক শক্তির জেলা আহ্বায়ক মজনু মিয়া, ছাত্রশক্তির জেলা আহ্বায়ক জাহিদ হাসান প্রমুখ।
 

চট্টগ্রাম

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে এক কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম নরেন ধর (৩৮)। তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রটোকল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকালে নগরীর খুলশী এলাকায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন কার্যালয় থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

আমিনুর রশিদ বলেন, 'সকালে দূতাবাস থেকে ফোন পেয়ে একটি লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রকে মারা গেছেন।'

আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
আমতলীতে ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় নারীর মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

বরগুনার আমতলীতে একটি ধানক্ষেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চিলা (ছোনাউঠা) গ্রামের হিন্দুপাড়ার মুকুন্দ বাইনের ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারী (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

সুরতহাল রিপোর্ট শেষে বিকেলে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হারুন অর রশিদ বলেন, নিহত নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেনি। তিনি কিভাবে এখানে এসেছেন, তা-ও জানা যায়নি।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। নারীর পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।

সিএএফের সংবাদ সম্মেলন

উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি

খুলনা অফিস
উপকূলের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দাবি
খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) জেলা কমিটি। ছবি: কালের কণ্ঠ

উপকূলের পরিবেশগত সংকট নিরসন ও সেখানকার অধিবাসীদের রক্ষা জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দসহ ২১ দফা দাবি জানিয়েছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ)। একই সঙ্গে  জলবায়ু খাতে গত ১০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ও বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। 

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের খুলনার জেলা কমিটির নেতারা এসব দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির আহ্বায়ক সাংবাদিক কৌশিক দে।

সংবাদ সম্মেলনে আন্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন; দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর সৃষ্টি;  সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা; জাতীয় বাজেটে আলাদা পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করা; পরিবেশবান্ধব ইকোনমিক জোন গঠন; ব্লু-কার্বন সংরক্ষণ ও কার্বন-ক্রেডিট বিপণনের উদ্যোগ গ্রহণ; টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ; সুপেয় পানি নিশ্চিত করা; ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সংস্কার করে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করে গড়ে তোলাসহ ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ ছিল ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৮.২১ শতাংশ এবং  ২০১৭-১৮ সালে ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৭.৫০ শতাংশ। এভাবে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৪১ হাজার ২০০ কোটি ও সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের যথাক্রমে ৫.১৭ ও ৫.২১ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের আকার বাড়লেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ও জলবায়ূ খাতে বরাদ্দের হার কমছে। তাই দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষকে রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগগ্রহণ ও বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। অন্যথায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ুঝুঁকি, দারিদ্র্য ও বিপদাপন্নতার মাত্রা বিবেচনায় নিয়ে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলাসহ অন্যান্য উপকূল-সংলগ্ন উপজেলাগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও পরিধি বৃদ্ধি, ক্লাস্টারভিত্তিক বসবাস পরিকল্পনা প্রণয়ন, নদী ও খালগুলো অবিলম্বে ড্রেজিং, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র কার্যকরভাবে সচল, সমুদ্রগামী জেলের বীমাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

এতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের উপদেষ্টা ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন রায়, সদস্যসচিব সাংবাদিক উত্তম মণ্ডল, কোস্টাল ভয়েস অব বাংলাদেশ (কব) সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, সদস্য কাজী শামীম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, আনিসুর রহমান কবির, আয়শা আক্তার জ্যোতি, বেসরকারি সংস্থা লিডার্সের টিম লিডার শারমিন আরা লিনা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার বিপ্লব কুণ্ডু, অ্যাডভোকেসি অফিসার বিপাশা অধিকারী, প্রকল্প কর্মকর্তা ইভানা পারভীন প্রমুখ।