• ই-পেপার

টঙ্গীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬

মৌলভীবাজারে এএসপি পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারে এএসপি পরিচয়ে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারে নিজেকে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) ও সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বড়লেখা থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. সাজু আহমেদ শোভন (৩৫)। তিনি রংপুরের কোতয়ালী থানার পশ্চিম বাবু খাঁ এলাকার বাসিন্দা।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ (কুলাউড়া সার্কেল) আজমল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৫ জুন রাতে বড়লেখা থানাধীন নিউ সমনবাগ চা বাগানের বাসিন্দা চা শ্রমিক যতিন চাষার কাছে নিজেকে সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয় দেন সাজু আহমেদ শোভন। এ সময় তিনি মামলার বিষয়ে ভয় দেখিয়ে মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দেন এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে কৌশলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। 

আরো পড়ুন
চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

চিফ হুইপের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

 

এরপর গত ৭ জুন বিকেলে নিউ সমনবাগ চা বাগান বাজারে আসামিকে দেখে ভুক্তভোগী তাকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানালে তারা তাকে আটক করে এবং বড়লেখা থানায় খবর দেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তিনি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করে একটি পরিচয়পত্র দেখান, যেখানে তার নামের পাশে এএসপি পদবি উল্লেখ ছিল। পরে যাচাই-বাছাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য নন এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিলেন।

পরে পুলিশ তার কাছ থেকে একটি ভুয়া পুলিশ পরিচয়পত্র ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে পূর্বে একাধিক মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান আজমল হোসেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় পেনাল কোডের ১৭০/৪২০ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল শিশুর
প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের বামনগাঁও গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে এক বছর দু্ই মাস বয়সী সাদিয়া নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

মৃত সাদিয়া ওই গ্রামের রাহাত আলী ও নুরনাহার বেগম দম্পতির ছোট মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে পরিবারের সদস্যদের অজান্তে সাদিয়া বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। একপর্যায়ে প্রতিবেশীর বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর সালমা নামের এক প্রতিবেশী নারী বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পুকুরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পুকুরের পানিতে শিশুটির নিথর দেহ ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানজিনা আক্তার সেতু তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম কর্ণফুলী নদীর মাঝিরঘাট এলাকা থেকে ৪০-৪৫ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। 

সোমবার (০৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্ণফুলী নদীর জুট রেলিঘাট এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নৌ-পুলিশের সদরঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, কর্ণফুলী নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তিনি আরো বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি তিন থেকে চার দিন আগে মারা গেছেন। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া উঠে গেছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়েও তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ

ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ১৫ স্থান

ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে স্থানীয়রা দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

মো. মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)
ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন, ঝুঁকিতে ১৫ স্থান
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লঙ্গুরপার এলাকায় ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্থান। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীপারের বাসিন্দারা। 

স্থানীয়রা জানান, নদীটি এর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কাছে এখন আতঙ্কের নাম। প্রতিবছর বর্ষা এলেই আগ্রাসী হয়ে ওঠে এ নদী।  চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে কয়েক দফা ভারি বৃষ্টি ও  পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বাড়ে। এতে নদীটির প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে মাটি ধসে পড়ে। তারা জানান, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় অন্তত ১৫টি স্থান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের  আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে ইসলামপুরের মখাবিল, হখতিয়ারখোলা, মাধবপুরের হিরামতি, কাটাবিল, আদমপুরের ঘোরামারা, শুকুর উল্লাগাঁও, কমলগঞ্জ সদরের  লংগুরপার, চৈতন্যগঞ্জ, পৌরসভার কুমড়াকাপন, করিমপুর, রহিমপুরের চৈত্রগাট, উবাহাটা, খুশালপুরসহ উপজেলার প্রায় ১৫টি স্থানে মাটি ধসে পড়ায় বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এককটি স্খানে ৫০ থেকে ১০০ ফুটজুড়ে ভাঙন সৃষ্টি হয়।  

শনিবার (৬ মে)  সরেজমিনে কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লঙ্গুরপার, হীরামতি, চৈতন্যগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের এসব এলাকায় মাত্র এক ফুট অংশ বাকি রয়েছে ভাঙার। এতে আতঙ্কে রয়েছে শতাধিক পরিবার। 

বাঁধের দূরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, জরুরিভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জিও ব্যাগ বা ব্লক ফেলে ভাঙন ঠেকানো প্রয়োজন। বর্ষা পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ব্যবস্থা না নিলে বিপদে পড়তে হবে তাদের। তবে বার বার বাঁধ মেরামত না করে নতুন করে পরিকল্পিত ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার দাবি তাদের। 

লঙ্গুরপার গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৌলেন্দ্র কুমার ভৌমিক বলেন, আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। রাস্তাও বন্ধ। বাঁধের পাড় মাত্র এক ফুট ভাঙতে বাকি। তিনি বলেন, এখানকার প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন অত্যন্ত দুর্বল। দ্রুত সংস্কার করা না হলে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

একই কথা বলেন ঘোরামারা এলাকার বাসিন্দা তাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘নদী আমাদের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা অভিশাপে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর আমরা শুধু আশ্বাস পাই, কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান হয় না। বর্তমানে বাঁধের যে অবস্থা, তাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাই। জরুরিভিত্তিতে সিসি ব্লক বা টেকসই মেরামতের ব্যবস্থা না করলে এবার ঘরবাড়ি রক্ষা করা কঠিন হবে।’

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী গৌতম রঞ্জন দাস (কমলগঞ্জে দায়িত্বরত) বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামত করার চেষ্টা করছি। যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দেখা দিয়েছে,  তা জরুরিভাবে মেরামত করা হবে। তিনি বলেন, লঙ্গুরপার ও কুমড়াকাপন বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আছাদুজ্জামান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত ধসে পড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।