• ই-পেপার

বিয়ে না করেও \'স্ত্রীর\' যৌতুক মামলায় ফাঁসলেন এক কর্মকর্তা

মেয়েকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিলেন মা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
মেয়েকে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিলেন মা
সংগৃহীত ছবি

ঝালকাঠির নলছিটিতে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন এক মা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম লাকি আক্তার। তিনি নলছিটি শহরের আদম আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লাকি পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে নলছিটি ফেরিঘাট এলাকা থেকে সুগন্ধা নদীতে ঝাঁপ দেন। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন নদীতে নেমে উদ্ধার মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এতে মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ হয়।

লাকি আক্তার জানান, বিয়ের পর থেকেই তার স্বামীর সঙ্গে কলহ লেগে থাকতো। কিছুদিন আগে স্বামীকে ডিভোর্স দেন তিনি। পরে তার মেয়েকে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন স্বামী। এ কারণে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, কি কারণে লাকি নদীতে ঝাপ দিয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি নিজেই এখন দুশ্চিন্তায় ভুগছি।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মা ও শিশু বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে বাবুগঞ্জের কৃষি

সাইফুল ইসলাম, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
মালচিং পদ্ধতিতে বদলে যাচ্ছে বাবুগঞ্জের কৃষি
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার কৃষক রাকিবুলের ক্ষেতে। সম্প্রতি তোলা। -কালের কণ্ঠ

মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হিসেবে কম খরচে, কম সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় উপজেলার অনেক কৃষক এখন ঝুঁকছেন প্রযুক্তিনির্ভর এ কৃষি ব্যবস্থার দিকে। 

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিকে।

মালচিং পদ্ধতি কী 
মালচিং হলো আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির উপরিভাগ বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা বা বীজ রোপণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায়, সেচ ও সারের ব্যবহার কম হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে কমে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং বেশি ফলন পাওয়া যায়।

নতুন উদ্যেক্তা
পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন রাকিবুল ইসলাম। বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার এই তরুণ কৃষক পদ্ধতিটি অবলম্বন করে অল্প সময়ে পেয়েছেন সফলতাও। মাত্র ৪০ শতক জমিতে তিনি মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটোসহ নানা সবজির চাষ করেছেন। ভালো ফলন ছাড়াও টমেটোর চারা উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

রাকিবুল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরো বড় পরিসরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

রাকিবুল বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা খুব কম জন্মায়, ফলে আগাছা পরিষ্কারে শ্রম ও ব্যয় উভয়ই কমে। এছাড়া সারের ব্যবহার ও সেচের পানি তুলনামূলক কম লাগে। প্লাস্টিক মালচের কারণে গাছের গোড়ার মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে।’ তিনি বলেন, ‘রোদের তাপেও মাটির পানি দ্রুত শুকায় না। ফলে গাছ সব সময় প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায়, ফলনও বাড়ে। একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করাও সহজ হয়।’

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এসব জমির অধিকাংশেই শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির আবাদ করা হয়েছে। 

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলছে।

যা বলছে কৃষি বিভাগ
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং কৃষিতে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয়, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। একই সঙ্গে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে। ফলে কৃষক কম খরচে বেশি ফলন ও লাভের সুযোগ পান।

কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, বাবুগঞ্জে দিন দিন মালচিং প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আধুনিক এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উপজেলার সবজি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয়-রোজগানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।’

গোপালগঞ্জে ট্রলি-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে ট্রলি-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী নিহত, স্বামী আহত
সংগৃহীত ছবি

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ইটবোঝাই ট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তার স্বামী আহত হয়েছেন। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার ব্যাসপুর-জয়নগর আঞ্চলিক সড়কের আলী হাসান তুল্কী মাদরাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম চায়না পারভীন। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রাখালগাছি গ্রামের বাসিন্দা এবং ফরিদপুর আদালতে কর্মরত পুলিশ সদস্য চান মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ইটবোঝাই ইঞ্জিনচালিত ট্রলির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের আরোহী চায়না পারভীন সড়কে ছিটকে পড়ে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার স্বামী মোটরসাইকেলের চালক চান মিয়া আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

পানির নিচে রাঙামাটির বিলাইছড়ির অধিকাংশ এলাকা

রাঙামাটি সংবাদদাতা
পানির নিচে রাঙামাটির বিলাইছড়ির অধিকাংশ এলাকা
সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম ফারুয়া বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। শুধু ফারুয়া বাজার নয়; চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তত্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ সবকটি এলাকা এখন সম্পূর্ণ পানির নিচে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে নাজুক ও সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ফারুয়া ইউনিয়নে। ঢলের পানিতে পুরো ফারুয়া বাজার তলিয়ে গেছে। ফলে বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকানপাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বানভাসি মানুষ স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন।

রাইংক্ষ্যং নদীতে অতিরিক্ত স্রোত থাকায় উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার নৌপথটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্গত এলাকায় সরাসরি সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

যমুনাছড়ি বম পাড়ার হেডম্যান পালম বম জানান, যমুনাছড়িতে কমপক্ষে ২০ পরিবার এবং দুইটি গির্জা পানিতে তলিয়ে গিয়াছে। বন্যার পানির কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং পানি কমে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ ও বিবরণ জানা সম্ভব নয়।

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানান, অবস্থা ভয়াবহ। ভোর রাত হতে প্রবল বর্ষণে ফারুয়ার নিম্নাঞ্চলের সকল গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। চাইন্দা পাড়া, আলিখিং পাড়া, উলুছড়ি, তক্তানালা উত্তর, তক্তানালা দক্ষিন, ওরাছড়ি পুর্ব, ওরাছড়ি পশ্চিম, লত্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, এগুজ্যাছড়ি বাঙ্গালাী পাড়া, গোয়াইনছড়ি, ফারুয়া বাজার, তারাছড়ি, যমুনাছড়ি এসব পাড়াসমূহ ডুবে গিয়েছে।

পরিস্থিতির বিষয়ে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘আমরা ফারুয়াতে ত্রাণ বিতরণের জন্য গতকাল(শুক্রবার) থেকেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু নদীতে স্রোত বেশি থাকায় সেখানে সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তবে ফারুয়ার স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল ও তেল কিনে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করার চেষ্টা করছি।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন নদীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানান, পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংক্ষ্যং নদীর পানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে নদীতে স্রোত থাকায় আমরা ফারুয়াতে পৌঁছাতে পারছি না। স্রোতের বেগ কিছুটা কমলেই আমরা বড় আকারে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গতদের কাছে রওনা হব।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাদুর্গতদের জন্য বিলাইছড়িতে বর্তমানে মোট চারটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রয়েছে। যেখানে গতরাত পর্যন্ত ১৮৩ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফারুয়া ইউনিয়নে আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। ফলে সেখানে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।


 

বিয়ে না করেও \'স্ত্রীর\' যৌতুক মামলায় ফাঁসলেন এক কর্মকর্তা | কালের কণ্ঠ