• ই-পেপার

বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় হাতবোমা নিক্ষেপ, আহত ৩

সাপের কামড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
সাপের কামড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর
ছবি: কালের কণ্ঠ

রান্না করতে গিয়ে সাপের কামড়ে খাদিজা বেগম (৪০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কোলচরি (সস্থাল) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত খাদিজা বেগম ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের মেয়ে ও মো. জাকির বেপারীর স্ত্রী।

স্বজনরা জানান, রান্নার জন্য মঙ্গলবার সকালে রান্না ঘরে প্রবেশ করলে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর সাপ তার হাতে কামড় দেয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
 

বান্দরবান

মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

১০ জুলাই পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ছড়ায় ভেসে গেছে এক শিশু নাফাখুমে ৭৮ পর্যটক আটকা

জহির রায়হান, বান্দরবান
মাতামুহুরীর পানি বিপৎসীমার ওপর, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টি একসঙ্গে বহু সংকট ডেকে এনেছে পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে। পাহাড়ধসের আশঙ্কা, পাহাড়ি ঢল, বন্যা, সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীনতা, জলাবদ্ধতা- সব মিলিয়ে এ জেলার  জনজীবন কার্যত স্থবির। 

এদিকে, নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়েছে বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জননিরাপত্তার স্বার্থে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে পর্যটক, ট্যুর অপারেটর ও সাধারণ মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়, ঝর্ণা, ট্রেইল, নদীপথ ও দুর্গম এলাকায় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ের অংশ বসতবাড়ির ওপর ধসে পড়েছে, কোথাও প্রধান সড়কে ধসে পড়েছে পাহাড়ের মাটি।

সরেজমিন গিয়ে ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হচ্ছে। তার ওপর রয়েছে টানা বৃষ্টি। এতে থানচি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। ফলে রেমাক্রী খাল ও বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়ায় পানি দ্রুত অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় দুর্গম নাফাখুম জলপ্রপাতে ৭৮ জন পর্যটক ও ৯ জন গাইড আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হওয়ায় রেমাক্রী ও নাফাখুম এলাকায় অবস্থানরত পর্যটকদের তখনি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। নদীর স্রোত কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

বান্দরবান-থানচি সড়কের নীলগিরি এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত মাটি অপসারণ করে সড়কটি সচল করে। অন্যদিকে লামার ফাইতং ইউনিয়নেও পাহাড়ধসে একটি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

টানা বৃষ্টিতে সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের গ্রিনপিক রিসোর্টসংলগ্ন এলাকায় ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি খুঁটি হেলে পড়ে। এতে বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টানা ১৪ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৫টায় পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।  

দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও মারাত্মক ব্যাহত হয়। মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে না পারায় অনেক এলাকায় জরুরি যোগাযোগও বিঘ্নিত হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘুমধুম ইউনিয়নের মধ্যমপাড়ায় পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে একটি পরিবারের ঘরবাড়ির বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের শঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। যেহেতু অতিভারী বৃষ্টির ফলে ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে, তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও চূড়ায় বসবাসরত সব জনসাধারণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে বান্দরবান শহরের কালাঘাটা, বালাঘাটা, বনরূপা পাড়া, সিদ্দিক নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। এছাড়া পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দুই উপজেলায় বন্যা
স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ি ঢলে লামা ও আলীকদম উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। আলীকদমের প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী, সোনাইছড়ি ও দোছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যানবাহন চলছে চরম ঝুঁকি নিয়ে। দুর্যোগের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়নে। 

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সৈয়দ আহমেদ জানান,  সোমবার (৬ জুলাই) সকালে প্রবল স্রোতের একটি ছড়ায় ভেসে যায় পাঁচ বছরের শিশু আলিয়া সুলতানা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ছড়াগুলোর আকস্মিক স্রোত কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই ঘটনাই তার নির্মম উদাহরণ।

জেলা প্রশাসন জানায়, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাময়িকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন পাহাড়ধস-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করছে। ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও বিতরণ করা শুরু হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়। সময়মতো সড়ক সংস্কার, কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো শক্তিশালী না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বান্দরবান কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা) পর্যন্ত বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার অতিভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস বলেন, গত দুই দিন ধরে বান্দরবানে অতি বৃষ্টি রয়েছে। বৃষ্টিতে যাতে বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমাদের সাত উপজেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় সড়কের ওপর মাটি ও পাথর ধসে পড়ায়  যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল

গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, যুবক গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গৃহবধূর আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবির অভিযোগে শাহিন আলী (৩২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। সোমবার (৬ জুলাই) শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাকে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের জালালিয়া রোডের বাসিন্দা শুক্কুর আলীর ছেলে।

র‌্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, শাহিন আলী তার বাসায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূ তার কাছ থেকে নিয়মিত কেনাকাটা করতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি গৃহবধূ শাহিনের কাছ থেকে এক জোড়া জুতা কেনেন। জুতাটি ছোট হওয়ায় তা পরিবর্তনের জন্য ওই দিন তিনি শাহিনের বাসায় যান। সে সময় বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শাহিন জোরপূর্বক গৃহবধূর সঙ্গে আপত্তিকর কাজ করেন এবং গোপনে মোবাইলে তা ভিডিও ধারণ করেন।

তিনি আরো জানান, পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গৃহবধূকে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি করে অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করেন শাহিন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ভিডিওটি মুছে ফেলার অনুরোধ করলে শাহিন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন।

র‌্যাব জানায়, চাপে পড়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শাহিনকে ৫০ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকার জন্য পুনরায় তার ওপর চাপ দিতে থাকেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে আপত্তিকর ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-৯-এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শাহিন আলীকে গ্রেপ্তার করে।

২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতি, উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
২৬ চেকে ৫১ লাখ টাকার জালিয়াতি, উপজেলা পরিষদের ৩ কর্মচারী গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইস্যু করা ২৬টি চেকের টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল, বর্তমান অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম। তাদের মধ্যে পার্থ বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত। তার বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে। নূর ইসলামের বাড়ি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর বরইয়া গ্রামে এবং মো. ফিরোজের বাড়ি পরশুরাম উপজেলার গুথুমা গ্রামে।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতিকালে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েল (মুড়ি) ও ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকার সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ, ফিরোজ ও নূর ইসলামকে তার কার্যালয়ে ডেকে আনেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে চেক জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় আজ তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর মূল অঙ্কের আগে অতিরিক্ত সংখ্যা যুক্ত করে চেকের টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে টাকার বানানের অংশেও পরিবর্তনের আলামত পাওয়া গেছে। তবে চেকবইয়ের কাউন্টারফয়েলে এসব পরিবর্তনের কোনো উল্লেখ না থাকায় হিসাব পর্যালোচনার সময় অনিয়মটি ধরা পড়ে। গত প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে চেকের অঙ্ক পরিবর্তন করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছিল। চলতি বছরের ১ মার্চ সর্বশেষ এমন ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

একই বছরের মার্চে পার্থ ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে বদলি হওয়ার পর এ ধরনের আর কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের স্টেনোটাইপিস্ট কাম-কম্পিউটার অপারেটর আবদুল হালিম চৌধুরী সুজন বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় চেক জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন।

এ ব্যপারে জানতে ফেনীর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম এবং সদ্যবিদায়ী ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহরিয়া ইসলামকে কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। 

ফুলগাজী থানার ওসি এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘চেক জালিয়াতির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক তথ্য দিয়েছেন। হিসাব-সংক্রান্ত নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট চেক ও ব্যাংকের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় হাতবোমা নিক্ষেপ, আহত ৩ | কালের কণ্ঠ