• ই-পেপার

‘বিশ্বকাপ জয়ের শীর্ষ তিন দাবিদারের একটি আর্জেন্টিনা’

আবারও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পেরেজ

ক্রীড়া ডেস্ক
আবারও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পেরেজ
ছবি : রয়টার্স

রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছেন ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। ক্লাব সদস্যদের ভোটে বিজয়ী হয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ক্লাবটির নেতৃত্ব দেওয়ার ম্যান্ডেট পেয়েছেন তিনি।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটের ৬৫ শতাংশ পেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী এনরিকে রিকেলমেকে হারিয়েছেন পেরেজ। নির্বাচনের আগে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি, যার মধ্যে ছিল নতুন এক ‘গ্যালাকটিকো’ তারকাকে দলে ভেড়ানোর ঘোষণা।

পেরেজের বিজয়ের পর রিয়াল মাদ্রিদে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কোচ হিসেবে জোসে মরিনহোর প্রত্যাবর্তন। পেরেজের জয় সেই পথ আরো সুগম করেছে।

নির্বাচনের আগে পেরেজ আরো একটি বড় ঘোষণা দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। তিনি জানান, একটি শীর্ষ ইউরোপীয় ক্লাবের তারকাকে দলে ভেড়াতে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। যদিও খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। 

বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারছে না। তবে হতাশার এই সময়েও প্রীতি ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে আজ্জুরিরা।

রবিবার গ্রিসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ইতালি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফ্রানচেস্কো পিও এস্পোসিতো।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে জেফ একাতরের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন এস্পোসিতো। পরে আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ইতালি আরো কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে ৬৮ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা যোগ হয়। আন্তর্জাতিক অভিষেকে নামার মাত্র ১৩ মিনিট পর শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন লুকা রেজ্জিয়ানি। ফলে ম্যাচের শেষ অংশে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে

গ্রিসের ক্রিস্টোস জাফেইরিসের একটি শট পোস্টে লাগে। শেষ দিকে ভ্যাঞ্জেলিস পাভলিদিসের প্রচেষ্টা রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।

এই জয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সিলভিও বালদিনির অধীনে টানা দ্বিতীয় জয় পেল ইতালি। বিশ্বকাপ মিস করার হতাশা থাকলেও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবলকে।

বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মূল ম্যাচে (নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে করেছেন ৪ গোল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

এই রেকর্ডে মেসি ছুঁয়েছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকে। বিশ্বকাপের মূল খেলায় পেনাল্টি থেকে চার গোলের বেশি করতে পারেননি কোনো ফুটবলার।

মজার ব্যাপার হলো, মেসির চারটি পেনাল্টি গোলই এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্টে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করেন সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে।

তবে বিশ্বকাপে মেসির সব পেনাল্টি প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে তার নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক হ্যানেস হালদোরসন। আর ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তার স্পটকিক রুখে দেন ভয়চেখ শেজনি।

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মূল ম্যাচে মেসি মোট ছয়টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে চারটিতে গোল করেছেন এবং দুটিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তার সফলতার হার ৬৬.৭ শতাংশ।

অবশ্য টাইব্রেকারের হিসাব আলাদা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টাইব্রেকারে মেসি আরও তিনটি পেনাল্টি নিয়েছেন এবং তিনটিতেই সফল হয়েছেন। ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ও ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গোল করেন তিনি।

পেনাল্টি থেকে গোলের এই রেকর্ডের পাশাপাশি সামগ্রিক গোলসংখ্যাতেও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন মোট ১৩টি গোল। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে একটি, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চারটি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে একটি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি গোল করেন তিনি। শুধু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেই গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসি বর্তমানে যৌথ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬ গোল)। দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিলের রোনালদো (১৫ গোল) এবং তৃতীয় স্থানে জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। ১৩ গোল করে যৌথ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি।

১৯৭০ বিশ্বকাপ

ব্রাজিল-ইংল্যান্ড লড়াই কেন আজও অমর

হারুনুর রশিদ
ব্রাজিল-ইংল্যান্ড লড়াই কেন আজও অমর
সংগৃহীত ছবি

১৯৭০ সালের বিশ্বকাপকে অনেকেই ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর, রোমান্টিক এবং প্রভাবশালী আসর বলে মনে করেন। মেক্সিকোর রোদঝলমলে মাঠ, রঙিন টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ সম্প্রচার, আক্রমণাত্মক ফুটবলের জয়যাত্রা এবং সর্বোপরি পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিলের অনবদ্য নৈপুণ্য—সব মিলিয়ে এটি ছিল এমন একটি টুর্নামেন্ট, যা ফুটবলকে শুধু একটি খেলা নয়, বরং বৈশ্বিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত করেছিল।

তবে সেই বিশ্বকাপের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের মধ্যেও একটি ম্যাচ আজও আলাদা করে আলোচিত হয়। সেটি হলো গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের লড়াই।

স্কোরবোর্ডে ফল ছিল মাত্র ১-০। কিন্তু ইতিহাসের বিচারে এটি ছিল একটি যুগের সমাপ্তি এবং আরেকটি যুগের সূচনার ঘোষণা।

ম্যাচটির গুরুত্ব বোঝার জন্য তখনকার প্রেক্ষাপট জানা জরুরি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে এসেছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের তকমা নিয়ে। ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের পর দলটি ছিল দারুণভাবে আত্মবিশ্বাসী। কোচ রামসির অধীনে ইংল্যান্ডকে তখন বিশ্বের সবচেয়ে সংগঠিত ও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি ববি মুর, ববি চার্লটন এবং গর্ডন বাঙ্কসের মতো বিখ্যাত সব তারকারা। 

অন্যদিকে ব্রাজিল এসেছিল নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের মিশনে। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তারা হতাশাজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল। সেই ব্যর্থতার পর অনেকেই মনে করেছিলেন ব্রাজিলের সোনালি যুগ হয়তো শেষ হয়ে গেছে।

কিন্তু ১৯৭০ সালে তারা ফিরে আসে আরো শক্তিশালী রূপে। কোচ মারিও জাগালোর হাতে গড়ে ওঠা দলটিতে ছিলেন পেলে, জর্জিনহো, টোস্টাও, গার্সন এবং রিভেলিনহোর মতো অসাধারণ প্রতিভারা।

অনেকে এটিকে শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং ফুটবলের দুই দর্শনের সংঘর্ষ হিসেবে দেখেছিলেন—ইউরোপীয় শৃঙ্খলা ও কাঠামোর বিপরীতে লাতিন আমেরিকান সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্য।

১৯৭০ সালের ৭ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।

সেই সময় মেক্সিকোর উচ্চতা ও গরম আবহাওয়া ইউরোপীয় দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ইংল্যান্ড বিশেষ বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি নিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নেয়। অন্যদিকে ব্রাজিল প্রায় এক মাস আগে মেক্সিকোয় এসে পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল।

ফলে ম্যাচটি কেবল ফুটবল দক্ষতার পরীক্ষা ছিল না, বরং শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা ছিল। খেলার শুরু থেকেই দুই দলই ছিল সতর্ক অবস্থানে। ব্রাজিল বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করছিল, আর ইংল্যান্ড সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠছিল।

মাঠে প্রতিটি বলের জন্য লড়াই হচ্ছিল, প্রতিটি পাসের পেছনে ছিল কৌশল, প্রতিটি মুভমেন্টে ছিল হিসাব-নিকাশ। ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধে। ডান দিক থেকে জর্জিনহোর ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে দুর্দান্ত একটি হেড করেন পেলে। বলটি এতটাই শক্তিশালী ও নিখুঁত ছিল যে পেলে নিজেও গোল উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন।

কিন্তু তখনই ঘটে অলৌকিক কিছু। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক গর্ডন বাঙ্কস ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে বলটি পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন।

পরে পেলে নিজেই বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত ছিলেন এটি গোল হবে। ফুটবল ইতিহাসে এই মুহূর্তটি পরিচিত হয়ে যায় ‘দ্য সেভ অব দ্য সেঞ্চুরি’ নামে। আজও বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা সেভের আলোচনা উঠলে গর্ডন বাঙ্কসের সেই সেভ সবার আগে চলে আসে।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য শেষ হলেও ম্যাচের উত্তেজনা একটুও কমেনি। ৫৯তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। আর এই মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

 

মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে পেলে বল পান বক্সের সামনে। সাধারণ কোনো খেলোয়াড় হয়তো নিজেই শট নিতেন। কিন্তু পেলে দেখলেন ডান দিকে ফাঁকা জায়গায় ছুটে যাচ্ছেন জর্জিননহো। এক মুহূর্ত দেরি না করে তিনি নিখুঁত পাস বাড়িয়ে দেন।

জর্জিনহো শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন। গর্ডন বাঙ্কস এবার আর কিছুই করতে পারেননি।

গোলটি ছিল ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সৌন্দর্যের প্রতীক—দৃষ্টিশক্তি, সৃজনশীলতা, গতি এবং নিখুঁত সমন্বয়ের এক অনবদ্য উদাহরণ।

ম্যাচটির আরেকটি স্মরণীয় দিক ছিল দুই কিংবদন্তি—ববি মুর ও পেলের দ্বৈরথ। ম্যাচজুড়ে মুর অসাধারণ দক্ষতায় পেলেকে সামলানোর চেষ্টা করেছেন। আবার পেলের প্রতিটি স্পর্শে ফুটে উঠেছে তার অসাধারণ প্রতিভা।

খেলা শেষে দুজনের জার্সি বিনিময়ের দৃশ্য ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত ছবিতে পরিণত হয়। আজও সেই ছবি খেলাধুলার সৌহার্দ্য, সম্মান ও মহত্ত্বের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ব্রাজিলের ১-০ জয় হয়তো স্কোরলাইনের বিচারে খুব বড় কিছু ছিল না। কিন্তু এর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল বিশাল।

এই ম্যাচে ব্রাজিল দেখিয়ে দেয় যে তারা আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে ফিরে এসেছে। ১৯৬৬ সালের ব্যর্থতা কেবল একটি দুর্ঘটনা ছিল।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল ধীরে ধীরে আধিপত্য হারানোর শুরুর ইঙ্গিত। যদিও তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল, তবু ১৯৬৬ সালের অপ্রতিরোধ্য ইংল্যান্ড আর আগের জায়গায় ফিরতে পারেনি।

অনেক ফুটবল ইতিহাসবিদ মনে করেন, এই ম্যাচে বিশ্ব ফুটবল নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছিল। রক্ষণাত্মক ও ফলকেন্দ্রিক ফুটবলের বিপরীতে আক্রমণাত্মক, সৃজনশীল ও দর্শনীয় ফুটবল যে বিশ্বকে মুগ্ধ করতে পারে, ব্রাজিল সেটিই প্রমাণ করেছিল।

এরপরের গল্প সবাই জানে। ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ গোলে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় ব্রাজিল। সেই দলের অনেকেই আজও সর্বকালের সেরা বিশ্বকাপ দলের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই বিশ্বকাপের কথা উঠলে শুধু ফাইনালের কথা নয়, বারবার ফিরে আসে ব্রাজিল-ইংল্যান্ড ম্যাচের স্মৃতি। কারণ এটি ছিল এমন এক ম্যাচ যেখানে ফলাফলের চেয়ে বড় ছিল ফুটবলের সৌন্দর্য, কৌশল, ব্যক্তিগত মাহাত্ম এবং ইতিহাসের প্রবাহ।

৫৬ বছর পরও ম্যাচটি কেবল একটি ১-০ জয় নয়। এটি এমন এক লড়াই, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিল দুই ফুটবল সভ্যতা, দুই যুগ এবং দুই দর্শন। আর সেই কারণেই ব্রাজিল-ইংল্যান্ডের ১৯৭০ সালের লড়াই আজও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে অমর ম্যাচগুলোর একটি।