• ই-পেপার

নান্দাইলে রেইন্ট্রি গাছে হাজারো বাদুরের মেলা

শ্রমিকের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর আবারও সেই কারখানায় অসুস্থ অর্ধশতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
শ্রমিকের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পর আবারও সেই কারখানায় অসুস্থ অর্ধশতাধিক
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নারী শ্রমিক। সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় আবারও অর্ধশতাধিক শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মাথা ঘোরা, পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর কারখানায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত ২৪ জুন একই কারখানায় রাতের শিফটে কাজ করার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েও ছুটি না পেয়ে কর্মরত অবস্থায় মারা যান শ্রমিক লিজা আক্তার (৩৬)। ওই ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয় ও শ্রমিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে কারখানায় স্বাভাবিকভাবে কাজ চলছিল। সকাল ১০টার দিকে পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতা দেখা দেয়। অল্প সময়ের মধ্যে অন্যান্য বিভাগেও একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে আরো শ্রমিক অসুস্থ হতে থাকেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।

কারখানার সুইং অপারেটর মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘কাজ করার সময় কয়েকজন সহকর্মী হঠাৎ বমি বমি ভাব, মাথা ও পেটব্যথা নিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন। এরপর একে একে আরো অনেক শ্রমিক একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারখানার পক্ষ থেকে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।’

শ্রমিক শাহেদা বেগম বলেন, ‘কারখানার কাজের পরিবেশ ভালো নয়। দুই সপ্তাহ আগে অসুস্থ হয়ে এক নারী শ্রমিক মারা গেছেন। তারপরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা নিরাপদ কর্মপরিবেশ চাই।’

মাওনা চৌরাস্তার আল হেরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রায় ৫০ জন শ্রমিককে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ৩০ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি কয়েকজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, ‘ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবারের জন্য কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে।’

কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০ রোহিঙ্গার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজারে পাহাড়ধস ও বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০ রোহিঙ্গার মৃত্যু
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে টানা ভারি বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে গত ৪ জুলাই থেকে আজ ৭ জুলাই (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ১০ জন।

চার দিনের টানা বৃষ্টিতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অন্তত ১৬০টি ছোট-বড় দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫২টি স্থানে পাহাড়ধস, ১৪টি এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ৮৩টি স্থানে ঝোড়ো হাওয়ায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

দুর্যোগের কারণে ক্যাম্পের ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয়স্থল (ঘর) আংশিক এবং ১০টি ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩ হাজার ১৮২ জন সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে।

মানবিক সংস্থাগুলো বাস্তুচ্যুতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধস ও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে জিএমপি, ৬ মাসে গ্রেপ্তার ৩২১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে জিএমপি, ৬ মাসে গ্রেপ্তার ৩২১৭
সংগৃহীত ছবি

মাদক কারবার, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মহানগরীর বিভিন্ন অপরাধে এক হাজার ৮৫৪টি মামলা এবং ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

কমিশনার জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ২০টি হত্যা, ৭টি ডাকাতি, ২৮টি ছিনতাই, ১৬টি সিঁধেল চুরি, ১৭৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৮১২টি মাদক, ৬০টি অস্ত্র এবং অন্যান্য অপরাধে ৭৩৫টি মামলাসহ মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা হয়েছে। এই সময়ে ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৮৮ জন মাদক কারবারি, ৯০১ জন মাদকসেবী, ৩৭৭ জন অস্ত্র মামলার আসামি, ৩৫৪ জন ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে, ৪৬ জন ছিনতাই মামলায়, ২৩ জন ডাকাতি মামলায় এবং অন্যান্য মামলায় ৫২৮ জন রয়েছেন।

জিএমপির অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, একটি গুলির খোসা এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ ও ৪৬ লিটার দেশীয় মদ।

কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আকস্মিক মিছিল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। এসব ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ি, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট সাতটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে এখন পর্যন্ত ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারী, সংগঠক, অর্থদাতা ও সহযোগীদের মধ্যে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

কমিশনার সতর্ক করে বলেন, নিষিদ্ধঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য কিংবা গোপন কার্যক্রম, প্রচার-প্রচারণা বা অর্থায়ন সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিএমপি 'জিরো টলারেন্স' নীতিতে কাজ করবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীসহ মহানগরীর বিভিন্ন বস্তিতে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগর এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধানও চলছে।

চট্টগ্রাম

টানা বর্ষণে বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাঁটু সমান পানি, চিকিৎসাসেবা বিঘ্ন

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
টানা বর্ষণে বোয়ালখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাঁটু সমান পানি, চিকিৎসাসেবা বিঘ্ন
ছবি : কালের কণ্ঠ

টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা, জরুরি বিভাগ, ল্যাব ও প্রশাসনিক কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। 

অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ আরো বেড়েছে। নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িও পানিতে তলিয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতর-বাইরের আঙিনাসহ নিচতলায় হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। জরুরি বিভাগেও পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের হাঁটু পানির মধ্য দিয়েই হাসপাতালে যাতায়াত করতে দেখা যায়।

এদিন উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হোসনা আরা (৫৮) নামের এক নারীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

এদিকে টানা বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, কধুরখীল, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল, চরখিদিরপুর ও চরণদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়ির উঠোন ও গ্রামীণ সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা।

পশ্চিম গোমদণ্ডীর চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, চারদিকে শুধু পানি। বাড়ির উঠোন ডুবে গেছে। চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণের পর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যায় পড়েছেন অনেকে।

পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় কারো সঙ্গে জরুরি যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, কিন্তু মাস শেষে পুরো বিলই দিতে হয়।

পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা বলেন, পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামীকাল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ কমে।