চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর গোপনে বিয়ে হলেও প্রায় দুই বছর ধরে স্বামীর সংসারে ঠাঁই হয়নি এমন অভিযোগ তুলে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে বিষের বোতল হাতে প্রেমিকের বাড়ির সামনে অনশনে বসেছেন রানী আক্তার (৩০)।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মধ্যচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ওই বাড়িতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা গ্রামের হানিফ চৌকিদারের মেয়ে রানী আক্তারের সঙ্গে পাশের মধ্যচর গ্রামের আয়নাল খানের ছেলে স্বপন খানের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রাণীর দাবি, ২০২৪ সালের ২০ মে রাজধানীর খিলক্ষেতের মেরাদিয়া এলাকার একটি কাজী অফিসে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। তবে সম্প্রতি রানী আক্তারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে স্বপন। এ কারণে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি নিয়ে রাণী শনিবার সকালে বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
ভুক্তভোগী রানীর অভিযোগ, ৪ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৪ সালে ঢাকায় গোপনে ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। তবে প্রায় দুই বছর পার হলেও তাকে স্বামীর সংসারে তুলে নেওয়া হয়নি। বিয়ের পর স্বপন নিয়মিত যোগাযোগ রাখলেও শ্বশুরবাড়িতে নেওয়ার কথা বললেই নানা অজুহাত দিতেন। একপর্যায়ে বিদেশে থাকা এক আত্মীয়কে ছাড়িয়ে আনার কথা বলে তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, স্বপনের অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা চলছে। এরপর থেকেই স্বপন যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
তিনি বলেন, আমি স্বপনের কাছে শুধু স্ত্রীর মর্যাদা চাই। অন্যকিছু চাই না। যদি স্বপন আমাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকার না করে, মর্যাদা না দেয় তাহলে আমি বিষপান করে মরে যাব। স্বামীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।
স্বপনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ছেলে যদি বিয়ে করে থাকে, সেটা আমাদের না জানিয়ে করেছে। আমরা এ বিয়ে মানি না। মেয়েটির চরিত্র ভালো না। ছেলে যদি তাকে নিয়ে আসতে চায়, তাহলে প্রয়োজনে ছেলেকেও এই বাড়িতে আর ঢুকতে দেব না। তবুও ওই মেয়েকে আমাদের ঘরে তুলব না।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




