• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন দাবি

রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহী থেকে বাস চলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁরা সাধারণ সভা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি তুলে এ আন্দোলন শুরু করেছেন ।

বাস শ্রমিকরা জানান, রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের অধিকাংশ সদস্যই বেশ কয়েকমাস ধরে সংগঠনের এ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ নিয়ে শ্রমিকেরা দুইভাগে বিভক্ত। যারা নির্বাচন দাবি করছেন তাদের ওপর গত ২৩ এপ্রিল হামলার ঘটনাও ঘটে। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখিসহ তার অনুসারীরা সেদিন টার্মিনাল এলাকায় ব্যাপক বোমাবাজি করেন।

পরে এই রফিকুল ইসলাম পাখিকেই সভাপতি করে ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণা করে সড়ক পরিবহন ফেডারেশন। এই কমিটি প্রত্যাখান করে শ্রমিকেরা গত মে মাসে কয়েকদফা ধর্মঘট করেন। পরে জেলা প্রশাসক গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ঈদের পর নির্বাচন হবে।

তবে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী শহিদুল ইসলাম শ্রমিকদের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘আমি নিজেই নির্বাচনি কমিটি করার প্রস্তাব রেখেছিলাম। কিন্তু সেই প্রস্তাব না মেনে শ্রমিকেরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। এটি তারা করতে পারেন না। তার পরেও বিষয়টি সুষ্ঠ সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টা থেকে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা। তবে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ওইদিন রাতে শুধু দূরপাল্লার বাসগুলো ছেড়ে যায়। কিন্তু মঙ্গলবার সকাল থেকে সব রুটেরই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।

শ্রমিকরা জানান, নির্বাচন আয়োজন করতে গত সোমবার বিকেলে নিজের কার্যালয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বসেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। ওই সভায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালও ছিলেন। শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির অনুসারী নজরুল ইসলাম। অপরদিকে তাদের বিরোধী শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন, সংগঠনের সাধারণ সভা করে যেন নির্বাচনি বোর্ড গঠন করা হয়।

কিন্তু জেলা প্রশাসক জানান, এখন সাধারণ সভা করা সম্ভব নয়। কয়েকজনের কথা শোনার পর তিনি বলেন, ‘নজরুল ইসলাম হেলালসহ পুলিশ-প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে তিনি একটি নির্বাচনি কমিটি গঠন করে দিবেন। তারা নির্বাচন সম্পন্ন করবেন। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিক নেতারা এই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষের শ্রমিক নেতাদের কথা কাটাকাটি হয়। তখন হেলাল-পাখিবিরোধী শ্রমিকেরা ডিসির সামনেই বাস বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলে চলে আসেন। এরপর রাত থেকে বাস বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

এদিকে ডিসির কার্যালয় থেকে দুইপক্ষের শ্রমিক নেতারা শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকায় এলে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে ওইদিন রাতে কিছু শ্রমিক নজরুল ইসলাম হেলালের ব্যক্তিগত চেম্বার ভাঙচুর করেন। চেম্বারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ নজরুল ইসলাম হেলাল।

জানতে চাইলে শ্রমিক নেতা মোমিনুল ইসলাম মোমিন বলেন, ‘ডিসি স্যার একটা পক্ষ নিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমরা সাধারণ সভা করে নির্বাচনি কমিটি করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু তিনি দু’একজনের কথা শুনেই নজরুল ইসলাম হেলালকে রেখে কমিটি করে দিতে চাইলেন। তিনি থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই শ্রমিকেরা বাস বন্ধ করে দিয়েছেন।’

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, ‘মিটিং হলে সেখানে কথা কাটাকাটি হতেই পারে। এর জেরে বাস বন্ধ রাখা কিংবা চেম্বারে হামলা করা ঠিক হয়নি। তারা বাস চলাচলও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা মালিকপক্ষ। আমরা বলছি, বাস চলাচল করবে।’

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারের পর ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রচারের পর ভাঙনকবলিত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন ইউএনও আফরোজা আফসানা।

কালের কণ্ঠে যমুনা নদীর ভাঙনে দিশাহারা সরিষাবাড়ী মানুষ এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের পর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের নলসন্ধায় ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শন শেষে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই প্রমত্তা যমুনা নদীর জোয়ারের তীব্র ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর নলসন্ধা, ডাকাতিয়ামেন্দা, মিরকুটিয়াসহ কয়েকটি গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ। গত ১৫ দিনের টানা ভাঙনে শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বসতবাড়ী, মসজিদ, মাদরাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ নিয়ে কালের কণ্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। 

এর পরই ইউএনও আফরোজা আফসানা সরজমিনে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভাঙনের শিক্ষার স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সাথে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান সরকার তাদের পাশে আছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে দ্রুত ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল, কৃষি কর্মকর্তা অনুপ সিংহ, মৎস্য কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তলাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপি নেতা তোতা মিয়াসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে একাই লড়ছেন হেলাল

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ
নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে একাই লড়ছেন হেলাল
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার খামারগাঁও এলাকার ভাটেশ্বরী বিলে পাতা নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল উদ্ধার করছেন হেলাল। সোমবার দুপুরে তোলা। ছবি: সংগৃহীত

‘আমার কথা কেউ শোনে না, প্রশাসনও আসে না। আমার একার পক্ষে বিশাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব না। কিন্তু চোখের সামনে নদী-নালার দেশি মাছ এভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারি না।’

তীব্র ক্ষোভ আর অসহায়ত্ব নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের খামারগাঁও গ্রামের যুবক হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনই একা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান হেলাল। ঘুরে বেড়ান খাল-বিলে। কোথাও অবৈধ চায়না দুয়ারি বা রিং জাল দেখলেই প্রতিবাদ জানান। কেউ শোনেন, কেউ পাগল বলে আখ্যায়িত করেন, ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। অনেক জায়গায় লাঞ্ছিতও হতে হয় তাকে। কিন্তু দমে যান না। 

জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে নান্দাইল উপজেলার নদী, খাল-বিল এবং উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে হাজার হাজার নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ বা রিং জাল ছড়িয়ে পড়েছে। সুক্ষ্ম ফাঁসের এই রাক্ষুসে জালে রেণু থেকে শুরু করে ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা পড়ছে। এমনকি শামুক, ঝিনুক ও অন্যান্য জলজ জীবও রক্ষা পাচ্ছে না। ফলে এ অঞ্চলের দেশি মাছ এবং প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির মুখে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ জাল উচ্ছেদ ও মৎস্য সম্পদ রক্ষা করার মূল দায়িত্ব উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের হলেও, রহস্যজনকভাবে সেখানকার কর্মকর্তারা নীরব। প্রশাসনের এই উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু দেশি মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছে। 

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের এই ব্যর্থতার মুখে হতদরিদ্র যুবক হেলাল একা মাঠে নেমেছেন। তিনি নাছোড়বান্দা এবং কোনো হুমকির মুখে হাল ছাড়ার পাত্র নন। যেখানেই অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল দেখছেন, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানি থেকে সেই জাল টেনে ওপরে তুলে নিয়ে আসছেন। 

এখানেই শেষ নয়, হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন জলাশয় থেকে অবৈধ জালের হাত থেকে উদ্ধার করা ডিমওয়ালা মা মাছ ও ছোট মাছের পোনা নিজ উদ্যোগে খাল-বিল ও নদীতে অবমুক্ত করছেন। এমনকি নিজের বাড়ির ছোট ছোট পুকুরে তিনি শোল, গজার, টাকি (লাঠি মাছ) ও মলা-ঢেলাসহ বিভিন্ন বিলুপ্তপ্রায় দেশি মাছের পোনা এনে বড় করছেন, যাতে প্রাকৃতিকভাবে এসব মাছের বংশ বাড়ানো যায়। 

এদিকে, হেলালের এই ব্যতিক্রম উদ্যোগ ইতিমধ্যে ‍উপজেলার বাসিন্দাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং প্রশংসা কুড়িয়েছে। তবে এটা করতে গিয়ে তিনি পড়েছেন চরম বিপাকে। এলাকার প্রভাবশালী ও অসাধু মাছ শিকারিদের একটি চক্র তাকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। 

হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার চোখের সামনে অবৈধ চায়না দুয়ারি জাল যেভাবে পাতা হচ্ছে, তা যদি এখনই প্রতিরোধ করা না হয়, তবে আমাদের পরের প্রজন্ম আর দেশি মাছের স্বাদ পাবে না। দেশি মাছ সব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’ এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি। 

পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন দরিদ্র যুবক যেখানে নিজের খেয়ে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন, সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের এমন নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে নান্দাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহানা নাজনীন কালের কণ্ঠকে বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের লোকবলের অভাব রয়েছে। তার পরও প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু কোনো মতেই অবৈধ জালের ব্যবহার থামানো যাচ্ছে না।’

সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সাতক্ষীরার তালায় পানিতে ডুবে রুমানা খাতুন নামের ৫ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে উপজেলার ঢ্যামসাখোলা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত রুমানা খাতুন তালা উপজেলার ঢ্যামসাখোলা গ্রামের শাহিনুর রহমান মোড়লের মেয়ে।

রুমানার মা রেশমা বেগম জানান, রুমানাকে নিয়ে ছাগল চড়াতে মাঠে যায় রেশমা। বাড়ির পাশের একটি কালভার্টের ওপর রুমানাকে বসিয়ে রেখে ছাগল বাঁধতে যান তিনি। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কালভার্টের ওপর মেয়েকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে কালভার্টের নিচে পানির ওপর রুমানাকে ভাসতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ডে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু | কালের কণ্ঠ