• ই-পেপার

শীতলক্ষ্যায় জাহাজের ধাক্কায় বাল্কহেড ডুবি, চালক নিহত

কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি, বন্যার শঙ্কা
ছবি: কালের কণ্ঠ

উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে সব নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এসব নদ-নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। কোথাও সবজি ক্ষেত ও পাট ডুবে যা‌চ্ছে। দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়ে ভাঙন তীব্র আকারে দেখা দিয়েছে। জেলার সব নদ-নদীর পানি বেড়ে তিস্তা-দুধকুমারে স্বল্পমেয়াদী বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কু‌ড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, উজানের ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা নদীর পানি তালুকশিমুলবাড়ি পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১ দশমিক ০৯ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদী কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, উজানের ঢলে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতলে বাড়ছে। এসব নদ-নদীর পানি সমতলে বেড়ে তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

রাজারহা‌টের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। তবে সোমবার রাত থেকে নদীর পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে চর বিদ্যানন্দ, চর তৈয়বখাঁসহ আশপাশের এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। সোমবার মাত্র ৫০টি পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।’

চর তৈয়বখাঁর কৃষক তোফায়েল হো‌সেন বলেন, ‘এর আগের দফায় তিস্তার পানি বেড়ে আমার মরিচক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখনও অনেক জমিতে পানি জমে আছে। এরই মধ্যে সোমবার রাত থেকে আবারও নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট ফসলও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘উজানের ঢলে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন মোকাবেলায় অতিঝুঁকিপূর্ণ ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি দুই কিলোমিটারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

মিরসরাই

দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে দুর্বৃত্তের হামলা, চালক নিহত

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে দুর্বৃত্তের হামলা, চালক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় এলাকার ফারদিন মডেল পাম্পের সামনে পার্কিং করা লরি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত লরি চালক জামাল উদ্দিন (৫৬) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর আইচা এলাকার মৃত মুনাফ বেপারীর ছেলে।

লরি চালকের সহকারী বেলাল হোসেন জানান, ভোর ৩টার দিকে সিলেটের শেরপুর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে পণ্যবোঝাই লরিটি রওনা দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উজানিসার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে সরু সড়কের কারণে গাড়ির গতি কমে যায়। এসময় ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লরিতে হামলা চালায়। তারা প্রথমে লরির সামনের গ্লাস ভাঙচুর করে এবং পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালক জামাল উদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

তিনি আরো জানান, তিনি গুরুতর আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় লরি চালিয়ে ফেনী পর্যন্ত পৌঁছান। কিন্তু অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শেষপর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। পরে বিষয়টি অন্য চালকদের জানিয়ে লরিটি মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের ফারদিন মডেল পাম্প এলাকায় নিয়ে আসেন।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লরি থেকে চালকের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতের পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আওতাধীন এলাকায় সংঘটিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানা মামলাসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করবে।’

বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, বন্যার আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
বিপৎসীমার উপরে তিস্তার পানি, বন্যার আশঙ্কা
সংগৃহীত ছবি

টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। টানা ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি বিপৎসীমার উপরে থাকায় চতুর্থবারের মতো বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণকেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী দুদিন রংপুর বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে নদীভাঙন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাউবো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং পর্যাপ্ত বালির বস্তা ও জিও ব্যাগ মজুদ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা

অনলাইন ডেস্ক
নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকায় পদ হারালেন জামায়াত নেতা
সংগৃহীত ছবি

মহিলা কলেজে শিক্ষকতা করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে তার সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক‌ নির্বাচিত হয়েছেন।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন।

জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পুরুষ সদস্য কর্মরত থাকলে দলের সদস্য (রুকন) হিসেবে তিনি দায়িত্বশীল কোনো পদে থাকতে পারবেন না। এই সাংগঠনিক নীতির আলোকেই কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এতে বলা হয়, সোমবার (১৩ জুলাই) অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এনামুল হককে নতুন জেলা সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পদ হারানোর বিষয়ে সদ্যঃসাবেক জেলা সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দার জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত রুকনরা দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। সারা দেশের জন্য এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সে কারণেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের এই সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।’

তিনি জানান, জেলা সেক্রেটারি হওয়ার আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তখন গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধানটি শিথিল ছিল এবং দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা ছিল না। ভবিষ্যতে চাকরি ছেড়ে দিলে আবারও সাংগঠনিক দায়িত্বে তাকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুধু কুষ্টিয়ায় নয়, সারা দেশে নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাতজন দায়িত্বশীল নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাদের শূন্যস্থান পূরণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে নতুন দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করা হচ্ছে।

নবনিযুক্ত জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, ‘জেলা কর্মপরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।’

শীতলক্ষ্যায় জাহাজের ধাক্কায় বাল্কহেড ডুবি, চালক নিহত | কালের কণ্ঠ