মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায়। পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হিসেবে কম খরচে, কম সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় উপজেলার অনেক কৃষক এখন ঝুঁকছেন প্রযুক্তিনির্ভর এ কৃষি ব্যবস্থার দিকে।
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ ও বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে মালচিং পদ্ধতিকে।
মালচিং পদ্ধতি কী
মালচিং হলো আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির উপরিভাগ বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা বা বীজ রোপণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে মাটির আর্দ্রতা বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায়, সেচ ও সারের ব্যবহার কম হয় এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে কমে। ফলে উৎপাদন খরচ কমে এবং বেশি ফলন পাওয়া যায়।
নতুন উদ্যেক্তা
পড়াশোনার পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে সমন্বিত কৃষি প্রকল্প গড়ে তুলেছেন রাকিবুল ইসলাম। বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার এই তরুণ কৃষক পদ্ধতিটি অবলম্বন করে অল্প সময়ে পেয়েছেন সফলতাও। মাত্র ৪০ শতক জমিতে তিনি মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটোসহ নানা সবজির চাষ করেছেন। ভালো ফলন ছাড়াও টমেটোর চারা উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।
রাকিবুল জানান, চলতি মৌসুমে তিনি চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভের পরিমাণও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরো বড় পরিসরে মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
রাকিবুল বলেন, ‘মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা খুব কম জন্মায়, ফলে আগাছা পরিষ্কারে শ্রম ও ব্যয় উভয়ই কমে। এছাড়া সারের ব্যবহার ও সেচের পানি তুলনামূলক কম লাগে। প্লাস্টিক মালচের কারণে গাছের গোড়ার মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে।’ তিনি বলেন, ‘রোদের তাপেও মাটির পানি দ্রুত শুকায় না। ফলে গাছ সব সময় প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায়, ফলনও বাড়ে। একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করাও সহজ হয়।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। এসব জমির অধিকাংশেই শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির আবাদ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে তুলছে।
যা বলছে কৃষি বিভাগ
বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং কৃষিতে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয়, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে। একই সঙ্গে সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে। ফলে কৃষক কম খরচে বেশি ফলন ও লাভের সুযোগ পান।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, বাবুগঞ্জে দিন দিন মালচিং প্রযুক্তির প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আধুনিক এ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে উপজেলার সবজি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আয়-রোজগানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আমরা আশাবাদী।’