ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গত দুুই দিনে বেওয়ারিশ কুকুররের কামড়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তাদের মাঝে এক শিক্ষার্থীসহ ৮ জনকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কুকুরের কামড় আতঙ্কে সোমবার (১৮ মে) মেদুয়ারী ইউনিয়নের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ জানান, উপজলোর মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরী, মেদুয়ারী, কুচিলাতলা গ্রামে পাগলা কুকুর একের পর এক মানুষকে কামড়ে দেয়ায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয় পড়েছে। বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে গত শনিবার ও রবিবার (১৬ মে ও ১৭ মে) দুুই দিনে ওই সব গ্রামের নারী-শিশুসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।
কুকুরের কামড়ে আহতরা হলেন, দক্ষিণ মেদুয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার (৭), তাঁর দাদা মনু মিয়া (৬৮), খাইরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুদল হাসান (২), আসাদুল ইসলামের ছেলে সাইম হাসান (৩০), শহিদুল ইসলামের ছেলে সিয়াম (৪) ও প্রতিবেশী হাসনা বেগম (৫০)। তাদের সকলের বাড়ি মেদুয়ারী গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, বেওয়ারিশ কুকুরগুলো এলাকায় দলবেধে অবাধে ঘুরে বেড়ায়। মানুষের পাশাপাশি তাদের আক্রমন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ওইসব গ্রামের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ মেদুয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার গতকাল রবিবার (১৭ মে) সকালে তাদের ল্যাট্রিন থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি কুকুর এসে তাকে এলাপাথারীভাবে কামড়ে দেয়। একই সময়ে ওই কুকুরের কামড়ে তার দাদা মনু মিয়াও আহত হয়েছেন। পরে, তাকে তাদেরকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মেদুয়ারী গ্রামের মঞ্জিলা খাতুন জানান, গতকাল রবিবার বেলা ১১ টার দিকে ৪-৫টি কুকুর তাঁর বাড়ির পাশে সিয়াম নামের এক প্রতিবেশিকে শরীরের বিভিন্ন অংশে কামড় দেয়। পরে, তাকে উপজেলা সরকারী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রায় সময় কুকুর গুলোকে দলবেধে ঘুরতে দেখা যায়। ইতোমধ্যে কুকুরগুলো এলাকার বেশির ভাগ ছাগলকে কামড়ে দিয়েছে। কুকুরের ভয়ে এখন ছাগল ঘাস খেতে মাঠে যায় না।
বিদ্যালয় ফাঁকার বিষয়ে ভাটি মেদুয়ারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি মেদুয়ারী ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে কুকুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। তাঁর বিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর তিনি শুনেছেন। তাছাড়া, তার পাশের গ্রামের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে পাগলা কুকুরে কামড় দিয়েছে। ফলে, ককুর আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। কিছু সংখ্যক অভিভাবক আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে হাতে বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে গেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জমান বলেন, ‘উপজেলার মেদুয়ারী এলাকায় কুকুর আতংকের কথা শোনেছি। তবে, কুকুর আতংকে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফাঁকা ছিলো কি-না তা, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান আমাকে জানাননি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত তিন দিনে উপজেলার মেদুয়ারী এলাকায় অনেক মানুষকে কুকুর কামড়িয়েছে বলে শুনেছি। তবে, কুকুরের কামড়ে আহত একজন ছাত্রসহ ৮জন রোগী আমাদের হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। সকলকেই হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। অন্যান্যরা হয়তো অন্য কোথাও চিকিৎসা নিয়ে থাকতে পারে।’ তিনি জানান, গত এক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরে কামড়ে আহত রোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শতাধিক ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন জানান, কুকুরের কামড়ের বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। খুঁজ নিয়ে দেখবো কি ব্যবস্থা নেয়া যায়।