• ই-পেপার

এবার মাশরাফির বাবা-মা, মামি, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

রৌমারীতে সেতু আছে, নেই সংযোগ সড়ক

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
রৌমারীতে সেতু আছে, নেই সংযোগ সড়ক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার যাদুরচর ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি গ্রাম সংলগ্ন খালের ওপর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয়দের কোনো কাজে আসছে না। বৃষ্টিতে সেতুর দুই পাশ কাদায় পরিণত হওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণ করে। লটারির মাধ্যমে কাজ পায় জামালপুরের এমইএম এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. সামসুদ্দিন দিলিপ। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১১ কোটি টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর মূল নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়কে প্রয়োজনীয় মাটি ভরাট করা হয়নি। একই সঙ্গে সেতুর দুই প্রান্তে রিটার্নিং ওয়াল নির্মাণ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ দেখিয়ে চলে যায়। এতে বৃষ্টিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. এমদাদ হোসেন বলেন, ‘সেতুর কাজ শেষ হলেও সড়কের কাজ বাকি রয়েছে। বৃষ্টির পানিতে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কোনো যানবাহন চলতে পারছে না। পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। দ্রুত মাটি ভরাটের কাজ শেষ করলে সমস্যার সমাধান হবে।’

আরেক বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ১১ কোটি টাকা খরচ করে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি সেটি ব্যবহারই করতে না পারি, তাহলে এত টাকা খরচ করে লাভ কী? গত সপ্তাহে এক বৃদ্ধ গর্তে পড়ে পা ও কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।’

রৌমারী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জমির মালিকদের সঙ্গে জটিলতার কারণে সেতুর দুই পাশে রিটার্নিং ওয়ালের কাজ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘সমস্যার বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

পঞ্চগড়ে বজ্রাঘাতে ২ কৃষকের মৃত্যু

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে বজ্রাঘাতে ২ কৃষকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। 

মৃতরা হলেন, মামুন ইসলাম (৩০) ও আকাব্বর খান (৫০)। মামুনের বাড়ি উপজেলার সোনাহার মল্লিকাদহ ইউনিয়নের মালচন্ডী এলাকায় এবং আকাব্বর খানের বাড়ি দন্ডপাল ইউনিয়নের শিমুলতলী এলাকায়।

স্থানীয়রা জানায়, দুপুরে পাট কাটার কাজ করার সময় ভারি বর্ষণের সঙ্গে বজ্রপাত হলে মামুন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই আকাব্বর খান মারা যান।

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুসা মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি অপমৃত্যু মামলা হবে।

সাপের কামড়ে কবিরাজের শরণাপন্ন, প্রাণ গেল বৃদ্ধের

রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
সাপের কামড়ে কবিরাজের শরণাপন্ন, প্রাণ গেল বৃদ্ধের
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে আব্দুল মোতালেব (৬৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। সাপে কাটার পর তাকে প্রথমে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মরিচাকান্দি জালচিরা বাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ওই এলাকার মৃত কেতু শেখের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রাতে বাড়ি ফেরার পথে নিজবাড়ির অদূরে অন্ধকার রাস্তায় হাঁটার সময় একটি বিষধর সাপ তাকে কামড় দেয়। প্রথমে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে বাড়িতে চলে যান। কিছুক্ষণ পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। এরপর তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। কিন্তু অবস্থার আরো অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিরন মো. ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাপে কাটার পর ওই ব্যক্তিকে প্রথমে গ্রাম্য কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করানো হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।’

তিস্তার তীব্র স্রোতে ভাঙল নতুন তীর সংরক্ষণ বাঁধ, পানিবন্দি ২ হাজার পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
তিস্তার তীব্র স্রোতে ভাঙল নতুন তীর সংরক্ষণ বাঁধ, পানিবন্দি ২ হাজার পরিবার
ছবি: কালের কণ্ঠ

তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে রংপুরের গঙ্গাচড়া ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে। ভেঙে গেছে কয়েকটি বসতবাড়ি নতুন করে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের নরশিং ও তালপট্টি এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের উত্তর হাজীপাড়া, পশ্চিম হাজীপাড়া, পূর্ব হাজীপাড়া ও হরিণচড়া এলাকার হাজারো মানুষ বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল হারিয়েছেন। দীর্ঘদিনের দাবির পর চলতি বছর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করে। নতুন বাঁধ নির্মাণে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নির্মিত তীর সংরক্ষণ কাজের প্রায় ১৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। একই সঙ্গে কয়েকটি বসতবাড়ি ভেঙে পড়ে, হাজারের বেশি বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যায়।

বুধবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, লালমনিরহাটের আদর্শপাড়া থেকে গঙ্গাচড়ার তালপট্টি হয়ে নরশিং পর্যন্ত নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিন ধরে তিস্তার পানি দ্রুত ওঠানামা করছে। আকস্মিক বন্যা, তীব্র স্রোত ও হঠাৎ পানি নেমে যাওয়ায় নদীর তীরজুড়ে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় দুই হাজার পরিবারের বসতভিটা, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হুমকির মুখে পড়েছে।

তালপট্টি গ্রামের বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ভেবেছিলাম এবার আর ভাঙন হবে না। কিন্তু কয়েক মাসও টিকল না। চোখের সামনে নতুন বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার আগের মতো ঘরবাড়ি হারানোর ভয় ফিরে এসেছে।’

নরশিং এলাকার কৃষক খয়বর আলী বলেন, ‘আগে বাঁধ ছিল না, তখনও ভয় ছিল। এখন বাঁধ থাকার পরও ভয় হচ্ছে। সরকারের এত টাকার বাঁধ যদি স্বল্প মেয়াদের বন্যাতেই ভেঙে যায়, তাহলে আমাদের কী লাভ হলো? শুধু জিও ব্যাগ ফেললে হবে না, স্থায়ী ও টেকসই ব্যবস্থা নিতে হবে।’
 
হরিণচড়া গ্রামের সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিনের ভাঙনে এখন দেখি বাঁধও বিলীন হতে চলেছে। রাতে ঘুমাতে পারি না। মনে হয় কখন ঘরটাও নদীতে চলে যায়। শুরুতেই দ্রুত ব্যবস্থা নিলে হয়তো এত ক্ষতি হতো না। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক না ফেললে পুরো বাঁধ নদীতে চলে যাবে।’

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘নদীতে পানির ওঠানামার কারণে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে ছয় হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরো জিও ব্যাগ ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ০৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে। একই সময়ে কাউনিয়ার তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানিপ্রবাহ ছিল বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচে। তবে পানি কিছুটা কমলেও তীব্র স্রোত ও অব্যাহত ভাঙনে নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ কাটেনি। স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগের সাময়িক ব্যবস্থা নয়, তিস্তার তীর রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে প্রতি বর্ষায় ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় তাদের দিন কাটাতে না হয়।

এবার মাশরাফির বাবা-মা, মামি, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত | কালের কণ্ঠ