দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ড্রেন উদ্বোধনের মাত্র ৭ দিনের মাথায় ধসে পড়েছে। এতে আবারও জলাবদ্ধতায় পড়ে বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের কারণেই ড্রেনটি এত দ্রুত ধসে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের (বিবিজি বিশেষ কিস্তি) আওতায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা দূর করা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ড্রেনটির একাধিক অংশ ধসে পড়েছে। কোথাও দেয়াল ভেঙে পাশের দিকে হেলে পড়েছে, আবার কোথাও বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ড্রেনের মুখে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বৃষ্টির পানি আটকে আশপাশের বিল ও কৃষিজমিতে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় রড ও পিলার ব্যবহার না করেই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করায় সামান্য বৃষ্টির পানির চাপেই ড্রেনটি ধসে পড়ে।
কৃষক লুতফর রহমান বলেন, ‘বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হলেও মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই সেটি ভেঙে গেছে। এখন জমিতে পানি জমে থাকায় চাষাবাদ করতে পারছি না।
আরেক কৃষক মোজাহার হোসেন বলেন, ‘এ এলাকার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির পানি এই ড্রেন দিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ড্রেন ভেঙে যাওয়ায় কৃষকরা আবারো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণকাজে যুক্ত এক শ্রমিকের দাবি, কাজের সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিজেই উপস্থিত থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তাঁর মালিকানাধীন ইটভাটার ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লা বলেন, ‘নির্মাণসামগ্রীর কোনো ঘাটতি ছিল না। মিস্ত্রির কাজের ত্রুটি থাকতে পারে। যেহেতু ড্রেনটি ভেঙে গেছে, দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিরুপমা রায় বলেন, ‘ড্রেন ধসে পড়ার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ড্রেনটি পুনর্র্নিমাণ বা মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’





