• ই-পেপার

সিরাজগঞ্জ

বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, চতুর্থ দফায় বাড়ছে যমুনার পানি

বগুড়ায় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিসের চালক নিহত

প্রতিনিধি, বগুড়া
বগুড়ায় ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংঘর্ষে কুরিয়ার সার্ভিসের চালক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

বগুড়ায় একটি মালবাহী ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়া-নাটোর মহাসড়কের কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সালাম (৩৫) রংপুর সদর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত রুকু মিয়ার ছেলে। তিনি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ‘স্টেডফাস্ট’-এর একটি কাভার্ডভ্যানের চালক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নাটোরগামী স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা বগুড়াগামী একটি মালবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কাভার্ডভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক আব্দুস সালামের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যানে থাকা বিভিন্ন কুরিয়ার পণ্য মহাসড়কে ছড়িয়ে পড়ে।

কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

শাহজাদপুর

খেলা দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি, রাস্তার পাশে মিলল যুবকের মরদেহ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
খেলা দেখতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেনি, রাস্তার পাশে মিলল যুবকের মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর সবুজ (৩৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হাসাকোলা গ্রামে একটি রাস্তার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত সবুজ উপজেলার রতনকান্দি উত্তরপাড়ার রহিম সরকারের ছেলে।

নিহতের স্ত্রী মিতু জানান, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে ফুটবল খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সবুজ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাননি। শুক্রবার সকালে মরদেহ উদ্ধারের কথা শুনে ঘটনাস্থলে পৌছে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন।

 

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত সবুজের শরীর ও চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতির ৬টি মামলা রয়েছে। কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মহদের উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

রাজনগরে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
রাজনগরে বন্যার পানিতে ডুবে প্রাণ গেল বৃদ্ধের
প্রতীকী ছবি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় চলমান বন্যার পানিতে ডুবে মো. আশরফ আলী ওরফে আশই মিয়া (৭০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ভাঙারহাট-আকুয়া এলাকায় রিং বাঁধের পাশে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। আশরফ আলী আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত কয়েক দিন ধরে এলাকাটি প্লাবিত হয়ে আছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা বন্যার পানির স্রোতে কোনো এক সময় অসাবধানতাবশত তিনি তলিয়ে যান। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা রিং বাঁধের পাশে মরদেহ ভাসতে দেখে নিহতের স্বজনদের খবর দেন। পরবর্তীতে নিহতের ছেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা মরদেহটি উদ্ধার করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পুরো আকুয়া গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে রাজনগরের আকুয়া এলাকায় মনু নদীর বাঁধের একটি বড় অংশ আকস্মিক ভেঙে যায়। তীব্র স্রোতে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যায় বেশ কয়েকটি গ্রাম। ওই সময় রাতে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে নিখোঁজ হন বৃদ্ধ আশরাফ আলী। এরপর শুক্রবার সকালে আকুয়া গ্রামে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মতিন মিয়া বলেন, ‘আশরাফ আলীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এলাকাটি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং ও প্রচার করছি। নিহতের পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করব।’

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগরে মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর, হরিপাশা এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে মনু নদী প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের সৃষ্টি হলে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের কয়েক হাজার  মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

টেংরা ইউনিয়নের প্লাবিত গ্রামগুলো হলো উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহীমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল, পন্ডিতনগর। এ ছাড়াও বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গনেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর, ভাঙ্গারহাট এলাকার লোকজন। আকস্মিক এ বন্যায় প্লাবিত এলাকার দুর্গত মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছে রাজনগর উপজেলা প্রশাসন। প্লাবিত এসব এলাকায় খাবার পানি, গোখাদ্যসহ নানা সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার কিছু লোকজন মনু প্রতিরক্ষা বাঁধের উঁচু জাগায় আবার অনেকে পার্শ্ববর্তী আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় জননিরাপত্তার স্বার্থে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

কুমিল্লা থেকে কুরিয়ারে ১৬ হাজার ট্যাপেন্টাডল রংপুরে, আটক ২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
কুমিল্লা থেকে কুরিয়ারে ১৬ হাজার ট্যাপেন্টাডল রংপুরে, আটক ২
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে কুরিয়ার সার্ভিসের একটি পার্সেল থেকে ১৬ হাজার পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই ওষুধ কম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- শরীফ ফার্মাসিউটিক্যালসের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি সাগর। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুর কার্যালয় জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর থেকে নগরীর আর কে রোড এলাকার আইডিয়াল মোড়ে স্টেড-ফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে নজরদারি চালানো হয়। প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি সন্দেহভাজন পার্সেল পরীক্ষার পর ১৬ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মাদক সরবরাহ চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কুমিল্লা থেকে পাঠানো এ চালানের মূল নেটওয়ার্ক শনাক্তে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল সরবরাহকারী ও পুরো নেটওয়ার্ককে শনাক্তে তদন্ত চলছে। কুমিল্লা থেকে চালানটি পাঠানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, চতুর্থ দফায় বাড়ছে যমুনার পানি | কালের কণ্ঠ