• ই-পেপার

ধর্ষণের অভিযোগ, জামায়াত নেতা আলীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

সাংবাদিকতা না করেই ‘সম্পাদক’ সাজেন হিরণ, নানা কৌশলে অপদস্থ করেন বিউটি রানীকে

সিলেট প্রতিনিধি
সাংবাদিকতা না করেই ‘সম্পাদক’ সাজেন হিরণ, নানা কৌশলে অপদস্থ করেন বিউটি রানীকে
সংগৃহীত ছবি

শিক্ষিকা বিউটি রানীকে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ‘ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন’ নামের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সাইবার বুলিং করা আসিফ ইকবাল হিরণের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে চমকপ্রদ তথ্য। সাংবাদিকতা না করেও নিজে নিজেই সম্পাদক সেজে বসেন তিনি। ওই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নানা কৌশলে বিভিন্ন মানুষকে অপদস্থ করেছেন তিনি। ঠিক একইভাবে অপদস্থ করেন শিক্ষিকা বিউটি রানীকে। 

আসিফ ইকবাল হিরণে বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে। ২০২৩ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় ইংল্যান্ড পাড়ি জমান তিনি।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হিরণ ওই শিক্ষিকার ভিডিওটি আপলোড দেন। পাশাপাশি ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিও আপলোড দেন তিনি। ওই পেজটির সম্পাদক হিরণ নিজেই। ২০১৮ সালের মার্চে পেজটি খোলা হয়।

শিক্ষিকার ভিডিওটি দেশব্যাপী ভাইরাল হওয়ার পর ২৫ জুলাই নিজের ফেসবুকে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে...’ গানটি ব্যবহার করে নিজের ছবি দিয়ে একটি রিলস দেন হিরণ। ক্যাপশনে লেখেন, ভালো লাগার প্রিয় ভাইরাল গান।

এ ঘটনায় দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিনের পেজ থেকে ভিডিও সরিয়ে ফেলেছেন হিরণ। তবে তার সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জানা যায়নি। দেশে থাকতে তিনি সাংবাদিকতায় জড়িত ছিলেন বলেও কোনো তথ্য মিলেনি। পাশাপাশি অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবেও তার তৎপরতা ছিল না। মূলত দেশের বাইরে যাওয়ার পর তার ফেসবুকে তৎপরতা বাড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফেঞ্চুগঞ্জের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, মূলত সিলেটের একটি স্থানীয় দৈনিকের ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি এই ভিডিও ভাইরাল করতে প্রবাসে থাকা আসিফ ইকবাল হিরণকে ইন্ধন দিয়েছেন। যদিও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শিক্ষিকার অভিযোগ অনুযায়ী, ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন নামের একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক (মূলত ব্যক্তিগত পেজ) আসিফ আহমদ ইকবাল হিরণ অনুমতি ছাড়াই তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি ডাউনলোড করে সেটি ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিনে আপলোড করে ভাইরাল করেন।

শিক্ষিকা বলেন, ‘তিনি আমার ভিডিওটা ডাউনলোড করে নিয়ে তার পত্রিকায় নিউজ করেছেন এবং তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজেও আমার সম্পর্কে বাজে কথা লিখেছেন।’

শিক্ষিকার দাবি, আসিফ ইকবাল হিরণের পাঠানো ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট গ্রহণ না করার কারণে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে এই কাজ করেছেন। হিরণ তাকে ফোন করে ব্যক্তিগত প্রশ্ন (বাড়ি কোথায়, তিনি স্থানীয় কি না) করে হেনস্তা করার চেষ্টা করেন। শিক্ষিকা তাকে পোস্টটি ডিলিট করার অনুরোধ জানালেও তিনি তা করতে অস্বীকার করেন।

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিদিন পেজে, বিউটি রানীর আইডি থেকে ডাউনলোড করে এআই ভয়েসওভারে ভিডিওটি নিউজের মতো পোস্ট করা হয়। ভিডিওর শেষ দিকে বলা হয়, ফেঞ্চুগঞ্জের সচেতন মহল এবং শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সচেতন মহল বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে তা নির্দিষ্ট করা হয়নি, তাদের কেউর বক্তব্যও নেওয়া হয়নি। অভিভাবকদের ‘তীব্র প্রতিক্রিয়া’র কথা বলা হলেও কোনো অভিভাবকের বক্তব্য নেই সেখানে।

আরেকটি সংবাদে সাধারণ হেঁটে আসার দৃশ্যকে ‘অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ছবি: কালের কণ্ঠ

হঠাৎ দমকা হাওয়া ও প্রবল বৃষ্টিতে পদ্মার নদীর পানি অনেকটা উত্তাল হয়ে ওঠায় রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল পৌনে ৪টা থেকে সেখানে সাময়িকভাবে সব লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিআইডাব্লিউটিএ।

দৌলতদিয়া ঘাটে কর্মরত বিআইডাব্লউটিএ-এর ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম লঞ্চ বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে এলে লঞ্চ চলাচল আবার চালু করা হবে।’

যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ : শিক্ষিকা বিউটি রানী

অনলাইন ডেস্ক
যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ : শিক্ষিকা বিউটি রানী

আলোচিত শিক্ষিকা বিউটি রানী দেশের সব শিক্ষক, সাংবাদিক, অধ্যাপক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি সাইবার বুলিং ও অনলাইন হয়রানির শিকার থেকে সুরক্ষায় শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি করেছেন। 

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিবৃতিতে এ দাবি জানান তিনি। 

শিক্ষিকা বিউটি রানী বলেন, ‘আমার পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, সুশীল সমাজ, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকগণ এবং সমাজের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ 

বিউটি রানী আরো বলেন, ‘আপনারা গান, কবিতা, লেখা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমের মাধ্যমে যে প্রতিবাদ, সংহতি ও নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, তা আমাকে সাহস ও প্রেরণা দিয়েছে। আপনাদের এই ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখব।’

শিক্ষক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের নিকট বিনীতভাবে আবেদন জানাই—দ্রুত শিক্ষক সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকই সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং শিক্ষক সমাজ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।’

এর আগে গত ২৬ জুলাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার ও সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। 

গত ২৩ জুলাই বিউটি রানী পালের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাকে হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাংশের সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েন তিনি।

ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

প্রায় ১৪ বছর আগে তুচ্ছ বিরোধের জেরে খুন হন ফরিদপুরে সবজি বিক্রেতা ফয়সাল শেখ (২২) নামে এক তরুণ। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আলোচিত হত্যা মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার আইয়ুব আলী সরদারের ছেলে চান সরদার (৪২) ও তারা সরদার (৩৫) এবং জিয়াউল হক আকন্দের ছেলে বাবুল আকন্দ (৩৬)। রায় ঘোষণার সময় বাবুল আকন্দ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই দণ্ডিত চান ও তারা সরদার পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ফয়সাল শেখের ওপর হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত ফরিদপুর শহরের মধ্য আলীপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত আকু শেখের ছেলে। তিনি শহরের হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের বেইলী সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সবজি বিক্রি করতেন। 

মামলার এজাহারে বলা হয়, একই বাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা চান সরদারের সঙ্গে ফয়সালের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই ঘটনার দিন কৌশলে তাকে নির্মাণাধীন ভবনের পাশে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আসামিরা তার ওপর হামলা চালান।

ঘটনার পরের দিন নিহতের মা ফিরোজা বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহজাহান মিয়া চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় বাবুল আকন্দের নামও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিচার চলাকালে আসামি শাহিন সরদার মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়।

দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান বলেন, ‘উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা কমবে।’