• ই-পেপার

কেউ প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব, পুলিশ সুপার! মূলত সবাই প্রতারক

পেয়ারাবাগান দেখতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
পেয়ারাবাগান দেখতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

পেয়ারাবাগানে ঘুরতে গিয়ে ট্রলার থেকে পড়ে মুহিন সরদার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বরিশালের স্বরূপকাঠী উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের আদমকাঠি-কটুরাকাঠি খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

মুহিন বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও গুঠিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী মনির সরদারের ছোট ছেলে। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের বন্ধুরা জানান, শনিবার বন্ধুদের সঙ্গে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলার পর্যটন এলাকা আটঘর-কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগানে ঘুরতে যান মুহিন। বিকেলে তারা ভাড়া করা ট্রলারে ঘুরছিলেন। চলন্ত ট্রলারটির সামনের অংশে বসে ছিলেন মুহিন। ট্রলারটি আদমকাঠি থেকে কটুরাকাঠি খাল অতিক্রম করার সময় মুহিন হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে গভীর পানিতে পড়ে যান। তিনি পানিতে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রলার থামিয়ে তার বন্ধুরা ও স্থানীয়রা উদ্ধারের জন্য পানিতে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় তাকে পানি থেকে উদ্ধার করে দ্রুত নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, পেয়ারাবাগানে ঘুরতে এসে অসাবধানতাবশত ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে ওই তরুণের মৃত্যু হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া রাতে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্বকাপ ফাইনাল

গোপালগঞ্জে গরুতে হবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভূরিভোজ

গোপালগঞ্জ ও কোটালীপাড়া প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে গরুতে হবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভূরিভোজ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ফাইনাল উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু জবাই করে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে কুশলা ইউনিয়নের পবনাপাড় গ্রামে বড় আয়োজন করেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

রবিবার (১৯ জুলাই) পবনাপাড় গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে কে এম চাঁদ মিয়া পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড স্পোর্টিং ক্লাব চত্বরে এ ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয়ে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেন।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নেও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠনের উদ্যোগে বড় পর্দায় ফাইনাল ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি অনেক পরিবারও নিজেদের বাড়িতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করেছে।

পবনাপাড় গ্রামের আর্জেন্টিনা সমর্থক বরকতউল্লাহ বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষে আমরা প্রথমবারের মতো ভূরিভোজের আয়োজন করেছিলাম। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ফাইনাল উপলক্ষে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। শুধু আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য নয়, এতিম ও অসহায় মানুষদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও আর্জেন্টিনা সমর্থক মান্নান শেখ বলেন, কান্দি ইউনিয়নে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উদ্যোগে ১২টি স্থানে প্রায় ৮ হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়েছে। বড় পর্দায় খেলা দেখার পাশাপাশি সেখানে আগত দর্শকদেরও আপ্যায়ন করা হবে।

নেলসন ম্যান্ডেলা অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান

চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
নেলসন ম্যান্ডেলা অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান
সাংবাদিক হাবিবুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য নেলসন ম্যান্ডেলা অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নোয়াখালীর চাটখিল প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান। শনিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকার বিজয়নগর থ্রি স্টার হোটেলের সভাকক্ষে নেলসন ম্যান্ডেলার ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাসভা ও গুণীজন সংবর্ধনা সভায় এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সাংবাদিক হাবিবুর রহমানের পক্ষে পুরস্কার নেন তার বড় ছেলে সাংবাদিক মো. আরিফুর রহমান।

ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সোসাইটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি ড. এ টি মমতাজুল করিমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি মীর হাসমত আলী। 

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিচারপতি সিকদার মকবুল হক। এ ছাড়া সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক বিচারপতি পীরজাদা শহীদুল হারুন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রোকন উদ-দৌলা প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, সাংবাদিক মো. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান ও সমাজ সেবায় অবদান রাখায় গত ৫ বছরে ১৪টি জাতীয় ও ৫টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি ১৯৮০ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ২০০৪ সালে জাতীয় গণমাধ্যম পিরাবি কর্তৃক সাংবাদিকতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন তিনি। 

সালিশে ২০ জুতা পেটার ঘটনায় মামলা দায়ের

পাবনা প্রতিনিধি
সালিশে ২০ জুতা পেটার ঘটনায় মামলা দায়ের
সংগৃহীত ছবি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সালিশি বৈঠকে এক ব্যক্তিকে জুতা পেটার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী মোছা. রোজিনা খাতুন সাঁথিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে মামলাটি রুজ করা হয়।

‎এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. এরশাদ আলীর প্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

‎মামলার বাদীর অভিযোগ, সালিশে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক পর্যায়ে সালিশস্থল ত্যাগ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।

‎অভিযোগে আরো বলা হয়, সালিশকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

‎মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টার,  সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলী ও সালিশকারীদেরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎এদিকে একই ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই মো. এরশাদ আলী বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মামলার আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ কাঠাল কাটার অজুহাতে ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। পরে বাড়িতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী একা থাকার সুযোগে তিনি ঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এর পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সালিশের মাধ্যমে ২০টি জুতা পেটা করা হয়।