আতশবাজি, পটকা, মিছিল, নাচ, ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজ ও পতাকা নিয়ে মধ্যরাতেই বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় শেষ ১৫ মিনিট থাকতেই তিন গোল করে ষোলোতে জায়গা করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়ে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ওস্তাদের মাইর শেষ রাতে হয়, এটাই হলো ওস্তাদের ম্যাজিক। খেলার শেষের ১৩ মিনিটে সব ওলট পালট করে দিল ফুটবলের জাদুঘর মেসি। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিসরকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছেন।
আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বসিত সমর্থকেরা ‘মেসি, মেসি’ বলে স্লোগানও দেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে খেলা শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দুয়া পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শুরু হয় এ জয় উদ্যাপন। এ সময় আর্জেন্টিনার কর্মী-সমর্থকসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষও ছিল লোকে লোকারণ্য।
আর্জেন্টিনার উচ্ছ্বসিত সমর্থকরা ‘মেসি, মেসি’ বলে স্লোগানও দেন। সন্ধ্যার পর থেকেই কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা মানুষের ভিড় জমে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন। তাদের কেউ এসেছিলেন সপরিবার, কেউ বন্ধু–পরিচিতজনদের সঙ্গে। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি পরিয়ে শিশুদের নিয়েও কোনো কোনো মা–বাবা এসেছিলেন। আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে সহপাঠী ও জ্যেষ্ঠ-কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রিয় দলকে সমর্থন জানান আর্জেন্টিনা-সমর্থক শিক্ষার্থীরাও।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ থেকে সব খেলা দেখাতে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে একটি ডিজিটাল স্ক্রিন বসানো হয়েছিল। এসব স্থানে আর্জেন্টিনা কর্মী সমর্থকসহ সঙ্গে খেলা দেখেছেন কেন্দুয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। আগের ম্যাচগুলোর ধারাবাহিকতায় খেলা দেখতে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভিড় জমে হাজারো মানুষের।
শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের নির্ধারিত সময়েই ৩-২ গোলে আর্জেন্টিনা বিজয়ী হয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল।
আতশবাজি, পটকা, মিছিল, নাচ ও ভুভুজেলা বাঁশির আওয়াজে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। নানাভাবে আর্জেন্টিনার বিজয় উদ্যাপনে শামিল হন সমর্থকরা।
উদ্যাপনে অংশ নেওয়া সমর্থক হলি খান বলেন, মেসি আমাদের অনুভূতি, মেসি আমাদের স্বপ্ন, মেসি তুমি এগিয়ে যাও, আমরা আছি তোমার সঙ্গে। এ রাত আমাদের জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরেক সমর্থক কেন্দুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব জোবায়ের ইমন হিলালী বলেন, খেলা শেষ হতে আর মাত্র ১৫ মিনিট বাকী। তখনও শান্ত হয়ে একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছিল মেসি। তাই বলব শেষ হাসি সেই হাসে যাঁর মধ্যে ধৈর্য থাকে, আর্জেন্টিনা সাপোর্টার হিসেবে আমি আনন্দিত।




