সম্প্রতি ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলা ভাষাভাষী লোকজনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার ঘটনায় দেশব্যাপী উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ভারত সীমান্ত লাগোয়া কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
সোমবার (৮ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধ পুশ ইনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে সীমান্তজুড়ে নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের প্রতিটি বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) থেকে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি দিন-রাত বিশেষ কৌশলগত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অবৈধ পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে যৌথ টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি পেশাদারত্বের সঙ্গে মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিজিবি। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি) ‘জিরো টলারেন্স’নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শনিবার (৭ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে জামালপুর ব্যাটালিয়ন (৩৫ বিজিবি) অধীনস্থ রৌমারী সীমান্তের ঝাউবাড়ী ও খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তৎপরতার তথ্য পাওয়া যায়। মেইন পিলার ১০৬৮ থেকে ১০৭১ নম্বর পিলার পর্যন্ত ভারতের ১৮৩ বিএসএফ সদরটিলা ক্যাম্পের সদস্যরা কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিককে সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় নিয়ে আসে বলে খবর পাওয়া যায়।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ‘পুশ ইন’ ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি টহল ও নজরদারি আরো জোরদার করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন। বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।
রৌমারী খেয়ারচর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার বশির আহমেদ জানান, গত শনিবার ও রবিবার রাত এবং সোমবার সকালেও বিএসএফ কয়েকজন বাংলা ভাষাভাষী ব্যক্তিকে খেয়ারচর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের প্রতিবাদের মুখে তারা ওই চেষ্টা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।
কুড়িগ্রাম-২২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক বলেন, ‘সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি পরিলক্ষিত হলে দ্রুত বিজিবিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।’