• ই-পেপার

কুষ্টিয়ার ডিসির বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ

ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট, ব্যাংকে কোটি টাকা

বিএসএফের ‘পুশ ইন’ রুখে দিতে বিজিবির পাশে মহেশপুরবাসী

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
বিএসএফের ‘পুশ ইন’ রুখে দিতে বিজিবির পাশে মহেশপুরবাসী
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের (জোরপূর্বক সীমান্ত পারাপার) একাধিক অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সেখানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আর এই সুরক্ষাকে আরো শক্তিশালী করতে বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সীমান্তের সাধারণ মানুষ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ। ফলে বিএসএফের একের পর এক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই সীমান্তে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে পারেনি।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে মোট ১২টি বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) রয়েছে। মহেশপুরের সঙ্গে ভারতের মোট ৭৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার ৬৮ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও, যাদবপুর ও মাটিলা বিওপি সংলগ্ন প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা সম্পূর্ণ বেড়াহীন। মূলত এই অরক্ষিত ১০ কিলোমিটার সীমান্তকেই পুশ-ইনের জন্য বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ। এর মধ্যে যাদবপুর, সামন্তা, মাটিলা ও বাঘাডাঙ্গাসহ অন্তত পাঁচটি বিওপি এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ থেকে জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতের আঁধারে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন বাতি নিভিয়ে দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা চালাচ্ছে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে বারবার ভেস্তে যাচ্ছে তাদের সেই অপকৌশল।

গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, ‘কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে ভারতের তৈরি সড়কে গত এক সপ্তাহে বড় বড় কিছু গাড়ি আসতে দেখেছি, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বড় বড় গাড়িতে করে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন ধরে এনে কাঁটাতারের গেট খুলে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএসএফ।’ তবে গ্রামবাসী ও বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে গত কয়েকদিনে অন্তত পাঁচটি পুশ-ইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি জানান।

পাখরাইল গ্রামের বাসিন্দা বিপুল হোসেন বলেন, ‘বিএসএফ কাঁটাতারের গেট খুলে লোক ঠেলে পাঠানোর পাঁয়তারা করছে। কিন্তু তাদের এই অপচেষ্টা রুখতে আমরা এলাকাবাসী দিন-রাত বিজিবির পাশে আছি।" সীমান্তের কোথাও সন্দেহজনক কিছু দেখলেই গ্রামবাসী শোরগোল শুরু করছেন, মাইকিং করছেন এবং শক্তিশালী টর্চ লাইটের আলো ফেলে বিএসএফের চক্রান্ত ভ-ুল করে দিচ্ছেন।’

মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক (সিইও) লে. কর্নেল মো. রফিকুল আলম গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে এখন পর্যন্ত তাদের সীমান্ত এলাকায় কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। "কয়েকবার পুশ-ইনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে আমাদের বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে আমাদের সব ধরনের রিসোর্স ও জনবল কাজে লাগানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশের সীমান্ত পাহারা কেবল বিজিবির একার দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নেই। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ, আনসার সদস্য এবং গ্রাম পুলিশও গভীর দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সৈনিকদের সঙ্গে রাতের টহলে যোগ দিচ্ছেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বিজিবি এক ইঞ্চি মাটিও ছাড় দেবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’

লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
লাকসামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে নিষিদ্ধঘোষিত যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে গ্রেপ্তারদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার আজগরা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও একই ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের মো. আনু মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৫) এবং উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একই ইউনিয়নের ছিলইন গ্রামের মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. সাজ্জাদ হোসেন।

লাকসাম থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার সময় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদেরকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী।

পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি ৪৮ দেশের পতাকায় বিশ্বকাপের আমেজ

মেনহাজুল ইসলাম
পার্বতীপুরে শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি ৪৮ দেশের পতাকায় বিশ্বকাপের আমেজ
সংগৃহীত ছবি

ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে যখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সেই আমেজ ছুঁয়ে গেছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের একটি বিদ্যালয়েও। শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দেশের জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে বালিকা বিদ্যাপীঠ উচ্চ বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। পতাকার রঙে-রঙে সেজে ওঠা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ যেন হয়ে উঠেছে বিশ্বকাপের ক্ষুদে মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পতাকা প্রদর্শনীর পাশাপাশি ক্রীড়াভিত্তিক কুইজ ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা বিদ্যালয় চত্বরে প্রদর্শনের জন্য সাজিয়ে রাখা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেওয়া দেশগুলোর পরিচিতি, জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরে পরিশ্রম করে শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরি করে।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়ী জান্নাত বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক হলেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দেশের পতাকা তৈরির কাজে অংশ নিয়েছি। এতে বিভিন্ন দেশের নাম ও তাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে জানার সুযোগ হয়েছে।’

একই শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া বলেন, ‘আমি ব্রাজিল দলের সমর্থক। কয়েকটি দেশের পতাকা তৈরি করেছি। তবে মেক্সিকোর পতাকা বানানো তুলনামূলকভাবে কঠিন ছিল।’

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘একসঙ্গে এতগুলো দেশের জাতীয় পতাকা আগে কখনো দেখিনি। এই আয়োজন আমাদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি শিক্ষণীয়ও। ভবিষ্যতে বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে—এটাই আমাদের স্বপ্ন।’

বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক রুখসানা খাতুন জানান, পতাকা প্রদর্শনীর পাশাপাশি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা ফুটবল বিশ্বকাপ ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে এই আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা, সংস্কৃতি ও পরিচিতি সম্পর্কে জানতে পারছে। পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিও তাদের আগ্রহ বাড়ছে।’

বিশ্বকাপকে ঘিরে বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ায় উদ্যোগটি প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। বিশ্বকাপের উন্মাদনাকে জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার সঙ্গে যুক্ত করার এমন আয়োজন এলাকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি, পুরোহিত হাসপাতালে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারি, পুরোহিত হাসপাতালে
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত অবস্থায় মন্দিরের পুরোহিত বিমল চক্রবর্তীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের উত্তর চরপাতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। আহত বিমল চক্রবর্তী চরপাতা ইউনিয়নের গোপাল গিরিধারী মন্দিরের পুরোহিত। 

জানা গেছে, মন্দিরের জমিদাতা শচিবালা দাস ছিলেন নিঃসন্তান। জীবদ্দশায় তিনি কাজল দাসদের কাছে সাড়ে ৫১ শতাংশ জমি বিক্রি করেন। এ ছাড়া মন্দিরের জন্য সোয়া ৮ শতাংশ জমি দেবোত্তর করে দিয়ে যান। তার মৃত্যুর পরও সাড়ে ৭ শতাংশ জমি রয়ে যায়। এতে ওই জমিতে তার সমাধি রয়েছে। বাকি অংশে শিব মন্দির স্থাপনের উদ্যোগে নেওয়া হয়। এরমধ্যে জমি দাবি করে কাজল ১৪৪ ধারা মামলা করে। ওই মামলা আদালত খারিজ করে দেন। সেখানে পরে শিবের মূর্তি বসানোসহ কর্মযজ্ঞ শুরু করলে ফের কাজলরা বাধা দেয়। এসব নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কাজল পুরোহিত বিমলের ওপর হামলা করে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় মন্দিরের পুরোহিত বিমলের নাক ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

মন্দির কমিটির উপদেষ্টা পলাশ দাস বলেন, ‘মন্দিরের জমি কাজল নিজের দাবি করে একের পর এক মামলা ও ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। মন্দির স্থাপনে সে বাধা প্রদান করে আসছে। সবশেষ হামলা চালিয়ে তিনি আমাদেরকে মারধর করে। পুরোহিতকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’ 

কাজল দাসের স্ত্রী পপি দাস বলেন, ‘সচিবালা দাস থেকে আমরা ৫১ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই জমিতে গিরিধারী মন্দিরের লোকজন রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক শিবমন্দির স্থাপন করে। এটি তাদের শয়তানি। এতে বাধা দেওয়ায় তারা লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। আমার স্বামীকে মারার জন্য তারা ওই পেতে রয়েছে। 

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। জমি নিয়ে আদালতে মামলা আছে বলেও শুনেছি। এ নিয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধান করা হবে। 

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, ‘জমি নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি।’

ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট, ব্যাংকে কোটি টাকা | কালের কণ্ঠ