• ই-পেপার

বালুবাহী ট্রাকচাপায় দ্বিখণ্ডিত নারীর পা

নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে খাওয়া শেষে রাত্রিযাপন নাহিদ-হাসনাতের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাপা নেতার বাড়িতে খাওয়া শেষে রাত্রিযাপন নাহিদ-হাসনাতের
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় পার্টির (জাপা) এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের বাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহর অবস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে অবস্থান করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনে সহযোগিতার অভিযোগে একসময় জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিল এনসিপি। সেই দলেরই এক শীর্ষ নেতার বাড়িতে বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ত্রাণ দিতে এসে দলটির শীর্ষ দুই নেতার রাতযাপন ও নৈশভোজের বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈলছড়ি গ্রামের ওই বাড়িটি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র এবং জাতীয় পার্টির আমলে দুই দফায় বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। বাড়িটি আমাদের ছয় ভাইয়ের নামে। এনসিপি নেতাদের আমাদের বাড়িতে অবস্থানের বিষয়ে প্রথমে আমি কিছু জানতাম না, পরে শুনেছি তারা সেখানে ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার এক ছোট ভাই আমেরিকায় থাকেন। তার সঙ্গে হয়তো তাদের কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে। তবে আমাদের পরিবারের কেউ এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নয়।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রবিবার রাতে এনসিপি নেতাদের থাকা-খাওয়ার সার্বিক বিষয়টি দেখভাল করেছেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ভাই অলিউল ইসলাম চৌধুরী শুক্কু মিয়ার ছেলে রহিমুল এহসান চৌধুরী মিঠু।

এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় রবিবার সকালে চট্টগ্রামে আসেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ। দিনভর আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণের পর সন্ধ্যায় তারা ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে যান এবং সেখানে রাতযাপন করেন।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তারা বাঁশখালীতে রাতে অবস্থান করেছিলেন এটি সত্য। তবে বাড়িটি সুনির্দিষ্টভাবে কার, তা আমার জানা নেই।’

পাবনায় ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণের মৃত্যু

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনায় ট্রেনে কাটা পড়ে তরুণের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

পাবনার ঈশ্বরদীতে চলন্ত ট্রেনে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মোহাম্মদ আলী (১৭) নামের এক হকারের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত মোহাম্মদ আলী পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার মাঠপাড়া গ্রামের দিনমজুর ইউসুফ আলীর ছেলে। 

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে পপকর্নভর্তি বস্তা নিয়ে চাটমোহর স্টেশন থেকে ট্রেনে করে ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে আসেন মোহাম্মদ আলী। সেখান থেকে চাটমোহরমুখী অন্য একটি চলন্ত ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলে অসাবধানতাবশত তার পা পিছলে যায়। এতে তিনি ট্রেনের নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। 

মোহাম্মদ আলীর স্বজনরা জানান, পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে অল্প বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শুরু করে মোহাম্মদ আলী। প্রতিদিন পপকর্ন বিক্রি করে যা আয় হতো, তা পরিবারের হাতে তুলে দিতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

যানজট নিরসনে চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
যানজট নিরসনে চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযান
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট কমানো এবং মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানা ও মিয়াবাজার হাইওয়ে থানা পুলিশের পৃথক দুটি দল অংশ নেয়। এ সময় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা, কাঁচাবাজার ও অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে বর্জ্য অপসারণও করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যত্রতত্র বাস থামানো এবং ফুটপাত দখলের কারণে প্রায় প্রতিদিনই তীব্র যানজট সৃষ্টি হতো। এ সমস্যা সমাধানে বাজারের দক্ষিণ পাশে ইসলামী ব্যাংকসংলগ্ন এলাকা এবং উত্তর পাশে হায়দার শপিং কমপ্লেক্সসংলগ্ন স্থানে দুটি বাস-বে স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ওই দুটি স্থানে অস্থায়ী বাস-বে চালু করা হয়েছে। শিগগিরই স্থায়ী বাস-বে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এর আগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ব্যবসায়ীদের কয়েক দিন সময় দিয়ে মাইকিং ও গণসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশের সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ফুটপাত দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছিল। বারবার সতর্ক করার পরও দখলদাররা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
ছবি: কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পরদিন এক ব্যক্তির  (স্বামীর) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে জগন্নাথপুর পৌরসভার হবিবনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুন্দর আলী (২৫) হবিবনগর গ্রামের ছমেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে সুন্দর আলী ও তার স্ত্রী লুবনা বেগমের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।

রবিবার দুপুরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে লুবনা বেগম তার বোনের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

পরদিন সোমবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সুন্দর আলী ঘর থেকে বের না হওয়ায় প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তারা তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।

পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে সুন্দর আলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার পর থেকে সুন্দর আলীর স্ত্রীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জগন্নাথপুর সার্কেল) রফিকুল ইসলাম এবং জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বালুবাহী ট্রাকচাপায় দ্বিখণ্ডিত নারীর পা | কালের কণ্ঠ