• ই-পেপার

গাজীপুরে সাড়ে ৫ বছরের শিশুকে নিপীড়ন

  • আটক ১৬ বছরের মামা

থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
থানার গ্রিল ভেঙে পালানো নারী আসামি গ্রেপ্তার

মাদারীপুর সদর মডেল থানার একটি কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী আসামিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) ভোরে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা বেগম (৩৫)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং সদর উপজেলার কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ হাসিনা বেগমকে আটক করেন। পরে তাঁকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নেওয়া হয়। থানার মূল ভবন নির্মাণাধীন থাকায় বর্তমানে ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার কার্যক্রম চলছে। সেখানে আসামিদের জন্য কোনো হাজতখানা না থাকায় বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল হাসিনাকে। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে তিনি ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান।

এরপর হাসিনাকে ফের আটক করতে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান। শুক্রবার রাতে পুলিশ জানতে পারে, পালিয়ে গিয়ে হাসিনা ঢাকায় অবস্থান করছেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর সদর মডেল থানার একটি দল কেরানীগঞ্জে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় আনা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসিনা বেগম পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এসআই রমজান আলীসহ দুজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করেছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
গ্রেপ্তার আলী আকবর ও মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল (বাঁ দিক থেকে)। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে মেয়ের সামনে নুরুল আজিম প্রকাশ আজম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফাপাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে আলী আকবর (৫৫) এবং একই এলাকার সিকদার বাড়ির মৃত লাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল (৩০)।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের খলিফাপাড়ায় বাড়ির পাশের একটি জমিতে মাছ ধরতে যান নুরুল আজিম প্রকাশ আজম। এ সময় পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় আজমের মেয়েও সেখানে উপস্থিত ছিল।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজু আক্তার বাদী হয়ে হাটহাজারী মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি মো. দিদারুল আলম (৪৫)। অপর আসামিরা হলেন আলী আকবর, মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল এবং সাইফ (২০)।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

দিনাজপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৪ বাংলাদেশি

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা, শূন্যরেখায় ৪ বাংলাদেশি
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের সদর উপজেলার দাইনুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় এক নারীসহ চার বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির বাধায় শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিজিবি জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের আকিরাপুর দাইনুর সীমান্তের ৩১৫ নম্বর মেইন পিলারের কাছ দিয়ে এক নারীসহ চারজন বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের বাধা দেন। পরে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

বর্তমানে চারজনকে দাইনুর বিওপির শূন্যরেখায় রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। পুরুষদের একজন প্রতিবন্ধী বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির তথ্য মতে, আটক চারজনই বাংলাদেশি নাগরিক। তারা হলেন খুলনা সদর উপজেলার দৌলতপুর কারিকরপাড়া এলাকার মাসুদ মোল্লার ছেলে বাবুল মোল্লা (৫০), তার স্ত্রী মোছা. সুখী মোল্লা (৩৫), তাদের ছেলে মোহাম্মদ জিহাদ মোল্লা (১৫) এবং নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পাঁচকামনে গ্রামের মৃত তোরাব মোল্লার ছেলে গণি মোল্লা (৩৫)।

বিজিবির একটি সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে কাজের সন্ধানে এই চারজন ভারতে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজন এবং অন্য পরিবারের একজন ছিলেন। পরে দেশে ফেরার সময় ভারতীয় পুলিশের হাতে তারা আটক হন এবং সেখানে প্রায় দুই মাস কারাভোগ করেন।

ফুলবাড়ী ২৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফ-উজ-জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চারজনকে ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের জন্য পত্র পাঠানো হয়েছে। বিএসএফের সাড়া পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কামড়ের পর হাসপাতালে মৃত সাপ নিয়ে হাজির রোগী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
কামড়ের পর হাসপাতালে মৃত সাপ নিয়ে হাজির রোগী
ছবি : কালের কণ্ঠ

পঞ্চগড়ে একই দিনে পৃথক দুই ঘটনায় সাপের কামড়ে আহত হন দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসা নিতে আসার সময় সঙ্গে নিয়ে আসেন তাকে কামড় দেওয়া সাপটিও। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমন ঘটনা ঘটে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক এন্টিভেনাম দেন। অন্যদিকে একই দিন পাটক্ষেতে কাজ করার সময় সাপের কামড়ে আহত আরেক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

সাপে কাটা রোগীরা হলেন আটোয়ারী উপজেলার চুচুলী বটতলী এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৬) এবং বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে উমর ফারুক (২০)।

পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিজ বাড়ির খড়ির ঘরে কাজ করার সময় নজরুল ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে স্বজনরা সাপটি মেরে সেটি সঙ্গে নিয়েই বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সাপটি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে কোবরা সাপ বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে বিষধর বলে নিশ্চিত হয়ে তাকে তাৎক্ষণিক অ্যান্টিভেনাম দেন। 

একই দিন দুপুরে বোদা উপজেলার একটি পাটক্ষেতে পাট কাটার সময় উমর ফারুক সাপের কামড়ে আহত হন। পরে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর বলেন, শনিবার সাপে কাটা দুজন রোগী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে বিষধর সাপ কামড় দিয়েছিল। তাই তাকে অ্যান্টিভেনাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। অপর রোগী উমর ফারুককে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গাজীপুরে সাড়ে ৫ বছরের শিশুকে নিপীড়ন | কালের কণ্ঠ