• ই-পেপার

প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ছাত্রলীগ নেতার

মহেশপুরে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
মহেশপুরে খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের একটি খাল থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ভবনগর গ্রামের ভাওনের খাল থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হাসান জানান, সকালে সড়কের ব্রিজের নিচে পানির ভেতর এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান জানান, পানিতে ভাসমান অবস্থায় ওই ব্যক্তির হাত দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো পরিচয় শনাক্ত হয়নি। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে পুলিশ কাজ করছে।

গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বৃদ্ধের
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় (৬০) এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) ভোররাতের কোনো একসময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার পোনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পোনা এলাকায় একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত গাড়ি পথচারী ওই ব্যক্তিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছি। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।’

তিনি আরো জানান, এখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তার পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ করছে। নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ফটিকছড়িতে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল, অচল খাগড়াছড়ি-ঢাকা মহাসড়ক

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ফটিকছড়িতে চলছে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল, অচল খাগড়াছড়ি-ঢাকা মহাসড়ক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে খাগড়াছড়ি-ঢাকা মহাসড়কে আটকা পড়েছে অসংখ্য যানবাহন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়িতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালিত হচ্ছে। রবিবার (২৬ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের ডাকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। 

হরতালের কারণে খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক, মিরসরাই-ফটিকছড়ি এবং হেঁয়াকো-চট্টগ্রাম সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সরেজমিনে এদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, হরতাল সমর্থকরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা, হেঁয়াকো ও বাগানবাজার এলাকার অন্তত ২০-২৫টি স্থানে বালুর ট্রাক আড়াআড়ি করে রেখে এবং বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা গেছে তিন ইউনিয়নের আন্দোলনকারী বাসিন্দাদের।

ঢাকা ও খাগড়াছড়ির সাথে চট্টগ্রামের সংযোগকারী প্রধান সড়কগুলোতে অবরোধ থাকায় সড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, সদ্য ঘোষিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তরটি বর্তমানে যে স্থানে (পশ্চিম ভূজপুর) নির্ধারণ করা হয়েছে তা উপজেলার অধিকাংশ মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়। তারা অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সমন্বয় পরিষদের নেতারা।

ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘হরতালে যান চলাচল বন্ধ থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

চনপাড়ায় আলোর মশাল জ্বালাচ্ছেন এমপি দিপু ভূঁইয়া

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
চনপাড়ায় আলোর মশাল জ্বালাচ্ছেন এমপি দিপু ভূঁইয়া
সংগৃহীত ছবি

​আমাদের ঘরে ঘরে কান্নার রোল পড়েছিল এই মাদকের কারণে। স্বামী-সন্তানকে বাঁচানোর আকুতি কেউ শোনে নাই। কত রাত বুক চাপড়ে কেঁদেছি, ভয়ের চোটে চোখের পানিও শুকিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এমপি দিপু সাহেব এসে যেভাবে এই নরক পরিষ্কারের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাতে আজ আমরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। আবেগাপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন চনপাড়ার গৃহবধূ কুলসুম। তার এই কান্নাভেজা কণ্ঠই যেন দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ একটি জনপদের মুক্তির প্রতীক, যেখানে অন্ধকার ভেদ করে নতুন সূর্যের আলো উঁকি দিচ্ছে।

​অন্ধকার থেকে মুক্তির সংগ্রাম

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অপরাধের আখড়া, মাদকের স্বর্গরাজ্য আর ‘পাপের নগরী’ হিসেবে কুখ্যাত ছিল রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র। এই জনপদটি একসময় সমস্ত অবৈধ কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছিল। খুন, মাদক ব্যবসা, প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি, ছিনতাই এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখার মহোৎসব চলত সেখানে। চনপাড়ার নাম শুনলেই আশপাশের মানুষের মনে এক অজানা আতঙ্ক কাজ করত। প্রশাসনও নানা জটিলতায় সেখানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হিমশিম খেত। এই অবরুদ্ধ ও অপরাধের খাসমহল হয়ে ওঠা জনপদটিকে সাধারণ মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার কোনো বিকল্প ছিল না। ​আর ঠিক এই কঠিন সময়ে ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। চনপাড়ার অন্ধকার জগৎকে চিরতরে গুঁড়িয়ে দিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাল ধরেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর হুলিয়া জারির পর থেকেই টালমাটাল হয়ে পড়েছে অপরাধ সাম্রাজ্যের ভিত। এমপি দিপু পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, অপরাধী সে যে-ই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, চনপাড়ার মাটিতে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা মাদকের কারবার আর এক মুহূর্তের জন্যও বরদাশত করা হবে না। তাঁর এই স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান অপরাধীদের মনোবল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

​প্রশাসনের গতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের স্বস্তি

সরেজমিনে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের স্থবির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নতুন গতি পেয়েছে। তাঁর কড়া নির্দেশনার পরই চনপাড়ায় সাঁড়াশি অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ এখন ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছে, যা এত দিন তাদের কাছে কল্পনাতীত ছিল। অপরাধীদের শেকড় উৎপাটন করে এই জনপদকে একটি আধুনিক, শান্তিময় ও মাদকমুক্ত মডেল বসতিতে রূপান্তর করতে এমপি দিপুর প্রণীত পরিকল্পনা সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

​এলাকার রিকশাচালক জাকির হোসেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘আগে সন্ধ্যা নামলেই চনপাড়ায় নামত অন্ধকারের রাজত্ব। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। দিপু ভূঁইয়ার হুঁশিয়ারির পর থেকে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা স্বাধীনভাবে আয়-ইনকাম করে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি। আল্লাহ যেন দিপু ভাইকে দীর্ঘজীবী করেন।’

​এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা রহমত আলী আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা তো মানুষ হয়েও মানুষ হিসেবে বাঁচতে পারতাম না। দিনের বেলাতেও বুকের ভেতর কাঁপন ধরত—এই বুঝি কেউ সর্বস্ব কেড়ে নিল। আমাদের সন্তানেরা চোখের সামনে মাদকের অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছিল। আজ এমপি দিপু ভাই যেভাবে আমাদের মাথার ওপর ছাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে আমরা মৃত্যুর মুখ থেকে জীবন ফিরে পেয়েছি।’

​জমির স্থায়ী স্বত্ব ও আলোর নগরীর স্বপ্ন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু অপরাধ দমনই নয়, চনপাড়ার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এই চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রকে একটি আধুনিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানকার শিক্ষার মানোন্নয়ন, বসবাসের উন্নয়ন এবং এলাকাটিকে পুরোপুরি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। ১৯৭৪ সাল থেকে এখানে বসবাসরত ৭০ থেকে ৮০ হাজার মানুষ ওয়াসার জমিতে বসবাস করে আসছে। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ যেন সেই জমিটুকু এখানকার বসবাসরতদের মাঝে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেয়, সে ব্যাপারে এ সরকারের পক্ষ থেকে ডিও লেটার দেওয়াসহ সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছেন এমপি দিপু ভূঁইয়া।

স্থানীয়রা বলেন, কত এমপি আইলো- গেল। কেউ চনপাড়াবাসীর জন্য কিছু করেনি। ​এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর এই সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি ও অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। চনপাড়ার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ আজ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে। এমপি দিপুর এই আপসহীন ভূমিকা অব্যাহত থাকলে অচিরেই চনপাড়া তার সব পুরনো অপবাদ ও অন্ধকার পেছনে ফেলে আলোর পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে—এটাই রূপগঞ্জের আপামর জনসাধারণের অগাধ বিশ্বাস।
 

প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ছাত্রলীগ নেতার | কালের কণ্ঠ