সম্প্রতি তিন র্যাব সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে দেশে-বিদেশে আলোচনার ঝড় তোলা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যা, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মাদকসহ অন্তত ১৫টিরও বেশি মামলার আসামি শফিক ডাকাতকে (শফিক উদ্দিন) অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০।
রবিবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে র্যাব-৯ ও র্যাব-১০-এর যৌথ একটি দল রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর থানার রসুলবাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা কুখ্যাত শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন এবং চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
সোমবার দুপুরে (১৩ জুলাই) সিপিসি-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুন্নবী ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
এদিকে শফিক ডাকাত গ্রেপ্তারের খবরে তার নিজ গ্রাম জেলার নবীনগর উপজেলার খাগাতুয়াসহ আশ পাশের গ্রামগুলোতে আনন্দ ও স্বস্তি বিরাজ করছে।
সূত্র জানায়, নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামের খাগাতুয়া গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত শফিক মিয়া ওরফে চোরা শফিকের বিষয়ে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা সংস্থার তিন সদস্য সিভিল পোশাকে গত ১১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে খাগাতুয়া গ্রামে যান।
এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামে র্যাবের সদস্যরা এসেছে, এ তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পরে কুখ্যাত শফিক ডাকাত ও তার বাহিনী ওই তিন র্যাব সদস্যের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।
এসময় শফিক ডাকাতের লোকজন র্যাবের সদস্যদের কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এরপর শফিকের লোকজন আহত র্যাব সদস্যদের গ্রামের একটি বাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখে।
পরে খবর পেয়ে র্যাবের অন্য একটি গোয়েন্দা টিমের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত র্যাবের সদস্যদের উদ্ধার করে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। পরে আহতদের ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব। প্রথম দফায় পাঁচজন এবং পরে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ধারাবাহিক গোয়েন্দা তৎপরতার একপর্যায়ে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা শফিক ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব-৯ এর কমান্ডার এডিশনাল এসপি মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী শফিক ডাকাত দীর্ঘদিন ধরে তার এলাকায় চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে নবীনগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টিরও বেশি মামলা রয়েছে। দেরি হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হলো।’
তিনি আরো জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাদের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।




