• ই-পেপার

কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার

বরগুনা

রক্তের দাগ অনুসরণ করে মিলল ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ

বরগুনা প্রতিনিধি
রক্তের দাগ অনুসরণ করে মিলল ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরগুনায় রাতে নিখোঁজ হওয়ার পর সকালে এক মৌসুমি ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার বড় গৌরীচন্না খাল থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এখনো তার মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মাথা উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তি হলেন গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে মো. শামীম ব্যাপারী। তার বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তিনি একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজনরা জানান, রবিবার (৭ জুন) রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন শামীম। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে আজ সোমবার সকালে বাড়ির সামনে খালের পাশে রক্তের দাগ এবং তার পায়ের জুতা দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে খালে তল্লাশি চালিয়ে মস্তকবিহীন মরদেহ খুঁজে পান স্বজন ও স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন
এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা, জানবেন যেভাবে

এসএসসির ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা, জানবেন যেভাবে

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

স্বজনদের দাবি, নিহত শামীমের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা ছিল না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিহতের স্ত্রী জানান, গতকাল গভীর রাত হলেও তার স্বামী বাসায় ফেরেননি। তখন থেকে তিনি ও তার স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার সকালে তার মাথাবিহীন মরদেহ পাওয়া যায়। তিনি এ ঘটনার আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের বাবা মোনসের আলী ব্যাপারী বলেন, ‘আমার ছেলে রাতে ঘরে না ফেরায় আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি, তবে তার কোনো সন্ধান পাইনি। পরে আজ সোমবার সকালে বাড়ির সামনে খালের পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হলে খালে তল্লাশি চালাই। একপর্যায়ে খালের মধ্যে কচুরিপানার নিচ থেকে শামীমের মস্তকবিহীন দেহ দেখতে পাই। পরে আমরা লোকজন ডাকি এবং পুলিশকে খবর দিই। আমার নিরীহ ছেলেকে যারা খুন করেছে, তাদের শাস্তি যেন আল্লাহ আমাকে চোখের সামনে দেখান।’

আরো পড়ুন
প্রিপেইড মিটার রিচার্জের পর ২২০ ডিজিটের টোকেন পেলে যা করবেন

প্রিপেইড মিটার রিচার্জের পর ২২০ ডিজিটের টোকেন পেলে যা করবেন

 

শামীমের মেয়ে জানান, রবিবার সন্ধ্যায় বাসার কাজ শেষ করে বাজারে গিয়েছিলেন বাবা। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। রাত গভীর হলে মা আমাদের জানান, বাবা এখনো বাসায় ফেরেননি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় ফোন দিয়ে খোঁজ নেই, কিন্তু বাবার কোনো সন্ধান পাইনি। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো কোথাও গেছেন, ফিরে আসবেন। কিন্তু বাবা বাসায় না ফেরায় সকালে তাকে খুঁজতে গিয়ে গৌরীচন্না খালের পাড়ে রক্তের দাগ পাই। আরও একটু সামনে গিয়ে একটি জুতা দেখতে পাই। এরপর আরও সামনে গিয়ে আরেকটি জুতা দেখতে পাই। পানির কাছাকাছি যেতেই কচুরিপানার মধ্যে বাবার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। কে বা কারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে আমরা জানি না। তবে আমরা অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

বরগুনা সদর থানার ওসি মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে খালে মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পাই। মরদেহের পেট কাটা ছিল। পরে মাথা খোঁজার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। তারা এসে দুই ঘণ্টাব্যাপী অনুসন্ধান চালিয়েও মাথার সন্ধান পায়নি। মাথা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

শায়েস্তাগঞ্জে আ. লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
শায়েস্তাগঞ্জে আ. লীগ ও ছাত্রলীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্র লীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৭ জুন) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করেছে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জালাল উদ্দীন মোহন (৫৫) ও উপজেলা ছাত্র লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হৃদয় মিয়া (২২)।

শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি মো. আবুল কালাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (৭ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

সালথা

থানার সালিসে অংশ নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
থানার সালিসে অংশ নেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ২০
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের সালথায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা মীমাংসার জন্য স্থানীয় থানায় আয়োজিত সালিসে অংশগ্রহণ নিয়ে বিবাদমান দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ২০টি বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) রাত ৮টার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঠালবাড়িয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কাঠালবাড়িয়া গ্রামের মো. হাবিব মোল্যার সঙ্গে আজিজুল মোল্যার বিরোধ চলে আসছিল। চলমান বিরোধের জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি চায়ের দোকানের সামনে হাবিবুর মোল্যার সমর্থক হাফিজুর মাতুব্বরকে কুপিয়ে আহত করে আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা। হাফিজুরকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাটি মীমাংসার জন্য রবিবার সন্ধ্যায় সালথা থানায় একটি সালিস-বৈঠকের আয়োজন করে পুলিশ।

তবে ওই সালিসে হাবিবুর মোল্যার সমর্থকরা অংশ নিতে রাজি হলেও আজিজুল মোল্যার সমর্থকরা অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি নিয়ে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের দুই থেকে তিন শতাধিক সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ। সংঘর্ষ চলাকালে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে অন্তত ২০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় শান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সিংড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৬

সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
সিংড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৬
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের সিংড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলার গোডাউনপাড়া, পেট্রোল বাংলা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রীফা রাওনাক নীতু।

আটকরা হলেন সিংড়া পৌর শহরের শোলাকুড়া এলাকার আখের মোল্লার ছেলে মনজু (২৬), গোডাউনপাড়ার মৃত জাকির হোসেনের মেয়ে রাবেয়া (৪০), মোতাহার হোসেনের ছেলে মিলন (৩২), সরকারপাড়ার লুৎফর হোসেনের মেয়ে সাগরী খাতুন পুতুল (২৫) এবং তার ভাই ইয়াছিনসহ (২৮) আরো একজন।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম গাঁজা, ২৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়।

পরে আটকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল রিফাত। আদালত তাদের অপরাধের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্তদের পরবর্তীতে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।