• ই-পেপার

ধুনটে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, প্রতিমা ভাঙচুর

কেরানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি, একটি তলোয়ার, পাঁচটি চাপাতি ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে র‌্যাব-১০-এর অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি তপন সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন ভোলা সদর উপজেলার পৌরবাপ্তা এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে মো. পারভেজ (৩১) ও কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের ইসহাক বাবুর্চির ছেলে মো. সুমন হোসেন (২২)।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের পূর্ব চরাইল বালুর মাঠ এলাকায় একটি সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্যরা ডাকাতির উদ্দেশে জড়ো হয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ সদর দপ্তরের একটি আভিযানিক দল সেখানে অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে র‌্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে পারভেজ ও সুমনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি ছুরি, একটি তলোয়ার, পাঁচটি চাপাতি এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গ্রেপ্তার দুজনই একটি পেশাদার ডাকাত দলের সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

সকাল ১০টার অনুষ্ঠানে এমপি এলেন দুপুর আড়াইটায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
সকাল ১০টার অনুষ্ঠানে এমপি এলেন দুপুর আড়াইটায়
সংগৃহীত ছবি

বরিশাল সদরে এক অনুষ্ঠানে আসতে বিলম্ব করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। সকাল ১০টার অনুষ্ঠানে তিনি আসেন দুপুর আড়াইটায়। অন্যদিকে কৃষকদের সকাল ৯টার মধ্যে অনুষ্ঠানে হাজির করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করায় অনেক কৃষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকে সার-বীজ না নিয়েই বাড়ি চলে যান। 

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতানা বলেন, সার ও বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের দেওয়া সময় অনুসারে সকাল ১০টায় হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টাখানেক আগে কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি (সংসদ সদস্য) অসুস্থতার কারণে দুপুর ২টার পরে এসেছেন। এতে অনেক কৃষক অস্বস্তিবোধ করেছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম ভৌমিক বলেন, সার ও বীজ বিতরণের তালিকায় বরিশাল সদর উপজেলার ১০ ইউনিয়নের ৭০০ কৃষক রয়েছে। আজ উপজেলার ৫ ইউনিয়নের ৩৫০ জন কৃষকের মধ্যে সার ও বীজ বিতরণের কথা ছিল। প্রোগ্রাম ছিল সকাল ১০টায়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সব কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তবে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২টার পরে প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। এতে অনেক কৃষক অস্বস্তিবোধ করেছেন। 

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, রায়পাশা কড়াপুর, কাশীপুর ও চরকাউয়া ইউনিয়নের অন্তত ১০ জন কৃষক বলেন, কৃষি কর্মকর্তার কথা অনুসারে সকাল ৯টার আগেই খাবার না খেয়ে উপস্থিত হই। এমপি আসবেন বলে আমাদের ৬ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়েছে। 

এ বিষয়ে মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি বলেন, ‘অনুষ্ঠান দুপুর ১২টায় ছিল। আমি ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার কারণে এক থেকে দেড় ঘণ্টা দেরি হয়েছে। আমার দেরি হওয়ার কারণে যেসব কৃষক চলে গেছেন, তারা পরে সার-বীজ ও চারা নিতে পারবেন।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আনন্দ মিছিল
ছবি : কালের কণ্ঠ

বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির ১৬১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে নুরুল আমিনকে এবং সদস্যসচিব করা হয়েছে সাইফুল ইসলাম আব্বাসকে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভীর স্বাক্ষরে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নগরীতে আনন্দ মিছিল করেন সদর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা।

মিছিলটি নগরীর টাউন হল এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক আলহাজ নুরুল আমিন। প্রধান বক্তা ছিলেন সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম আব্বাস। যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার শিকদার, মাহাবুবুল আলম বাবুল, তুহিন পণ্ডিত, আব্দুল হক শিকদার, অ্যাডভোকেট মোখলেছুর রহমান, কাজী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন চান্দু, খোকন মুন্সীসহ অন্যান্য নেতারা।

বক্তারা বলেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে সুষ্ঠু ধারার রাজনীতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপি কাজ করে যাবে।

তারাকান্দা

কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিত

এমন অবস্থা দুই বছর ধরে  পেয়েছেন বেতন-ভাতাও

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিত
ময়মনসিংহের তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

ভাই যুবলীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা। নিজেও যুবলীগের কর্মী। কলেজের অধ্যক্ষ প্রতিমন্ত্রীর ভাইও ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ। এত ক্ষমতার পর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদে চাকরি করা কি মানায়? ফলে  কলেজে গিয়ে হাজিরা খাতায় নাম সই করেই বের হয়ে যেতেন। সারা দিন রাজনৈতিক কর্মতৎপরতায় ব্যস্ত থাকতেন।

এভাবেই চলছিলেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় অবস্থিত তারাকান্দা সরকারি ডিগ্রি কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সোহরাব আলী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু এর পরও তার দাপট কমেনি। মাঝেমধ্যে গোপনে কলেজে গিয়ে হাজিরা খাতায় অনেক দিনের স্বাক্ষর করতেন একসঙ্গে। নিয়মিত পেয়েছেন বেতন-ভাতাও।

তবে গত জানুয়ারিতে কলেজে নতুন অধ্যক্ষ যোগদানের পর থেকে বিপাকে পড়েন সোহরাব। নতুন অধ্যক্ষ প্রতিদিন কলেজ ছুটির পর হাজিরা খাতায় সোহরাবের নামের পাশে অনুপস্থিত লিখে রাখেন। ফলে একদিনে গিয়ে অনেক দিনের হাজিরা স্বাক্ষর আর করতে পারেননি সোহরাব। এতে হাজিরা খাতায় অনেক দিনের অনুপস্থিতি হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় কলেজের বেতন। পরে ‘অসুস্থতার’ সনদ দিয়ে আবারও যোগ দেন কর্মস্থলে। কিন্তু এর পরও নিয়মিত কলেজে যান না বলে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। 

একই অভিযোগ কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ সাজ্জাদ আহমেদের বিরুদ্ধে। 

তারাকান্দা উপজেলার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, কলেজের চতুর্থ শ্রেণির চাকরি করলেও সোহরাব তখনকার আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দাপুটে নেতা ছিলেন। ক্ষমতার দাপটে মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা ছিল তার নিয়মিত কাজ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখনও আন্দোলনে অংশ নেওয়া অনেককে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

তারাকান্দা উপজেলা সদরের ব্যবসাসী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাজারে মোবাইল ফোনের ব্যবসা ছিল আমার। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় ওই বছরের ১৯ জুলাই আমার দোকান লুট করার  হুমকি দেন তিনি। এরপর ভয়ে দোকান থেকে মালামাল সরিয়ে নিই।’ তিনি বলেন, কলেজের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে একাধিক রাজনৈতিক মামলার বাদী ছিলেন সোহরাব।

কলেজে না গিয়েও হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিতির অভিযোগ যাচাই করতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তারাকান্দা সরকারি কলেজে গিয়ে একাধিক কর্মচারী সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তারা জানান, ৫ আগস্টের পর মামলার আসামি হন সোহরাব। এরপর থেকে তিনি পলাতক থাকতেন। তবে মাঝে-মাঝে গোপনে কলেজে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অসাধু কর্মচারীদের সহযোগিতায় হাজিরা খাতায় অনেক দিনের স্বাক্ষর করতেন। বিষয়টি জানতে পেরেও শিক্ষকরা প্রতিবাদ করেননি। ৫ আগস্টের পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষও আত্মগোপনে ছিলেন। এ কারণে কর্মচারীদের হাজিরা খাতা নিয়মিত নজরদারি হতো না। আজ (বৃহস্পতিবার) কলেজের ২০২৫ সালের কর্মচারী হাজিরা খাতায় দেখা যায়, সোহরাব আলী প্রতিদিনের স্বাক্ষর।

কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যোগ দিই। যোগদানের আগেই জানতে পারি, এ কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবর্হিভূতভাবে অনুপস্থিত। জানুয়ারি থেকে আমি আর্থিক বিষয়ে দায়িত্ব পাই। তখন থেকে প্রতিদিন হাজিরা খাতা দেখি। এতে সোহরাব আলীর অনুপস্থিতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে তাকে খবর দিয়ে এনে কারণ জানতে চাইলে অসুস্থতার সনদ দেখান। এরপর থেকে তাকে নিয়মিত আসতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত কলেজে অবস্থান করেও সোহরাব আলীকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

তারাকান্দা সরকারি কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আগের নাম ছিল তারাকান্দা বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ। ২০২৩ সালে কলেজটি সরকারি হয়। তার আগে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষ হন সাজ্জাদ আহমেদ। তিনি ওই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের আপন ভাই। এ কারণে কেউ প্রতিবাদ করতে পারেননি। 

শিক্ষক-কর্মচারীরা আরো জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি একদিনের জন্যও কলেজে যাননি। অথচ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বেতন ও ভাতা পেয়েছেন। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির বিষয়ে অন্তত তিনটি তদন্ত হলেও এখনো তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ধুনটে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ, প্রতিমা ভাঙচুর | কালের কণ্ঠ