নড়াইলে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাতুলকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রবিউল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাত ১২টায় নিহত শিশুর বাবা বাদি হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আট ঘণ্টা পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে অভিযুক্ত রবিউল দত্তপাড়া এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। এসময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে সদর থানায় নিয়ে আসেন। সেখান থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার সময় টার্মিনাল এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ গাড়ির গতিরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
এসময় পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও এবং নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা নড়াইল-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারায় অভিযুক্ত রবিউল শিকদারকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এসময় প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, শিশু জান্নাতুলের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব বা গড়িমসি তারা মেনে নেবেন না। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচার সম্পন্ন করে দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবি জানান তারা।
এর পর দুপুর ১২টায় নড়াইল পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং হয়। প্রেস ব্রিফিং উপস্থিত ছিলেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। শিশু ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত রবিউলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিআইজি বলেন, অভিযুক্ত রবিউলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।