• ই-পেপার

৮ দফা দাবিতে নোয়াখালী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি
অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকের। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকেরকে পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জেলা জামায়াতের সূরা সদস্যদের এক সভা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

জেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক কোনো ত্রুটি হলে কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা নেন। তার ক্ষেত্রে সেটি ঘটেছে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা আমিরের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে (সাইদ আহমেদ বাচ্চু) ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকের বলেন, অসুস্থতাজনিত চিকিৎসার প্রয়োজনে কেন্দ্রে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নারী নিয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভেতর অফিসারের আপত্তিকর নাচ, ভিডিও ফাঁস

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি
নারী নিয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভেতর অফিসারের আপত্তিকর নাচ, ভিডিও ফাঁস
ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

শেরপুরের শ্রীবরদীতে ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আশরাফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে স্টেশনের ভেতর বহিরাগত নারীকে নিয়ে আপত্তিকর নাচ-গানের আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি এ ঘটনার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসারের এমন কান্ডে এ দপ্তরের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন একজন বহিরাগত নারীকে নিয়ে স্টেশনের ভেতর হাত ধরে ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নাচ-গান করছেন। তার এমন অপেশাদার ও নৈতিকতা বিবর্জিত আচরণে ফায়ার সার্ভিসের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্টাফ জানান, তার এমন কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো স্টেশনের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তাদেরকে লজ্জায় পড়তে হচ্ছে।

সাতানী শ্রীবরদী মহল্লার বাসিন্দা মো. মিস্টার মিয়া, হুমায়ুন কবিরসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, একজন অফিসারের এমন কাজ খুবই লজ্জাজনক। তার বয়স ৫০ বছরের উর্ধ্বে। নারী নিয়ে নাচ-গান করা দুঃখজনক। এমন অফিসারের জন্য পুরো ফায়ার সার্ভিস অফিসের বদনাম হচ্ছে। আমরা তার দ্রুত অপসারণের দাবি জানাই।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এমন অনৈতিক পরিবেশ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন স্টেশন অফিসারের কাছ থেকে যেখানে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা আশা করা হয়, সেখানে তিনি নিজেই লিপ্ত হয়েছেন সস্তা ও আপত্তিকর বিনোদনে। এই ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের মতো একটি সু-শৃঙ্খল বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শ্রীবরদী উপজেলার ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমি টিকটক করার জন্য ভিডিওটি করেছিলাম। অনেকেই টিকটক করে, তাই আমিও করেছিলাম। আপনি একজন স্টেশন অফিসার হয়ে সরকারি দপ্তরের ভিতরে বহিরাগত নারীকে নিয়ে নাচ-গান করে ভিডিও ধারণ করতে পারেন কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জামালপুর-শেরপুরের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক জাবেদ হোসেন মোহাম্মদ তারেক বলেন, একজন স্টেশন অফিসারের এমন কাজ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অপহরণের ৯ দিন পর খাল থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
অপহরণের ৯ দিন পর খাল থেকে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের নিখোঁজ যুবক রাফিনের (২০) অর্ধগলিত মরদেহ অপহরণের ৯ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার একটি খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

রাফিন উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে একটি মোবাইল ফোনকল পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রাফিন। পারিবারিক সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনে তাকে পাশের পাইকপাড়া গ্রামের একটি সেতুর কাছে যেতে বলা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

স্বজনদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার কিছু সময় পর রাফিন তার দাদির মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জানান, তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে। এ সময় অপহরণকারীরা তার মুক্তির জন্য ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে।

পুলিশ জানায়, মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় কুতুবপুর এলাকার একটি খালে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে কুতুবপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গভীর রাতে ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করেন।

শনিবার সকালে খবর পেয়ে রাফিনের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার পরনের জিন্স প্যান্ট দেখে মরদেহটি রাফিনের বলে শনাক্ত করেন।

আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল বলেন, কুতুবপুরের একটি খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি রাফিনের বলে পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেছেন। তবে পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

প্যানেল চেয়ারম্যানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দা‌য়িত্ব থেকে অব্যাহতি

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
প্যানেল চেয়ারম্যানের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, দা‌য়িত্ব থেকে অব্যাহতি
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছ‌ড়ি‌য়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ১০ জুন জেলা প্রশাসক অন্নাপূর্ণা দেবনাথ সই করা এক আদেশে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই আদেশে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সং‌শ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান খাদিজা বেগম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সদস্যের সঙ্গে তার বিরোধ স‌ৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

এরই মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভি‌ডিও এবং ভিডিওটির কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। একজন জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন এলাকার সাধারণ মানুষজন।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। এ বিষ‌য়ে খাদিজা বেগমের স‌ঙ্গে বারবার যোগা‌যোগ করা হ‌লে তি‌নি ফোন রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

ত‌বে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণে খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।