• ই-পেপার

কুমিল্লায় তরুণীকে সংঘবব্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১

আহত বন্যহাতির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
আহত বন্যহাতির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড় থেকে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া একটি বন্য মা হাতির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নির্দেশনার পর বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলেই হাতিটির নিবিড় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

তিনি জানান, টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় কক্সবাজার টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া এলাকার একটি পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং হাতিটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা না করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর চিকিৎসা কার্যক্রমের অগ্রগতিও নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, হাতিটির পেছনের দুই পা, বুক ও পেটে গুরুতর আঘাত লেগেছে। ক্ষতস্থানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেলাই করা হয়েছে। বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে প্রাণীটিকে সুস্থ করে তুলতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।

এর আগে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া ও সদর বনবিটের শিয়াল্যাঘোনা সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খাবারের সন্ধানে পাহাড়ে ওঠা হাতিটি ভেজা ও নরম মাটিতে পা পিছলে প্রায় ৩০০ ফুট নিচে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয়ে আর দাঁড়াতে পারেনি। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি বন বিভাগকে জানালে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।

টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ জানান, বন বিভাগের একটি দল সার্বক্ষণিক ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা করা গেলে হাতিটি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তারা আশা করছেন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, হাতিটি এখনো মাটিতে শুয়ে রয়েছে এবং খুব সীমিতভাবে নড়াচড়া করতে পারছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, কবজি বিচ্ছিন্ন

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বহিষ্কৃত যুবদল নেতাকে কুপিয়ে জখম, কবজি বিচ্ছিন্ন
জাহিন শেখ। সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গা শহরে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা জাহিন শেখকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। হামলায় তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে ও বাম পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জাহিন শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকার মৃত রজব আলীর ছেলে। তিনি জেলা যুবদলের সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার পর জাহিন শেখকে ফোন করে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় ডেকে নেয় দুর্বৃত্তরা। সেখানে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে পাঠান।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব জানান, হাসপাতালে আনার সময় জাহিন শেখের বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন ছিল। বাম পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রানা জানান, জাহিন শেখ ও অভিযুক্তরা আগে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে উখিয়া প্রশাসন

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে উখিয়া প্রশাসন
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পালংখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। পরিদর্শনকালে তিনি বন্যাকবলিত জনপদ, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দিনব্যাপী পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাটির দেয়াল ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি চাল এবং ২ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের মধ্যেও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণকালে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার বিষয়ে অবগত হন ইউএনও পান্না আক্তার।

ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার ও উপজেলা প্রশাসন সর্বদা রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি পাহাড় ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে। তবে সবাইকে নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে ইউএনও পালংখালী ইউনিয়নে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পও ঘুরে দেখেন। এসময় প্রকল্পগুলোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরীসহ উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি : চারদিন পর নিখোঁজ কালাম পাইকারের মরদেহ উদ্ধার

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি : চারদিন পর নিখোঁজ কালাম পাইকারের মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নিম্নচাপ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ঢেউয়ের কবলে পড়ে বরগুনার তালতলীতে ফকিরহাট সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে।

গত ৭ জুলাই দুপুরে ১৮ জন জেলে নিয়ে এ দুর্ঘটনায় ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নিখোঁজ ছিল আবুল কালাম পাইকার ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই জেলে। 

এরমধ্যে শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গভীর সমুদ্র থেকে ভাসমান অবস্থায় আবুল কালাম পাইকার নামের এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজ রয়েছে অন্য জেলে শহিদুল ইসলাম।

তালতলীর ফকিরহাট ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী জানান, গত ৭ জুলাই ফকিরহাট উপ-মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও আশারচর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে লালদিয়ার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ১৮ জন জেলেসহ দুটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে। ১৪ ঘণ্টা পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের সহায়তায় ১৮ জন জেলের মধ্যে থেকে ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদের মধ্য থেকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা গ্রামের বাদল খানের ছেলে জেলে আবুল কালাম পাইকার ও সিরাজ মিস্ত্রীর ছেলে শহিদুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। আজ চারদিন পর বিকেলে কালাম পাইকারের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ জেলে শহিদুল ইসলামকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজ এক জেলের মরদেহ পাওয়া গেলেও এখনো এক জেলে নিখোঁজ রয়েছে।

কুমিল্লায় তরুণীকে সংঘবব্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ১ | কালের কণ্ঠ